পেঁয়াজের ঝাঁজে জ্বলছে ক্রেতাদের পকেট পেঁয়াজের ঝাঁজে জ্বলছে ক্রেতাদের পকেট - ajkerparibartan.com
পেঁয়াজের ঝাঁজে জ্বলছে ক্রেতাদের পকেট

3:00 pm , October 30, 2019

খান রুবেল ॥ নগরীতে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। প্রতিদিনই কেজি প্রতি বাড়ছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকার উপরে। এর ফলে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে ঝাঁজে ক্রেতাদের চোখ থেকে ঝড়ছে পানি, জ্বলছে পকেট। যদিও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ভোক্তাদের। তাদের দাবি সংকটের মধ্যে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। এজন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকেই দায়ী করা হচ্ছে ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ মনিটরিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়াতেই যে যার মত করে পেঁয়াজ বিক্রি করছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগের ভিন্ন ব্যখ্যা দিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। যদিও এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোড়ালো করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।
বুধবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ৪-৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর বাজার রোড পেঁয়াজ পট্টির জমজম বানিজ্যালয়ের সত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের মূল্য ছিলো ১১৫ থেকে ১২০টাকা। এর মধ্যে আমদানী কম থাকায় প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। যা বুধবারের থেকে অন্তত ৪-৫ টাকা বেশি।
তিনি বলেন, ‘বুধবার আমাদের মনপ্রতি ৩০০ টাকা বেশি দরে ৫২ থেকে ৫৩ শত কাটায় পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। এর পর ক্যারিং খরচ এবং লেবার খরচ রয়েছে। এ কারনে সামান্য লাভ পেতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানী কম। অল্প কিছু পেঁয়াজ আসছে। তা দিয়ে চাহিদা পুরন করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিপূর্বে যেখানে ৫ থেকে ৬টি ট্রাকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টন পেঁয়াজ যেত সেখানে এখন দুই ট্রাক মালও দিতে পারছি না। বিদেশী পেঁয়াজের আমদানী বাড়লে মূল্য কমবে বলে জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী।
অপরদিকে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত খুচরা বাজারে দেশী পেঁয়াজ ১২৫ টাকা এবং আমদানীকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। তবে কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের দেয়া বাজার দরের সাথে বাস্তবতার অনেক ব্যবধান খুঁজে পাওয়া গেছে সরেজমিনে।
নগরীর বাজার রোড, পেঁয়াজ পট্টি থেকে খানিকটা দূরে নগরীর পোর্ট রোড বাজারে দেখা যায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বনি¤œ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে বাছাই করা দেশী পেঁয়াজের মূল্য ছিলো ১৪০ টাকা। তাছাড়া ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের মূল্য পাইকারী বাজারে পৃথক হলেও খুচরা বাজারে দেশী এবং আমদানীকৃত পেঁয়াজ একই মূল্যে বিক্রি করা হয়। যা কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের দেয়া বাজার দরের থেকে বেশি।
এদিকে তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে, ‘গত দুই মাসে পেঁয়াজের মূল্য ৮৬ থেকে ৯২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৭ আগস্ট পেঁয়াজের সর্বোচ্চ মূল্য ছিলো ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা পর্যন্ত। পরবর্তী ২৪ সেপ্টেম্বর এ পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৮০ টায়। গতকাল ৩০ অক্টোবর পেঁয়াজের মূল্য ১৩০-১৪০ টাকা হয়েছে। সে হিসেবে চলতি মাসে পেঁয়াজের সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, ‘মুলত পাইকার পর্যায় থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। চাষি পর্যায় থেকে তারা কম মূল্যে পেঁয়াজ সংগ্রহ করলেও তা পাইকারী বাজারে উর্ধ্ব মূল্যে বিক্রি করছেন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ করে এক ভোক্তা বলেন, ‘নগরীর চৌমাথা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে গেলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়। কেননা পাইকারী এবং খুচরা ব্যবসায়ীরাই গুজব ছড়িয়ে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করছে। তারা পেঁয়াজের মূল্য দেড়শ টাকা হবে বলে ভয় দেখিয়ে ১৩০-১৪০ টাকায় নিতে বাধ্য করছে ক্রেতাদের। যেসব ক্রেতারা সচেতন তারা রেহাই পেলেও বেশিরভাগ ক্রেতা গুজবে কান দিয়ে ফেলছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ শোয়াইব মিয়া পেঁয়াজের মূল্য বৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য করতে রাজি নন জানিয়ে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। কিন্তু এতে বেশি একটা লাভ হচ্ছে বলে মনে হয় না। কেননা খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারদের কাছ থেকে যে টাকায় পেঁয়াজ কিনবে তার থেকে অন্তত ৫টা লাভে হলেও বিক্রি করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পাইকারী বাজারে গিয়ে যখন চালান দেখতে চাই তখন ব্যবসায়ীরা আমাদের সঠিক চালানটিই দেখান। যে কারনে আমাদের আর কিছু করার থাকে না। পাইকাররা যেখান থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করছে সে পর্যায় খোঁজ খবর নিতে পারলে পাইকারদের কারসাজি ধরা যেত। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পেঁয়াজের মূল্য বৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা টাক্সফোর্স ও বাজার মনিটরিং কমিটি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় পেঁয়াজের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রনে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোড়ালো করতে ভোক্তা অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেন। তিনি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট এবং অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT