ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞায় ১২২৯ জেলেকে কারাদন্ড ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞায় ১২২৯ জেলেকে কারাদন্ড - ajkerparibartan.com
ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞায় ১২২৯ জেলেকে কারাদন্ড

3:01 pm , October 30, 2019

সাঈদ পান্থ ॥ বুধবার মধ্যরাতে শেষ হয়ে গেল মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাতে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল। ওই হিসেবে অনুযায়ী বুধবার রাত ১২টায় উঠে যাচ্ছে ইলিশের প্রজনন মৌসুমের এ নিষেধাজ্ঞা। তবে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর সময় থেকে বরিশাল বিভাগের সর্বোত্র চলছে মৎস বিভাগের নেতৃত্বে অভিযান। যে অভিযানে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী সহায়তা করছে।
মৎস অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ধারাবাহিকভাবে দু’হাজার ৪৩০টি অভিযান, এক হাজার ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত ও মোট অভিযানের অনুকূলে এক হাজার ৫৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে আটকদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা ও এক হাজার ২২৯ জনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ১৭ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে।
চাঁদপুর ইলিশ গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘এবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের জন্য একশ্রেনীর মানুষের মধ্যে যুদ্ধে নামার মতো প্রবানতা দেখে গেছে। অভিযানকারী দলের নৌযান নদীর সামনের দিকে এগুচ্ছে, পেছনে গ্রামের লোকজন উৎসবমুখর হয়ে ইলিশ নিধনে নদীতে নেমেছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা অভিযোগ আগেও ছিল। এবারে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিগত বছরের চেয়ে অনেক বেশী’। এবার সাগর ছেড়ে নদীতে মা ইলিশ অনেক বেশী এসেছে বলে এ গবেষক জানান।
ওয়াল্ড ফিশের আওতাধীন ‘ইকোফিস’ প্রকল্পের বরিশালের সহকারী গবেষক বলরাম মহলদার এ প্রসঙ্গে বলেন, আগের বছরগুলোতে কোষ্টগার্ড ও পুলিশ বাহিনী দুটির বিরুদ্ধেই অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এবার একচেটিয়া অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকে পুরোপুরি ব্যর্থ না বলে এ গবেষক বলেন, ‘সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে’।
গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় অংশ নিয়ে প্রান্তিক জেলেরা অভিযোগ করেন, নদীতে টহল দেয়ার জন্য পুলিশের ট্রলার ভাড়া করতে হয়না, উল্টো পুলিশের টহলে অংশ নিতে স্থানীয় থানায় একদিনের জন্য ৩ হাজার টাকা দেন ট্রলার মালিক। অভিযান শেষে ইলিশ জব্দ করা ইলিশ নেয় পুলিশ, জব্দ জালের অর্ধেক ট্রলার মালিক নিয়ে অভিযান শেষে একই জেলেদের কাছে বিক্রি করেন।
যে কারণে ব্যর্থ হয় মৎস্য অধিদপ্তর ঃ নদী-সাগরের মাছসহ সকল প্রাণীজ সম্পদ রক্ষা ও প্রজনন বৃদ্ধির দায়িত্ব মৎস্য অধিদপ্তরের। সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটি জন্মলগ্ন থেকেই জনবল সংকট ভূগছে। উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ জনবল কাঠামো ৫ জনের। নিজস্ব জলযান কখনই ছিলনা। ফলে ইলিশ নিধনে ২২ দিনসহ বিভিন্ন সময়ের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ প্রতিষ্ঠানটিকে সবসময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোষ্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের এ দূর্বলতার কারনেই প্রতিবছর প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ২২ দিনসহ অন্যান্য মেয়াদকালীন নিষেধাজ্ঞা। বিশেষ করে এ সময়ে নদী তীরবর্তী থানা ও নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘুষ বানিজ্যে নেমে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
তাছাড়া ট্রলার ও ষ্পীডভোট ভাড়া দিয়ে স্থানীয় নদী টহল দেয়া হয়। কিন্ত গভীর সমুদ্রে টহলে যাওয়ার সক্ষম জাহাজ আছে একমাত্র নৌবাহিনীর। প্রতিবারই নিষেধাজ্ঞার সময় গভীর সমুদ্রে ভারতীয় জেলেদের ইলিশ নিধনের অভিযোগ পাওয়া যায়। জলযান না থাকায় মৎস্য অধিদপ্তর সেখানে যেতে পারেনা। এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর ইলিশ গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, জনবল, জলযান এবং অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ, এ তিন সংকটের কারণে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশের উপর নির্ভরশীল জেলেদের ২০ কেজি করে চাল খাদ্য দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে টানা অভিযান চালানো হয়েছে। আর বিভিন্ন অভিযানে বরিশালে যারা আটক হয়েছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই মৌসুমি জেলে। আর মৎস্য অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আজিজুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত অভিযানের ফলাফলে যে টুকু বোঝা যাচ্ছে, তাতে বিগত সময়ের থেকে নদী ও সাগর নিষেধাজ্ঞার সময় প্রশাসনের সর্বোস্তরের নজরদারি বেড়েছে। ফলে বিগত সময়ের থেকে অভিযান, জেলেদের আটক, জাল উদ্ধারের পরিমান বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানকালীন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে যেটুকু বোঝা গেছে, তাতে নদীতে ইলিশের আধিক্য রয়েছে। আগামীকাল থেকেই এর প্রভাব বাজারে দেখা যাবে। তবে, বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়া গেলেও শঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন মৎস কর্মকর্তারা। কারণ ২২ দিনে যে পরিমান ইলিশ ডিম ছেড়েছে তারপরে জাটকা সংরক্ষণ সঠিকভাবে করলে দেশে ইলিশের ঘাটতি থাকবে না বলেও দাবি তাদের। বরিশাল জেলায় ৪৩ হাজার ৬৪৪ জন জেলেকে এবং বিভাগে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩ জন জেলেকে নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার কথা। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ জেলেই সহায়তার এ চাল পেয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT