ভা-ারিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে পদোন্নতিতে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ! ভা-ারিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে পদোন্নতিতে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ! - ajkerparibartan.com
ভা-ারিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে পদোন্নতিতে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ!

2:52 pm , October 17, 2019

কবির খান ভা-ারিয়া ॥ ভান্ডারিয়ায় রেজিষ্টার্ড (বেসরকারি) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (নতুন জাতীয়করণকৃত) প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । এ কারনে যোগ্যতা সম্পন্ন সাধারণ শিক্ষকগণ পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছে।
অভিযোগে জানাগেছে, বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে রেজিষ্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে জাতীয় করণের ঘোষণা দেন। পরে সংশ্লিষ্ট সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির নীতিমাল প্রকাশ করা হয়। ওই ঘোষণার আলোকে ভা-ারিয়া উপজেলার ৩৩টি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রধান শিক্ষক বনে যান। যাদের মধ্যে যোগ্যতাহীন অনেকেই বড় ধরনের উৎকোচের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে জারিকৃত ১৪/৭/২০০৮ সালে পরিপত্রে প্রধান শিক্ষক পদে যোগ্যতা এসএসি কিংবা এইচএসসিতে নুন্যতম দ্বিতীয় বিভাগ থাকার কথা। সকল ক্ষেত্রে তৃতীয় বিভাগ প্রাপ্তরাও বিধি বহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে ২২ সেপ্টেম্বর ভান্ডারিয়া উপজেলা শিক্ষা কমিটি এক সভায় ১২ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দানের জন্য প্রস্তাব পাশ করেন। পরে ২০১২ সালের ৩ মার্চ শিক্ষা কমিটির অন্য একটি সভায় , পূর্ববর্তী সভায় যে ১২ জন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল সেখানে আরো এক জনকে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল আলম ও উচ্চমান সহকারি কাম হিসাব রক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান উৎকোচের বিনিময়ে ১৩ জনের পরিবর্তে মোট ২০ জনের নাম জেলায় প্রেরণ করেন। তারা যাদের নামের তালিকা পাঠিয়ে ছিলেন তার মধ্যে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় উভয় ক্ষেত্রে তৃতীয় বিভাগ প্রাপ্ত শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন।
ওই ২০ জন প্রধান শিক্ষকের সাত জন শিক্ষক হলেন ১২৩ নম্বর পশ্চিম নদমূলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল কুদ্দুচ হাওলাদার, ১১০ নম্বর রাধানগর-চড়াইল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ মোশারফ হোসেন, ১২২ নম্বর পশ্চিম নদমূলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ সেলিম সিকদার , ১২১নম্বর পশ্চিম ইকড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদরুল আলম, ১১৬ নম্বর দক্ষিণ পশ্চিম নদমুলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমদাদুল হক, ১৪৫নম্বর উত্তর শিয়ালকাঠী রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ নাসিরুল ইসলাম ও ১০৩ নম্বর দক্ষিণ সিংহখালী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ বেলায়েত হোসেন গাজী। সহকারি শিক্ষকগণ বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও রহস্যজনক কারনে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে যান। এছাড়া ইকড়ি ইউনিয়নের ৪২ নম্বর পশ্চিম পশারিবুনিয়া সিকদার হাট বেসরকারি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাখন চন্দ্র হালদার ২০১২সালে এমপিও ভুক্ত হয়ে ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। যেখানে নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে সাত বছর যাবত এমপিও ভুক্ত থাকতে হবে । চাকুরির শর্তাবলীর সাথে পদোন্নতির সাথে সাংঘর্ষিক এ পদোন্নতির সুবিধা ভোগ করে অনেকেই ইতিমধ্যে চাকুরী থেকে অবসরে চলে গেছেন। আর এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতা উচ্চমান সহকারি মোঃ খলিলুর রহমান। তিনি দীর্ঘ দিন (২০১১ সালে যোগদান) একই অফিসে কর্মরত থাকার সুবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি, বদলিসহ বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ, লাখ টাকা। সরোজমিনে গিয়ে দেখাগেছে দুইতলা আলিশান বাড়ি থাকলেও বাড়িটি ঘেরাও করা । ভিতরে সে ৫টি বিদেশী কুকুরকে লালন-পালন করা হয়। কাউখালী উপজেলায় নামে-বেনামে অনেক প্লট রয়েছে তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগি শিক্ষকগণ অভিযোগ করেছেন তার দাপটে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি কর্মকর্তাগণ অসহায়। তার অঘোষিত নেতৃত্বে তাদের চলতে হচ্ছে। শিক্ষকগণ বলেন শিক্ষকদের বদলি হতে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খলিলের মাধ্যমে পরিষোধ করতে হয়। তবে মোঃ খলিলুর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে জারিকৃত পরিপত্রে জাতীয়করণকৃত চাকুরী কাল ৫০% গণনার কথা বলা হলেও ২০১৯ সালে নতুন জাতীয়করণকৃত প্রায় সকল প্রধান শিক্ষককে ৩টি টাইমস্কেল প্রদান করা হয়। অর্থ মন্ত্রনায়লয়ের ২৪/০২/২০১৯ তারিখে ০৭.০০.০০০০.১৬১.৩৮.০০.২০১.১৭-৩৭নং স্বারক এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর ২০/০৩/২০১৯ ইং তারিখের ০৭.০৩.০০০০.০০৯.৩৮.৫০০.১৭(খন্ড-০২)/৩৩০নং এর উভয় স্বারকে দেয়ার চিঠির বলে নব জাতীয়কৃত প্রধান শিক্ষকগণের টাইমস্কের প্র্রাপ্তির কোন সুযোগ না থাকার কথা বলা হলেও ভান্ডারিয়া উপজেলায় সব জাতীয়করণকৃত প্রধান শিক্ষকদের তিনটি টাইমস্কেল প্রদান করা হয়েছে। এব্যাপারে ডিভিসনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস কার্যালয়ের ডেপুটি কন্ট্রোলার অব একাউন্টস তদন্তে আসলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। যা এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় টাইমস্কেল পেতে হলে একজন শিক্ষককে একই পদে যথাক্রমে ৮, ১২, ১৫ বছর চাকুরী করতে হবে। ২০০৮ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পদোন্নতি প্রাপ্ত শিক্ষকদের যেখানে উক্ত সুবিধা পেতে ওই শিক্ষকদের ৩০ বছর চাকুরী করতে হবে। কিন্তু জাতীয় করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদটিই সৃষ্টি হয় ২০০৮সালে ইতিপূর্বে তারা কার্যকর ভাতা হিসেবে ৫০টাকা অতিরিক্ত পেতেন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ শিক্ষক পদোন্নতিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন অন্যদিকে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা বিধিবহির্ভূত সুবিধা দেওয়া হয়েছে তাদের।
এসকল সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে যে সকল কর্মকর্তাগণ সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেন সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন খান বলেন পূর্বে কর্মকর্তা তাদের পদোন্নতি দিয়ে গেছেন। যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে সে বিয়ষ আমার জানা নেই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT