নগরীতে ভাইদের হাতে ভাই খুন নগরীতে ভাইদের হাতে ভাই খুন - ajkerparibartan.com
নগরীতে ভাইদের হাতে ভাই খুন

1:00 am , February 9, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে পৈত্রিক সম্পত্তিতে থাকা মাত্র তিন হাজার টাকা ভাড়ার ষ্টল নিয়ে দ্বন্দ্বে আপন ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অপর তিন ভাই ও এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর বগুরা রোড শীতলাখোলা এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত এক সন্তানের জনক মো. ফরিদ হোসেন (৪৫) ওই এলাকার জেসমিন ভিলার বাসিন্দা মৃত এমএ মজিদ খানের ছেলে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া পলাতক রয়েছে। আটককৃতরা হল- নিহতের আপন ভাই মো. শাহে আলম খান, মফিজুল ইসলাম খান নান্নু ও তার ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম খান। নিহতের অপর ভাই জিয়াউর রহমান খান জানান, ‘তারা ১০ ভাই ও ৩ বোন। এদের মধ্যে মো. ফরিদ হোসেন খান তাদের বাড়ির সামনে থাকা ষ্টল ভাড়া দিয়েছে। সেখানে বর্তমানে কাতার থাই এ্যালমুনিয়াম ফেব্রিকেটর নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি স্টলের ভাড়া নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে ষ্টলের ভাড়াটিয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দা কাজাজ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজাজের কাছে স্টলের ভাড়া আনতে যায় ফরিদ হোসেন। এ নিয়ে দোকানের ভাড়াটিয়া কাজাজের সঙ্গে ফরিদের কথা কাটাকাটি হয়। তখন কাজাজ ফরিদের অপর ভাই মো. শাহ আলম খান, মফিজুল ইসলাম খান নান্নু, মজিবর রহমান ও ভাতিজা সিয়ামকে ডেকে নেয়। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহ আলম, মফিজুল ইসলাম খান নান্না, মজিবর রহমান, সিয়াম এবং ষ্টলের ভাড়াটিয়া কাজাজ ফরিদ হোসেন এর উপর হামলা করে। এ সময় তারা লোহার পাইপ ও ইট দিয়ে পিটিয়ে ফরিদকে গুরুতর আহত করে। বাধা দিতে গেলে তার অপর ভাই জিয়াউর রহমানকেও মারধর করে অন্য ভাইয়েরা। এতে গুরুতর আহত ফরিদ হোসেনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মো. ফরিদ হোসেন এর স্ত্রী রোজী আক্তার জানান, তার স্বামী কম লেখাপড়া জানা এবং অসহায় প্রকৃতির হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকেই ভাই শাহ আলম খান নান্না তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে। এর আগেও বিভিন্ন সময় তাদের অধিকারের বিভিন্ন বিষয় ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। যে স্টল এর ভাড়া নিয়ে তার স্বামী খুন হয়েছে ওই স্টলটির ভাড়া নিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার স্থানীয় কাউন্সিলর ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ মিমাংশা করেছেন। সে সময় স্টলের ৩ হাজার টাকা ভাড়া তার স্বামীকে নেয়ার জন্য মিমাংশা করে দেয়া হয়। রোজী আক্তারের এই কথার সত্যতা স্বীকার করেছেন স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতাও। মীমাংশার পরেও ওই স্টলের ভাড়াটিয়া কাজাজ ও তার ভাসুর শাহ আলম ফের স্টলের ৩ হাজার টাকা ভাড়া তাদের দাবী করে দ্বন্দ্ব তৈরি করে এবং তার চোখের সামনে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে স্বামীকে। তার এখন একমাত্র সম্বল ৭ বছরের মেয়ে উয়ান খান জোয়েনা। তার শিশু কন্যার জীবনও এখন হুমকিতে বলে তার স্বামীর হত্যাকান্ডের সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দোকানের ভাড়া টাকা নিয়ে দ্বদ্বের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে নিহতের ভাই অভিযুক্ত শাহে আলমকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া তার অপর ভাই মফিজুল ইসলাম খান নান্নু ও তার ছেলে সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত দোকানের ভাড়াটিয়া কাজাজ ও অপর ভাই মজিবর রহমানকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT