দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য মানসিক চিকিৎসক মাত্র ১ জন দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য মানসিক চিকিৎসক মাত্র ১ জন - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য মানসিক চিকিৎসক মাত্র ১ জন

3:10 pm , October 10, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ’ এই স্লোগানে গতকাল ১০ অক্টোবর পালিত হয়েছে বিশ^ মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। কিন্তু‘ দিবস পালন হলেও প্রতিপাদ্য বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কেননা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি জনগণের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে রয়েছেন মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তার উপর ভর করেই চলছে শেবাচিম হাসপাতালের একমাত্র মানসিক বিভাগটি। তার মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে মানসিক রোগী এবং আত্মহত্যার ঘটনা। ফলে এ অঞ্চলে সরকারের প্রতিপাদ্য বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্চ হয়ে দাড়িয়েছে।বরিশালের বিভিন্ন থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১২ মাসে ৮৯ জন আত্মহত্যা করলেও ২০১৯ সালের মাত্র ৯ মাসেই আত্মহত্যা করেছেন ১১০ জন। প্রতিটি আত্মহত্যার পেছনেই হতাশা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তাছাড়া মানসিক সমস্যা থেকেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে একাধিক। ১৯৯ জন আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ১২১ জন নারী, তাদের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত। এছাড়া শিশুর সংখ্যা ১০ জন। তবে শিশুদের আত্মহত্যার ঘটনা দুর্ঘটনা বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) এর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘২১ মাসে ৫শত’র অধিক লাশের ময়না তদন্ত করেছে তারা। এর মধ্যে আত্মহত্যা করেছে এমন ১৯৯ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় ছিলো ১২৯টি, পটুয়াখালী জেলার ১৯টি, ঝালকাঠীর ১৭টি, পিরোজপুর ও বরগুনা ১৪টি এবং ভোলা জেলার ৬টি লাশ।পুলিশের সুরাতহাল প্রতিবেদনে ১৯৯ জন আত্মহত্যাকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ৮৩ জন আত্মহত্যা করেন স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অন্যকারোর সাথে ঝগড়া করে। প্রেমিকা বা প্রেমিকের অন্যত্র বিয়ে হওয়া কিংবা পরিবারের ঠিক করা পাত্র বা পাত্রীর সাথে বিয়ে করতে রাজি না থাকা ও প্রেমকে অস্বীকার করার কারণে আত্মহত্যা করেণ ৩৩ জন। পরিবারে পিতা-মাতা বা ভাই-বোন কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কাছে কোন কিছুর আবদার বা দাবি করে তা পূরণ না হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে ৪২ জন। ১১ জন আত্মহত্যা করে সমাজের মানুষের সামনে আপমানিত হওয়া বা লাঞ্ছিত হওয়া কিংবা লজ্জা পাওয়ার কারণে। এছাড়া অজ্ঞাত কারণে আত্মহত্যা করেছে আরো ৩০ জন।এদিকে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন’ এর কথা বলা হলেও বরিশাল অঞ্চলে রয়েছেন মাত্র একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি হলেন মানসিক রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ তপন কুমর সাহা। ফলে যুগে যুগে এ অঞ্চলের মানসিক রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মহত্যা সম্পর্কে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার সাহা বলেন, ‘মুলত দারিদ্রতা, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে বিরোধ, প্রেম বিরোধ, অমতে বিয়ে, সমাজিকভাবে অপমান বা লাঞ্চিত হওয়া, বেকারত্বের মানসিক চাপ বা মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারনেই বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, ‘এসমস্যা গুলোর কারনে ক্রমশ আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। এমনকি বাড়ছে মানসিক সমস্যাও। তাছাড়া প্রতিটি মানুষ কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভোগে। এদের নিয়মিত কাউন্সিলিং এবং সেবা প্রদান করা প্রয়োজন। কিন্তু মানসিক রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তাই মানসিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরী বলেও মনে করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT