2:47 pm , January 25, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর মেরিন ওয়ার্কসপ মাঠে প্রায় পৌনে ২শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন না করায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ে ফেরত যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে ‘বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং ইস্টিটিউট প্রকল্পটি অনেকটাই অনিশ্চয়তার কবলে পড়ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে একাধিক দায়িত্বশীল মহল। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে সাবেক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যথেষ্ট উদ্যোগী ছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই বরিশাল মহানগরীর বিআইডব্লিউটিএ’র পরিত্যক্ত মেরিন ওয়ার্কসপের প্রায় এক একর জমি পর্যটন করপোরেশনকে লাভ-লোকসানের অংশীদারীত্বে ৩০ বছরের জন্য লীজ প্রদান করা হয়েছে আরো প্রায় ৩ বছর আগে। এজন্য পর্যটন করপোরেশন প্রতি বছর বিআইডব্লিউটিএ’কে বিপুল অর্থও পরিশোধ করে আসছে। কিন্তু প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন থেকে ফেরত যাওয়ায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমনকি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে প্রকল্প ব্যয় বদ্ধির আশংকার কথাও জানিয়েছেন একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। গত ১৯ জানুয়ারী পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় বরিশাল পর্যটন মোটেলের ‘উন্নয়ন প্রকল্প-প্রস্তাবনাÑডিপিপি’টি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হলে প্রকল্পটির অর্থের উৎস জানতে চান সভাপতি। সেখানে পর্যটন করপোরেশন থেকে সরকারের নিজস্ব অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা জানান হলে অর্থ মন্ত্রনালয়ের ছাড়পত্র দাখিলের কথা বলে তা ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বৈদেশিক সহায়তা ব্যতিত যেসব উন্নয়ন প্রকল্প সরকারী অর্থে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে তা প্রীÑএকনেক বা একনেক’র অনুমোদনের পরে স্বাভাবিকভাবেই অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে অর্থ ছাড় করার বিধান রয়েছে। এরপরেও অনুমোদনের আগেই পর্যালোচনা পর্যায়ে প্রকল্পটির জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ের আগাম ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়টি নিয়ে বিব্রত পর্যটন মন্ত্রনালয় সহ করপোরেশনের দায়িত্বশীল মহল।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার পর্যটন করপোরেশনের দায়িত্বশীল একাধীক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে সকলেই বরিশাল প্রকল্পটি নিয়ে কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সভার সারাংশ পাওয়া গেলে পর্যটন মন্ত্রনালয়ের সচিব বিষয়টি পর্যালোচনা করে তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা। ছুটির দিন হওয়ায় শনিবার পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগীয় সদরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথমবারের মত জাতীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানের আবাসন ও চিত্ত বিনোদন সুবিধা সম্বলিত একটি মোটেল সহ ট্ররিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষ্যে ডিপিপি’টি প্রনয়ন করা হয়। বরিশালই একমাত্র বিভাগীয় সদর যেখানে এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানের কোন স্থাপনা নেই। নতুন এসব অবকাঠামো নির্মিত হলে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে পর্যটন করপোরেশন। এমনকি এ পর্যটন মোটেল কুয়াকাটা সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ভ্রমনে আসা পর্যটকদের জন্য একটি ‘ট্রানজিট স্পট’ হিসেবেও কাজ করবে বলে মনে করছেন করপোরেশনের দায়িত্বশীল মহল। অপরদিকে ঢাকার বাইরে বরিশালে একাটি ‘হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও টুরিজম ট্রেনিং সেন্টার’ স্থাপিত হলে দেশে বিদেশে বিপুল চাহিদার এ ধরনের দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্তমানে ঢাকায় দেশের একমাত্র ট্রেনিং ইস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সাবেক পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলাপ করে সবুজ সংকেত লাভের পরে বরিশালে পর্যটন মোটেলের জন্য জমি খুজতে শুরু করেন। কিন্তু সুবিধাজনক স্থানে কোন খালি জমি না পাওয়ায় নদী বন্দরের কাছে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিত্যক্ত নৌ কারখানার খালি জমিতে পর্যটন মোটেল নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
কিন্তু বিষয়টি নিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের দীর্ঘ টানা পোড়েনে অনেক সময় পেরিয়ে যায়। অবশেষে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে আসলে তার নির্দেশে কীর্তনখোলা নদী তীরে বিআইডব্লিউটিএ’র মেরিন ওয়ার্কসপের অভ্যন্তরে এক একর জমি পর্যটন করপোরেশনকে ৩০ বছরের জন্য লীজ প্রদানে সরকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। একাধিক লিফট সম্বলিত প্রস্তাবিত ৮ তলা মোটেল ভবনটিতে ৮০টি কক্ষ থাকবে। যার মধ্যে দুটি এক্সিকিউটিভ স্যুট, ৩৮টি দ্বৈত শয্যার কক্ষ ও ৪০টি তিন শয্যার কক্ষ। এছাড়াও অত্যাধুনিক মানসম্মত রেষ্ট্রুরেন্ট, পুল ক্যাফে, সুইমিং পুল, জিম ও স্পা সুবিধা থাকার কথা এ মোটেলটিতে। ভবিষ্যতে এখানে রিভার ক্রুজ-এর ব্যবস্থা সম্বলিত আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। ফলে এখান থেকে পর্যটকগন মোটেলটির পার্শ্ববর্তি কীর্তনখোলা নদীতে নৌ-বিহার করতে পারবেন।
প্রস্তাবিত বরিশাল ট্রেনিং সেন্টারটিতে প্রতি ব্যাচে ৪০ জন করে হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও টুরিজম-এর ওপর প্রশিক্ষন গ্রহন করতে পারবেন। সাড়ে ৩ মাসের এ প্রশিক্ষন শেষে সার্টিফেকেট প্রদান করা হবে। যা আন্তর্জাতিক ভাবেও স্বীকৃত। প্রস্তাবিত বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টারটির কাজ চলতি জানুয়ারী থেকে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছিল ডিপিপি’তে। তবে তা এখন অনেকটাই অনিশ্চয়তার কবলে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
