3:08 pm , January 9, 2020
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, স্বরুপকাঠি ॥ স্কুলে পৌছতে শিক্ষার্থীদের রীতিমত যুদ্ধ করে আসতে হয় প্রতিদিন। প্রায় ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা খানাখন্দে ভরা মাটির রাস্তায় একাধিক সাকো বা ব্রিজ পার হয়ে আসতে হয়। শুধু এ সকল প্রতিকুলতাই নয় রয়েছে রাস্তা আটকে একাধিক স্ব মিল (কাঠ চেরাই মিল), ফার্নিচার এর দোকানসহ একাধিক ছোট ছোটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখান থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায় সময়ই শিকার হতে হয় ইভটিজিং এর। এর উপর রয়েছে স্কুলের গন্ডি পার হওয়ার পূর্বেই বিয়ের আতংক। এরকম শত প্রতিকুলতার মধ্যেও স্কুলে গিয়ে নিজেদের চাষকৃত সবজি ও গাছগুলো দেখে আনন্দ খুজে পাই। কথাগুলো বলছিলেন স্বরুপকাঠির বলদিয়া সেন্ট্রাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গিয়ে দেখা যায় ভাঙ্গাচোরা টিনের বেড়ায় কাঠ দিয়ে তৈরী করা ৫ টি ক্লাস রুম ও একটি শিক্ষক রুম। উপজেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই রয়েছে জলাশয়। স্কুলের জন্য বরাদ্ধকৃত জলাশয়ের প্রায় ২০ শতক বালু দিয়ে ভরাট করে চলছে সবজি চাষ। যেখানে মাচায় ঝুলছে শতাধিক লাউ, একাধিক মাচায় আছে শিম, বালুর মাধ্যে লাগানো হয়েছে আলু, তার পাশে রয়েছে টমেটো, শালগম। রয়েছে মাঠের পূর্ব পাশে শরিষা ফুল। যা চোখে না দেখলে সৌন্দর্য অনুভব করা যাবে না। স্কুলের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুবা আক্তার, তানজিলা, জেসমিন, হালিমা ও ইয়াসমিন জানান, আমাদের স্কুলের পিয়ন ইসরাফিলের ঐকান্তিক চেষ্টায় এমন সুন্দর সবজি বাগান করা সম্ভব হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীরা মাটি গুড়া করা, গাছ লাগানো ও আগাছা পরিচর্যা করলেও গাছের প্রান পানি দেয়ার কাজটি তিনিই প্রতিদিন সকাল বিকাল করে থাকেন। এমন কি চোরের হাত থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য তিনিই রাতে পাহাড়া দেন। শিক্ষার্থী মাহবুবা আক্তার বলেন এখান থেকে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা কোনো ধরনের অর্থ বিনিময় ছাড়াই প্রয়োজনমত সবজি বাড়িতে নিয়ে যায়। যা পরিবারের অর্থনৈতিক কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
কথা হয় প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের সাথে। তিনি বলেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসেই কৃষি শিক্ষা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ বাদে পরিত্যক্ত জমিতে কৃষি কাজ করে বাস্তববাদী শিক্ষায় অভ্যস্ত হচ্ছে। যে কারনে ক্লাসে এই বিষয়টির উপর চাপও কম থাকে। শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে ভালো ফলাফল করছে।
স্কুলের পিয়ন ইসরাফিল বলেন শিক্ষার্থীরা আমার সাথে ক্লাস শুরুর পূর্বে প্রায় দিনই আনন্দের সাথে কাজ করে। কাজ করা ও ফসল তোলার সময় ওদের বাধভাঙ্গা আনন্দ দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে। ইসরাফিল আরো বলেন প্রতিটা স্কুলেই উচিৎ পরিত্যক্ত যায়গাগুলোতে সবিজ চাষ করা। কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন স্কুলের মাঠে সবজি চাষ দিয়েই আমার ঘরের বারো মাসের সবজির চাহিদা মেটে। এছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে এ সবজি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে অর্থের বিনিময়েও দিতে পারেন। ওই অর্থ দিয়েই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরন কেনার ব্যবস্থাও করে দিতে পারেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
