নগরীর আইএইচটি ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার ॥ আত্মহত্যার চেষ্টা নগরীর আইএইচটি ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার ॥ আত্মহত্যার চেষ্টা - ajkerparibartan.com
নগরীর আইএইচটি ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার ॥ আত্মহত্যার চেষ্টা

2:47 pm , October 26, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘সত্যি মাঝে মাঝে মন চায় মইরা যাইতে, হুম এটা করলেই ভাল হয়’। স্টাটাসের শেষের লাইন এটি। বরিশাল ইনিষ্টিটিউট অফ হেলথ এন্ড টেকনোলজির (আইএইচটি) আমেনা নামের এই ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবাদ মূলক পোষ্ট দিয়ে শিকার হয়েছেন র‌্যাগিংয়ের। আতœহত্যা চেষ্টায় খেয়েছেন মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ। গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় কলেজ কতৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। ফিজিওথেরাপী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রী কলেজের ক্যাম্পাসে অবস্থিত ছাত্রীনিবাসের ১০৬ নং কক্ষে থাকেন। শুক্রবার সকালে “ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক” নামক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে সিনিয়র (৩য় বর্ষের) ছাত্রীদের কর্তৃক প্রনীত ছাত্রীনিবাস তথা ক্যাম্পাসের কিছু আইন বা নিয়ম নিয়ে একটি প্রতিবাদী লেখা পোষ্ট করেন আমিনা। পোষ্টটি সিনিয়ররা (৩য় বর্ষ) টের পাওয়মাত্রই খুজতে শুরু করে পোষ্ট দাতাকে। নিজেরা দফায় দফায় সভা করে অবশেষে বিকেল ৩টা নাগাদ সনাক্ত করে পোষ্ট দাতাকে। এরপর খাবার বা ডাইনিং রুমে ডেকে নিয়ে আমেনাসহ অন্যান্যদের জড়ো করে জিজ্ঞাসা করলে আমেনা পোষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে। এরপর আমেনা বাদে জুনিয়রদের সবাইকে যার যার রুমে যেতে বলা হয়। সবাই চলে গেলে শুরু হয় আমেনাকে বকাবকি ও লজ্জাজনক নানা কথাবার্তা। ৩য় বর্ষের ছাত্রী লামমীম, জুই, মৌ এবং ফাতেমা এই র‌্যাগিং এর নেতৃত্ব দেন। এর পর রুমে ফিরে অপমান সইতে না পেরে রাত ৯ টার দিকে নিজের কাছে থাকা প্রায় ২০ টির মত ঘুমের ঔষধ খেয়ে আতœহত্যার চেষ্টা করে। রাত ১১ টার দিকে কয়েকজন সহপাঠি এসে আমেনাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। আমেনার পোষ্টটির শিরোনাম ছিলো,বরিশাল আইএইচটির মেয়ে হোস্টেলের কিছু রুলস। ১ থেকে ৫ ক্রমিক নং দিয়ে লেখা পোষ্ট গুলো তুলে ধরা হলো..
১. বাবা ভাই বা নিজের কোন মানুষ (ছেলে) আসলে ক্যাম্পাসে দেখা বা কথা বলা যাবে না। ২.আপুদের দেখলে সালাম দিয়ে বলতে হবে আপু ভাল আছেন। ৩.ক্যাম্পাসে কোন জুনিয়র ছবি তুলতে পারবে না। কোন জুনিয়র বিকেলে একাকি সময় কাটাতেও পারবে না। ৪.কোন জুনিয়র টি শার্ট পরে ডাইনিংএ খাবার পানি এক কথায় নিচে আসতে পারবে না। ৫.আপুরা রুমে আসলে শুয়ে থাকলে উঠে বসতে হবে অসুন্থ থাকলেও। ফোন হাতে নেয়া যাবে না। হেড ফোন কানে থাকা যাবে না।
প্রত্যেকটা লাইন লেখার পর আবার সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন আমেনা। যেমন সিনিয়ররা সবার সাথেই হোস্টেলে দেখা করে, ক্যাম্পাসে ছবি তোলে, আড্ডা দেয় কিংবা টি শার্ট পরেও ডাইনিং এ খাবার পানি নিতে আসে।
আমেনা বলেন, তারা যে ভাষায় আমাকে গালমন্দ ও অপমান জনক কথাবার্তা বলেছে তা মুখে বলার নয়। তিনি আরো বলেন, নিয়মগুলো শুধু আমাদের অর্থাৎ জুনিয়রদের বেলায় প্রযোজ্য। সিনিয়ররা এ নিয়ম মানে না। মূলত র‌্যাগিং করার উদ্দেশ্যেই এ নিয়ম করা হয়েছে। এগুলো কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ম নয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিটি জুনিয়রদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ঘটছে বলে জানান তিনি। এদিকে সিনিয়রদের ভয়ে টটস্থ আমেনা বলেছেন থানা পুলিশ করার কথা ভাবছেন না তিনি। এমনকি মিডিয়ায়ও কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন জানিয়ে আমেনা বলেন হাসপাতালে বসেই খবর পেয়েছি সিনিয়ররা আমার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সমস্যায় পরার আশংকা থেকেই পূর্ব সর্তকতার অংশ হিসাবে এ অভিযোগ দিয়েছে তারা। আমেনার কয়েকজন সহপাঠি বলেন হোষ্টেল সুপার সুবোধ রঞ্জন মন্ডল সব কিছুতেই সিনিয়রদের পক্ষ নিয়ে থাকেন তাই জুনিয়ররা বারবার র‌্যাগিংয়ের শিকার হলেও কোন অভিযোগ করছে না। প্রতিবাদ করলে হোষ্টেল থেকে নাম কেটে সিট বাতিল করারও হুমকি দেয়া হয় জুনিয়রদের। যে কারনে এতদিন নিরবেই থেকেছে বিষয়টি। আমেনা আরো বলেন হোষ্টেল সুপার যখন হাসপাতালে আমেনাকে দেখতে আসেন তখন তার সাথে রাহাত নামের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র এসেছিলেন। তিনি সুপারের সামনেই আমেনাসহ আমাদের কে হুমকি দিয়ে গেছেন কারো কাছে কোন অভিযোগ না করতে। বলেছে কেচো খুজতে গিয়ে সাপ বের করার চেষ্টা কর না। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডাঃ সাইফুল ইসলামের ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে হোষ্টেল সুপার সুবোধ রঞ্জন মন্ডল বলেন ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যারাই দোষী প্রমানিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার বিষটি স্বীকার করে তিনি বলেন যেহেতু আমেনা ভিকটিম তাই আগে তার বিষয়টি দেখা হবে। আমরা এখনই ওই অভিযোগের গুরুত্ব দিচ্ছি না। এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা সুপার সুবোধ রঞ্জন দাস রাতের বেলা হোস্টেলে অবস্থান না করার কারণে প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে। রাতে রোলকল করার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত থাকায় অনেক মেয়েই রাতের বেলা হোস্টেলের বাইরে থাকছে। বিশেষ করে কিছু সিনিয়র শিক্ষার্থী এধরণের অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলেও হোস্টেল সুপার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ হোস্টেলের দায়িত্বের কারণে তিনি প্রতি মাসে বাড়তি বেতন নিচ্ছেন। মেয়েদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বেশ পুরনো।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT