আশুরার র‌্যালিতে লাঠি ছুড়ি-কাঁচি বা ব্লেড নিষিদ্ধ আশুরার র‌্যালিতে লাঠি ছুড়ি-কাঁচি বা ব্লেড নিষিদ্ধ - ajkerparibartan.com
আশুরার র‌্যালিতে লাঠি ছুড়ি-কাঁচি বা ব্লেড নিষিদ্ধ

2:55 pm , September 7, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পবিত্র আশুরায় তাজিয়া মিছিল বা শোক র‌্যালিতে কোন প্রকার লাঠি, ছুড়ি-কাাঁচি বা ব্লেড এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে মহানগর পুলিশ। সম্পূর্ণ ধর্মীয় রিতি-নীতি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে আশুরা পালন করতে হবে। এ নির্দেশনার না মানলে তাজিয়া মিছিল বা র‌্যালি বন্ধ করা সহ সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।  পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মুসলমান সম্প্রদায়ের সিয়া-সুন্নিদের অংশগ্রহনে নিরাপত্তা, আইন শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষ সমন্বয় সভার সভাপতি এবং পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান এই নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার নগরীর আমতলার মোড়স্থ পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সেমিনার রুমে পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান আরো বলেন, ‘পবিত্র আশুরা উদযাপনে তাজিয়া মিছিল বা শোক র‌্যালিতে ছুড়ি, কাঁচি, বল্লভ বা ব্লেডের ব্যবহার এবং পিটা-পিটি করে রক্ত ঝড়ানো যাবে না। এটা দেশের কোথাও হবে না। আর বরিশালেতো প্রশ্নই আসে না। আশুরা পালন করতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলার বিঘœ ঘটে এমন কোন কাজ করা যাবে না। তাছাড়া মিছিল বা র‌্যালি দীর্ঘ করা যাবে না। যাতে যানবাহন বা মানুষের চলাচলে বিঘœ না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য যে জায়গা থেকে মিছিল বা র‌্যালি শুরু হবে তা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছার পূর্বে পথিমধ্যে কোথাও থামা যাবে না। তাজিয়া মিছিল বা শোক র‌্যালিতে পতাকাবাহী বাঁশের দৈর্ঘ্য ১২ ফুটের বেশি হবে না এবং সূর্যাস্তের পূর্বে সকল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। এদিকে সভায় অংশগ্রহনকারী পবিত্র আশুরা উদযাপন ও আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ‘এবার নগরীতে দুটি তাজিয়া মিছিল এবং একটি শোক র‌্যালী হবে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর নগরীর রিফিউজি (খালেদাবাদ) কলোনীতে দোয়া ও লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া ১০ অক্টোবর আসর নামাজের পরে নূরিয়া স্কুলের সামনে থেকে একটি তাজিয়া মিছিল বের হবে।
এছাড়া ১০ অক্টোবর আশুরার দিন সকাল ১১টায় নগরীর মড়কখোলার পুল থেকে একটি শোক র‌্যালী বের করা হবে। যা নতুন বাজার সহ আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এছাড়া একই এলাকায় বাদ এশা ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বিকাল ৪টায় নাজিরের পুল থেকে একটি র‌্যালি বের করবে সুন্নি সম্প্রদায়ের লোকেরা। যা নাজিরের পুল থেকে শুরু করে জেলখানার মোড়, সদর রোড, কাকলির মোড়, ফজলুল হক এভিনিউ এবং চকবাজার সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এ তাজিয়া মিছিলে ছুড়ি-কাচি এবং অস্ত্রের অবহারের বিষয়টি উল্লেখ করলেও তাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার। এর বাইরে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া বিসিক, ফলপট্টি, পদ্মাবতি রোড এবং সাগরদী কেরামতিয়া মসজিদে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাত, খিচুরি বিতরণ, ওয়াজ মাহফিল এবং কাওয়ালী গানের আয়োজন করা হয়েছে।
অপরদিকে সমন্বয় সভায় আশুরা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া বিষয়ে প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (নগর বিশেষ শাখা) শারমিন সুলতানা রাখি। তিনি জানান, ‘পবিত্র আশুরা নির্বিঘেœ নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের ৫৫০ জনের সমন্বয়ে গঠিত টিম কাজ করবে।
এর মধ্যে নিয়মিত এবং অতিরিক্ত সহ মোট ১৯টি মোবাইল টিম, শোক র‌্যালিতে ২টি টিম, দুটি র‌্যালিতে রুপটপ ডিউটি ৩৫টি, পিকেট ডিউটি ১৫টি, পবিত্র আশুরা উপলক্ষে অনুষ্ঠান (তবারক/খিচুরি বিতরন/দোয়া মোনাজাত) স্থলে থাকবে ৮টি টিম, বোম ডিসপোজাল টিম ১টি, স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারণে ৩টি টিম, সাদা পোশাকে ১০টি, ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) ৪টি টিম থাকবে। এর বাইরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিক বিভাগ দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, ‘পবিত্র আশুরা অনুষ্ঠানে কোন প্রকার বস্তা ও ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। মিছিলে অংশগ্রহনকারীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে প্রবেশ করানো হবে। প্রতিটি মিছিলের সামনে এবং পেছনে দুটি পুলিশের টিম থাকবে। তাজিয়া মিছিল ও র‌্যালি শান্তি এবং শৃঙ্খলাপূর্ভভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত পোশাকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক এর ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিশেষ সমন্বয় সভায়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT