চোর-পুলিশ খেলায় পরিনত হয়েছে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোর অবৈধ ব্যবসা চোর-পুলিশ খেলায় পরিনত হয়েছে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোর অবৈধ ব্যবসা - ajkerparibartan.com
চোর-পুলিশ খেলায় পরিনত হয়েছে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোর অবৈধ ব্যবসা

2:37 pm , October 18, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চোর-পুলিশ খেলা। প্রবাদে থাকা এ বাক্যটি হর-হামেশাই উচ্চারন করে থাকি আমরা। বর্তমানে বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলগুলো “চোর পুলিশ খেলার” এই প্রবাদে পরিনত হয়েছে। নগরীর আবাসিক হোটেল গুলোর চিত্র এমন, কখনো পুলিশের তোপে হোটেল মালিকেরা টটস্থ থাকে আবার কখনো পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় বেপরোয়া রুপে আভির্ভূত হন হোটেল ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে নগরীর সমস্ত আবাসিক হোটেলের ব্যবসায়ীরা রয়েছেন বেপরোয়া রুপ ধারন করে। মূলত হোটেলগুলো অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হওয়ায় মালিকদের এই বেপরোয়া রুপ ধারনের মূল উৎস। এর একমাত্র কারন হচ্ছে পুলিশ তথা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে শিথীলতা। বিভিন্ন সুত্রের খবর ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর ভিআইপি, সেমি ভিআইপি ও নি¤œ সারির আবাসিক হোটেল গুলোতে বর্তমানে দেদারছে চলছে দেহ ও মাদক ব্যবসা। এ ব্যবসার স্টাইল বা ধরন অনেকটাই উন্মুক্ত। হঠাৎ করে হোটেল মালিকদের এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনায় কেন এত স্বাধীন চেতা ভাব সে প্রশ্ন বিশ্লেষনে বেড়িয়ে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেশ কিছু হোটেল মালিক ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে থানা পুলিশের সাথে সমঝোতা চুক্তির বিষয়টি। এই মুহুর্তে আবাসিক হোটেল পাড়ার আলোচিত খবর হচ্ছে পুলিশ-আবাসিক হোটেল সমঝোতা চুক্তি। সরেজমিনেও গিয়ে এমন আলোচনার রসদ মিলেছে। একাধিক হোটেল মালিক ও কর্মচারী অনেকটা গানের সুরে উচ্চারন করছেন এমন বাক্যগুলো। কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার শীর্ষ এক কর্মকর্তার সাথে হোটেল মালিকদের অলিখিত সমঝোতা হয়েছে। প্রত্যেক হোটেল থেকে নির্দিষ্ট মাসোহারা এই সমঝোতা চুক্তির মূল প্রতিপাদ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হোটেল ম্যানেজার বলেন বিগত পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন বদলী হবার পর এবং নতুন কমিশনার যোগদানের মধ্য সময়টাতে আবাসিক হোটেলের এক মালিক প্রতিনিধি হয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নির্দিষ্ট মাসোয়ারা বিনিময়ে সন্ধিচুক্তি হয়। যে কারনে বর্তমানে তাদের অবৈধ ব্যবসায় শুভ লগ্ন চলছে। মাসিক কি পরিমান অর্থ মাসোয়ারা চুক্তি হয়েছে তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তবে একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভিআইপি, সেমি ভিআইপি ও নি¤œ এই তিন সারিতে ভাগ করে মাসোয়ারা নির্ধারন করেছেন ওই কর্মকর্তা। মাসিক ৩০ হাজার থেকে শুরু করে সর্ব নি¤œ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার্য করেন তিনি। এদিকে অপর একটি সুত্র জানিয়েছে বর্তমান পুলিশ কমিশনার যোগ দানের কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি আবাসিক হোটেলগুলোতে সংগঠিত অপরাধের দিকে নজর দিতে পারেননি এমনকি কোন মাধ্যম থেকেও তার নজরে আনতে পারেনি। তাই হোটেল গুলোর কর্মকান্ডে এই অবস্থা । বিভিন্ন সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে বেশ কয়েক মাস ধরে নগরীর আবাসিক হোটেল গুলোতে অভিযান পরিচালনা করছে না পুলিশ। এ চিত্র একদিকে যেমন ওই সমঝোতা চুক্তির সাক্ষ্য বহন করে তেমনি বাস্তবিক ভাবে হোটেল গুলোতে অপরাধ প্রবনতা কয়েকগুনে বাড়িয়ে দিতে সুযোগ করে দিয়েছে। যে কারনে যেসব বিষয় নিয়ে হোটেল পরিচালনা করতে হয় বর্তমানে তা কিছুই মানছে না ব্যবসায়ীরা। খোজ নিয়ে দেখা গেছে, বোর্ডারদের পূর্নাঙ্গ তথ্য যেমন বোর্ডারদের ক্ষেত্রে ছবি বা স্থির চিত্র, ভোটার আইডি কার্ড এর ফটোকফি, পূর্নাঙ্গ ঠিকানা অবার হোটেল মালিকদের ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা এবং সেগুলো চালু রাখা এসব কিছুই মানা হচ্ছে না নগরীর হোটেল গুলোতে। বেশীর ভাগ হোটেলে দায় সাড়া তথ্য লিপিবদ্ধ করে বোর্ডারদের থাকতে দেয়া হচ্ছে। অন্য দিকে বেশীর ভাগ হোটেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও তা চালু রাখা হচ্ছে না। এসব কারনে হোটেল গুলোতে অপরাধ প্রবনতা বেশ চরমে পৌছেছে। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, দেহ ব্যবসা এসব হোটেল গুলোতে এখন ওপেন সিক্রেট। এক্ষেত্রে বেশ নিরাপদ বোধ করছেন দেহ ব্যবসায়ী ও মালিক পক্ষ উভয়ই। অন্য দিকে সুত্রের খবর হচ্ছে বিভিন্ন মাদক কারবারী আশ্রয় নিচ্ছে নগরীর ভিআইপিসহ আবাসিক হোটেলগুলোতে। যারা বরিশাল তথা দক্ষিনাঞ্চলকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে। তারা দিনের পর দিন এসব হোটেলগুলোতে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে আর মেতে উঠছে অসামাজিক কার্যকলাপে। জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মর্তা নুরূল ইসলাম বলেন, পুলিশের সাথে সমঝোতার বিষয়টি অবান্তর তথ্য। তবে মাঝখানে এ অভিযান একটু শিথীল হয়ে পড়লেও দ্রুতই এ অভিযান জোড়ালো করা হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT