বন্ধ হচ্ছে না শেবাচিমের জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তি ফি’র বাড়তি বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না শেবাচিমের জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তি ফি’র বাড়তি বানিজ্য - ajkerparibartan.com
বন্ধ হচ্ছে না শেবাচিমের জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তি ফি’র বাড়তি বানিজ্য

3:02 pm , January 17, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে দুর্নীতি চলছেই। যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভর্তি বানিজ্য বন্ধ করতে পারছে না কেউ। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দুর দুরন্ত থেকে আসা অসহায় মানুষ। প্রতি বছর এ বিভাগ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ২৭ লাখ টাকার মত হাতিয়ে নিচ্ছেন (নার্স) ব্রাদাররা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ভর্তি বা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহনের ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম প্রয়োজন হয় সরকারি টিকেট। এর মধ্যে যারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করেন তাদের নিতে হয় ১০ টাকা মূল্যের ব্যবস্থাপত্র। আর ভর্তি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে দেয়া হয় ১৫ টাকা মূল্যের আরেকটি ব্যবস্থাপত্র।
সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী একজন রোগীকে ভর্তি হতে জরুরী বিভাগে তার সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ২৫ টাকা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার উল্টোটা। জরুরী বিভাগের টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বপালন করা ব্রাদাররা রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছা মত টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘ বছরের পুরানো। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া একাধীক রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ‘প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহনের ১০ টাকার টিকেট কিনতে গুনতে হয় ২০ টাকা। পরে ভর্তি হতে হলো ১৫ টাকার ব্যবস্থাপত্র পেতে দিতে হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভর্তি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র পেতে দিতে হয় ৩০ টাকা। সব মিলিয়ে একজন ভর্তি রোগীকে সরকার নির্ধারিত ২৫ টাকার বাইরে দিতে হচ্ছে আরও ২৫ টাকা বেশি।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘প্রতিদিন গড়ে ৩শত রোগী চিকিৎসা গ্রহনের জন্য জরুরী বিভাগ থেকে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন। সে হিসেবে প্রতি দিন তিন শিফটে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর বছরে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমান দাড়ায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
শুক্রবার সকালে এবং বিকেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সরেজমিনে গিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা যায় প্রকাশ্যেই জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তির দায়িত্বে থাকা ব্রাদাররা সরকার নির্ধারিত ফি’র দ্বিগুন টাকা আদায় করে নিচ্ছেন।
এর কারণ জানতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্রাদার বলেন, ‘কোন রোগীর কাছ থেকে জোর করে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে না। বরং কিছু কিছু রোগী বা তাদের স্বজন খুশি হয়ে ১০-২০ টাকা বেশি রেখে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ভুলে ভর্তিতে বেশি টাকা রাখা হতে পারে। কিন্তু কেউ চাইতে এলে তাকে আবার সেই টাকা ফেরতও দেয়া হচ্ছে।
ব্রাদাররা অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয়সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ক্ষমতাসীন লোকজন ভর্তি হয়ে টাকা না দিয়েই চলে যায়। অনেক সময় আমাদের পকেট থেকেই সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। আবার বাড়তি আদায় হওয়া টাকা দিয়েই ম্যানেজ করতে হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইন-চার্জ (ব্রাদার) হরে কৃষ্ণ অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ‘এমন অভিযোগ আগে থেকেই শুনছি। অভিযোগ পেয়ে আমি নিজেই জরুরী বিভাগ একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা পাইনি। আর কেউ শক্তভাবে কোন অভিযোগও করেনি। তার পরেও ইতিপূর্বে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কোন রোগী বা তার স্বজন এ বিষয়ে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT