আকস্মিক ভাঙ্গনে কীর্তনখোলা নদীতে বিলীন চরবাড়িয়ার প্রায় ৩শ’ মিটার জমি আকস্মিক ভাঙ্গনে কীর্তনখোলা নদীতে বিলীন চরবাড়িয়ার প্রায় ৩শ’ মিটার জমি - ajkerparibartan.com
আকস্মিক ভাঙ্গনে কীর্তনখোলা নদীতে বিলীন চরবাড়িয়ার প্রায় ৩শ’ মিটার জমি

2:57 pm , October 30, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মাঝ পথে থেমে গেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় নেয়া ২০৯ কোটি টাকার প্রকল্প। এর ফলে ওই এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনের তীব্রতা ক্রমশই বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই ওই এলাকায় নতুন করে শুরু হয় নদী ভাঙন। এমনকি গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ভাঙনের তীব্রতায় কয়েক লাখ টাকার গাছ-পালাসহ নদী গর্ভে হারিয়েছে প্রায় তিনশ মিটার জমি। এখনো ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে ৯টি বসতঘর এবং একটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা রয়েছে নদী ভাঙনের স্থান হতে এক থেকে দুইশ মিটারের মধ্যে। তবে হঠাৎ করে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেই দায়ী করেছে ভাঙন এলাকার মানুষ। তাদের অনিময় এবং অবহেলার কারনেই নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসির। সরেজমিনে দেখাগেছে, ‘সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ বছর ধরেই কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। ইতিপূর্বে ওই এলাকায় কীর্তনখোলার কড়াল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। ভাঙনের তোড়ে নদীতে ডুবে মারাও গেছেন তিন জন। এদিকে ইউনিয়নবাসির দাবির প্রেক্ষিতে ভাঙনের হাত থেকে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন রক্ষায় প্রকল্প গ্রহন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এমনকি বরিশাল সদর আসনের এমপি কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহনের পরে ২০৯ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের অগ্রগতিও হয়। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে চরবাড়িয়ায় কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া জিও ব্যাগ, ব্লক এবং ড্রেজিং প্রকল্পের কার্যক্রমও শুরু হয়। যার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই। কিন্তুমাঝ পথে থেমে যায় ওই প্রকল্পের কার্যক্রম। চরবাড়িয়ার নদী ভাঙন এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির, মো. সুলতান হাওলাদার, এছাহাক সিকদার, লিটন হাওলাদার, দুলাল হাওলাদার, মালেক, ধলু, কালু এবং চরবাড়িয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়নাল জানান, ‘প্রায় দুই মাস ধরে ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গত দুই মাসে মাঝে মধ্যেই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর রাত পর্যন্ত তীব্র ভাঙনে স্থানীয় চরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কেরানী বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার চলাচলের রাস্তাসহ তিনশ মিটার জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সেই সাথে বিলিন হয়েছে কয়েক লাখ টাকার গাছ-পালা। তারা বলেন, ‘ভাঙন এলাকা হতে এক থেকে দুইশ মিটারের মধ্যে রয়েছে চরবাড়িয়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালায়। তার থেকেও নিকটে রয়েছে হাওলাদার বাড়ি। যেখানে বসবাস করে ৯টি পরিবার। ভাঙনের যে তীব্রতা দেখা দিয়েছে তাতে যে কোন সময় স্কুল ও বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের লোকেদের নির্ঘুম রাত কাটছে। তাই ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া প্রকল্পের কাজ পুনরায় এবং দ্রুত শুরুর করার জন্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রির নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন ভাঙন এলাকার মানুষরা। এ প্রসঙ্গে চরবাড়িয়া এলাকায় সম্প্রতি ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়টি অবগত জানিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবস্টেশন ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে আমি নিজেই ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। আগামী ২ নভেম্বর থেকে ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া প্রকল্পের কাজ আমরা পুনরায় শুরু করব। এলাকার যে পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে সেখান থেকেই কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে খুলনা শিপিয়ার্ডের সাথে চুক্তি সাপেক্ষে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী চরবাড়িয়ায় প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়েছিলো। প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার জিও ব্যাগ এবং সাড়ে ১২ লাখ ব্লক ফালানো হবে। সেই সাথে ভাঙন এলাকায় নদীর অপর তীরে ড্রেজিং কার্যক্রম রয়েছে এই প্রকল্পে। তিনি আরও বলেন, ‘কাজ শুরুর পরে এরই মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়েছে। কিন্তু জিও ব্যাগে আমাদের ডিজাইন অনুযায়ী বালু না দেয়ায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই সময় ডিজাইন অনুযায়ী বালু না পাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখন ডিজাইন অনুযায়ী বালু পাওয়া গেছে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় কাজ শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে ২ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT