হাঁসের খামার করে সোনালী স্বপ্নের আলো দেখছেন চরমোনাইর ওমর ফারুক হাঁসের খামার করে সোনালী স্বপ্নের আলো দেখছেন চরমোনাইর ওমর ফারুক - ajkerparibartan.com
হাঁসের খামার করে সোনালী স্বপ্নের আলো দেখছেন চরমোনাইর ওমর ফারুক

3:12 pm , September 6, 2019

শামীম আহমেদ ॥ চিনের খাকি ক্যাম্বেল, বেজিং ও জিনডিং তিন জাতের হাসের খামার করে সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগরের রাজধর গ্রামের মাসাল্লাহ্ ভাই ভাই হাঁস ফার্মের পরিচালক ওমর ফারুকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। প্রতিদিন গড়ে ১ শত ২৫ টি ডিম খামার থেকে পাওয়া যাচ্ছে। যা ৪৪ টাকা হালি দরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে । খামারে ২ শত ৯৫টি হাসি রয়েছে অন্যদিকে হাঁসা রয়েছে ৯৫ টি। ইতি মধ্যে কিছু কিছু হাঁসি ৬ মাসের স্থলে ৫ মাসের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করেছে। বাকি হাঁসি ডিম দেওয়া শুরু করলে আয় বেড়ে যাবে। ওমর ফারুক জানান, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল নেত্রকোনা থেকে চিনের ৩ জাতের ৬শ’ বাচ্ছা ক্রয় করেন। সেগুলো নিয়ে আসার পথে ৮ থেকে ১০টি বাচ্চা মারা যায়। বেঁচে থাকা বাচ্চা দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা দিয়ে খামারের কার্যক্রম শুরু করা হলে পরবর্তিতে খরচের পরিমান বেড়ে গিয়ে দাড়ায় সোয়া ২ লক্ষ টাকা। প্রথম পর্যায়ে খামারে প্রতি মাসে হাঁসের খাবার ক্রয় করা থেকে বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে তার ৬০ হাজার টাকা খরচ হত। বর্তমানে হাঁসগুলো বড় হওয়ায় ২৮ হাজার টাকায় এসে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন প্রথমদিকে তার খাবারের পিছনেই বড় একটি টাকা খরচ হয়েছে।
অন্যদিকে হাঁসগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার দেয়া যেত তাহলে খরচের পরিমান কম হত। যেহেতু খামারের ভিতরে রেখে খাবার দেয়ার কারনেই বড় অংকের টাকা খরচ হয়েছে। এখন হাঁসগুলো নিজেরাই ঘুরে ঘুরে ও পাশ্ববর্তী খাল-বিলে প্রাকৃতিক খাবার সংগ্রহ করে খাওয়ার কারনেই তার গড়ে প্রতিদিন ১টি হাঁসের পিছনে এখন ১ টাকা খরচ হচ্ছে। এছাড়া খামারের হাঁসের পিছনে ১ টা ভ্যাকসিন ক্রয় করে ১শ’ হাসের মাঝে দিতে হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রর্যায়ে ২৫দিন দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৫ দিন পর দিতে হয়। হাঁসের ডাক প্লেগ ভ্যাকসিন ৪০ টাকা ও ডাক কলেরার ভ্যাকসিন বাজার থেকে ৫০ টাকা দরে ক্রয় করে কিনতে হচ্ছে। তবে হাঁসের ডাক কলেরার ভ্যাকসিন ৬০ থেকে ৭৫ দিন পর পর দিতে হয় তা সঠিক সময়ে দিতে ভুল করা হলে হাঁস বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাবার সম্ভাবনা থাকে বেশী।
ফারুক মনে করেন সামনে তার প্রতিটি হাঁসি ডিম দেয়া শুরু করলে গড়ে সে প্রতিদিন ৮০ ভাগ ডিম যদি খামার থেকে আসে আর সেই সাথে বাজার থেকে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় তাহলে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাকে হবে না।
এছাড়া ফারুকের মাসাল্লাহ্ ভাই ভাই ফার্মে কোন কর্মচারী নেই সে নিজেই সকল হাঁসের দেখা শুনা করে থাকেন। ফারুক বলেন তার খামার থেকে কোন হাঁসি বিক্রি করেন না। তবে মাঝে মাঝে হাঁসা বিক্রি করে থাকেন। তিনি আরো বলেন এখন একদিকে ফার্মে খাবারের পিছনে খরচ কমে এসেছে অন্যদিকে হাঁসিগুলো দিতে শুরু করায় তার সামনে এখন সোনালী স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠতে শুরু করেছে। সেই সাথে এখন আর তেমন ব্যয়ের পিছনে ছুটে চলা নয়। এখন ঘড়ে অর্থের আলো নিয়ে আসাই তার স্বপ্ন। সেই সাথে ফারুকের ইচ্ছা তার ফার্ম আরো বড় করে বিভিন্ন জাতের হাঁস পালনের। ফারুক মনে করেন বাজারে যদি ডিমের দাম সঠিকভাবে পাওয়া যায় তাহলে দেশে ডিমের যেমন ঘাটতি থাকবে না। তেমনি এই খামারী পেশায় অনেক তরুনরা আগ্রহ প্রকাশ করে এগিয়ে আসবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT