দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়ায় বসন্তের আবহ দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়ায় বসন্তের আবহ - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়ায় বসন্তের আবহ

3:01 pm , January 17, 2020

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পুরো পৌষ মাস জুড়ে সাম্প্রতিককালের তীব্র শীতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চরম দূর্ভোগের পরে মাঘের শুরুতে বসন্তের আবহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে উপরে উঠে গেছে গত দু দিনে। অথচ পৌষের বেশীরভাগ সময় জুড়েই এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের ৩ ডিগ্রীরও নিচে।
আবহাওয়ার এ বিচিত্র আচরনে জনজীবনে যেমনি বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তেমনি কৃষি ক্ষেত্রেও প্রতিকুল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এবার কয়েক দফার মৃদু শৈত্য প্রবাহে দক্ষিনাঞ্চলের জনজীবনে যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব পরে। পৌষের মাঝামাঝি বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ১০.২ সেলসিয়াসেও নেমে যায়। যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.১ ডিগ্রী কম। ফলে শীতকালীন সবজি সহ বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’র কবলে পরে। গোল আলুও ‘লেট ব্লাইট’ রোগে আক্রান্ত হবার আশংকা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে পৌষের অকাল বর্ষনেও জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে সংকট ত্বরান্বিত হয়। এমনকি পৌষের বর্ষনে দক্ষিণাঞ্চলে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন ধানেরও এবার ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’ লাগার প্রবাদকে কিছুটা অসার করে দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার পারদ বাড়তে শুরু করে এখন তা স্বাভাবিকের উপরে। আবহাওয়া বিভাগের হিসেব অনুযায়ী চলতি জানুয়ারী মাসে বরিশালে সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা যথাক্রমে ২৫.৬ ও ১১.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কিন্তু ১৫ জানুয়ারী বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রী থাকলেও পরের দিনই তা ২৮.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যায়। শুক্রবার দুপুর ৩টায় বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের ৫ ডিগ্রী বেশী। আর সর্বনি¤œ তাপমাত্রাও গত কয়েকদিন ধরে ১২.৬ ডিগ্রী থেকে ১৩.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কাছেপীঠে রয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর বরিশালে চলতি মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রী কম। কিন্তু মাঘের শুরুতে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের যথেষ্ট উপরে উঠে গেছে।
মাঘের শুরুতেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে উঠার বিষয়টিকে অসামাঞ্জস্য আচরন বলে মনে করছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকগন। আবহাওয়া বিভাগের মাসিক বুলেটিনে চলতি মাসেই দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্য প্রবাহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার জুমার নামাজের সময় অনেক মসজিদেই শীতের পরিবর্তে কিছুটা ভিন্ন আমেজ লক্ষ্য করা গেছে । দুপুর ৩টায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রীর ওপরে উঠে যাওয়ায় জনজবনে স্বস্তির পরিবর্তে কিছুটা অস্বস্তিও দেখা যায়।
তবে কৃষিবীদদের মতে আবহাওয়ার এ আচরনও ফসলের জন্য ভাল নয়। অপরদিকে চলতি শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যাদের বেশীরভাগই শিশু ও বয়স্ক। গত নভেম্বরের মধ্যভাগ থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ সহ ডায়রিয়া নিয়ে প্রায় ২২ হাজার মানুষ চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। বেসরকারী হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোতে এ সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশী হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
আবহাওয়া বিভাগ থেকে দক্ষিণাঞ্চল সহ সারা দেশের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে শণিবার সকালের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টায় হালকা থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাতের কথাও বলা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায়।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT