2:36 pm , January 10, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বরিশালসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ক্ষণ গণনা (কাউন্ট ডাউন) কার্যক্রম। গতকাল শুক্রবার ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের দিন বিকেলে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে ক্ষণগণনা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধণ করেন। এর পর বেলুন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর পরই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সামনে জেলা পরিষদের পুকুরে স্থাপিত ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। মেয়র ও মহানগর সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কাউন্ট ডাউন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, র্যাব-৮ অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আতিকা ইসলাম, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকে একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নইমুল হোসেন লিটু, প্যানেল মেয়র এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। এছাড়াও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও ৩০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহন করেন। এ সময় সকলের কন্ঠে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় অনুষ্ঠান এলাকা। এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করতে নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ ও চক বাজার সড়কে মানুষের আগমন শুরু হয়। বিকেল ৩টার মধ্যেই নগর ভবন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহনে জণসমুদ্র হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরবর্তী সন্ধ্যায় নগর ভবন এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকালে আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে নগরীর আকাশ।
এর আগে বিকেলে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে একুশবার তোপধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
সশস্ত্র বাহিনীর তোপধ্বনির পর বিমান থেকে বঙ্গবন্ধুর আলোকমূর্তি প্রদর্শন করা হয়। তখন ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নেয়া হয় স্বদেশের মাটিতে। এসময় বেজে ওঠ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান। পরে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দলের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। এ সময় বাজানো হয় জাতীয় সংগীতের সুর।
এসময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মগ্রহণের শততম বছর পূর্ন হবে এ বছরের ১৭ মার্চ। তাই এ বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হবে। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানে কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই এই দিনটিকে উপলক্ষ করে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের ৫৩ জেলা, ২টি উপজেলা, ১২টি সিটি কর্পোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে বসানো ঘড়িতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর কাউন্টডাউন হবে।
