3:27 pm , August 25, 2019
শাকিল মাহমুদ বাচ্চু উজিরপুর ॥ উজিরপুর উপজেলার সাতলার প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে এখন অহরহ বসছে মানুষ বেচা-কেনার হাট। প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন বিক্রি হতে আগ্রহী শতশত শ্রমজীবি মানুষেরা। প্রায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলছে এরকম দিনমজুর বেচাকিনা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের নয়াকান্দি বাজারে বেশকিছু নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড়। সড়কের পাশে বসে রয়েছে বিক্রি হবার আশায়। তারা প্রায় সকলেই পার্শ্ববর্তী হারতা ইউনিয়নের নাথারকান্দি,কালবিলা গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে আসা অভাবী মানুষ। এখানে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের হাট বসে। তারা এ হাটে আসে বিক্রি হতে। আবার আরেক শ্রেণীর মানুষ আসে তাদের ক্রয় করতে। প্রকাশ্যেই চলতে থাকে অন্যান্য পণ্যের মতো দর কষাকষি দাম একবার বাড়ে, আরেকবার কমে। এক পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের মতোই বিক্রি হয় তারা হাট-বাজারগুলোতে এ চিত্র এখন সমাজ স্বীকৃত। এখানকার স্থানীয়রা তাদের বলে দিনমজুর, আবার কেউ বলে কৃষান। বিভিন্ন বয়সের শ্রমজীবী মানুষ তাদের এলাকায় কোনো কাজ না থাকায় দলে দলে ছুটে আসেন নয়াকান্দি। সাতলা ইউনিয়নের দক্ষিন সাতলা,উত্তর সাতলা,মধ্য সাতলা ও রাজাপুর গ্রাম থেকে আসা ক্রেতারা কাজের জন্য শ্রমজীবীদের এখান থেকে কিনে নিয়ে যায়। পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও এ বাজারে আসেন পেটের তাগিদে। তারাও সমান তালে পুরুষ শ্রমিকের সাথে কাজ করে। এখানে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের হাট। শীতকালীন সবজি চাষ ও ইরি-বোরো রোপা মৌসুম শুরু হলেই এখানে শ্রমিক ও ক্রেতাদের ভিড় জমে ওঠে । অভাবী মানুষ শ্রম বিক্রি করতে এ হাটে জড়ো হন। প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে ভিড় করছেন কাজের সন্ধানে আসা মৌসুমী শ্রমিকরা। জমি চাষ, ধান রোপণসহ নানা কাজে শ্রমিকদের দরদাম করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করতে শর্তসাপেক্ষে কিনে নেন জমির মালিক ক্রেতা-গৃহস্থরা। কথা হয় নাথারকান্দি,কালবিলা থেকে আসা কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে। তারা এসেছেন পেটের দায়ে নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে। আনোয়ার হোসেন নামক এক শ্রমিক জানান, এলাকায় কাজকর্ম নেই, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয় পরিবার-পরিজন নিয়ে। ক্ষুধার তাড়নায় অন্য জায়গায় কাজ খুঁজতে হয়। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ টাকা করে তারা শ্রম বিক্রি করে পান। তবে খাটতে হয় ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এ হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকার থেকে শ্রমীক নিতে মাহজনরা ভিড় জমায়।
