ইলিশে সয়লাব বরিশাল মোকাম: কমছে দামও ইলিশে সয়লাব বরিশাল মোকাম: কমছে দামও - ajkerparibartan.com
ইলিশে সয়লাব বরিশাল মোকাম: কমছে দামও

3:07 pm , August 23, 2019

খান রুবেল ॥ চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। নদী ও সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি মোকাম ও খুচরা বাজার ছেয়ে গেছে রূপালী ইলিশে। ইলিশের আমদানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে শুরু করেছে দামও। গত সপ্তাহের থেকে প্রকার ভেদে প্রতি মন ইলিশের মূল্য কমেছে নূন্যতম ২ হাজার টাকা। সামনে এর মূল্য আরো কমে আসবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ইলিশের আমদানী বাড়লেও নগরীর ইলিশ মোকামের ব্যবসায়ীদের চোখে তা অপর্যাপ্ত। বর্তমানে যে পরিমান ইলিশ আমদানী হয়েছে তা বিগত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে দাবী তাদের। তার পরেও সন্তুষ্ট আড়ৎদাররা। আমদানীর ধারাবাহিকতা থাকলে কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে যাবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে, গত সপ্তাহ ধরে নগরীর পোর্ট রোডের একমাত্র ও বৃহৎ বেসরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের আমদানী বেড়ে গেছে। এই মোকামে উঠা বেশিরভাগ ইলিশই সাগরের। কাক ডাকা ভোরের আগেই মাছ ধরার ফিশিং বোট নোঙর করছে পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে। পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার কামাল ফিস এর সত্ত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, বরিশাল মোকামে এখনো পুরোদমে ইলিশ আসতে শুরু করেনি। বেশিরভাগ ফিসিং বোর্ট চলে যাচ্ছে কুয়াকাটা ও মহিপুর মোকামে। তার পরেও যা আসছে তাতে বরিশালে ইলিশের মূল্য অনেকাংশেই কম। তিনি বলেন, ঈদ পরবর্তী গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে কেজি সাইজের প্রতিমন ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা দরে। গতকাল শুক্রবার একই সাইজের ইলিশ প্রতিমন বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার টাকা দরে।

একইভাবে ৬শ থেকে ৯শ গ্রাম (এলসি) সাইজের ইলিশ গত সপ্তাহে ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেও গতকাল শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। ৪শ থেকে ৬শ গ্রাম (ভেলকা) সাইজের ইলিশ গত সপ্তাহে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২১ হাজার টাকায়। তবে মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে জাটকা ইলিশের। স্থানীয় ভাষায় ‘গোটলা’ নামে পরিচিত ৪শ গ্রামের নিচে ইলিশ গত সপ্তাহে প্রতি মন বিক্রি হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা দরে। এ সপ্তাহে ওই একই দরে জাটকা বিক্রি হয়েছে। মোকামে জাটকার পরিমান কম থাকায় এর মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল মৎস্য আড়ৎদার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত দাস বলেন, ইলিশের আমদামী বাড়লেও তা তুলনামুলক নয়। কেননা গত বছর এই মৌসুমে পোর্ট রোড মোকামে ১৫ থেকে ২ হাজার মণ ইলিশের আমদানি ছিলো। সেখানে এ বছর মৌসুমের মাঝের দিকে সর্বোচ্চ এক থেকে ১২শ মণ ইলিশ আমদানি হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনো পুরোদমে ইলিশ আসতে শুরু করেনি। তবে কয়েকদিন ধরে ইলিশ ধরা পড়ছে। এটা শুভ লক্ষন। এ কারনে স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দামও কিছুটা কম। সাগরের পাশাপাশি স্থানীয় নদীতে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়লে ইলিশের আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দামও কমবে বলে আশাবাদী মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে সাগরে মাছ ধরার ফিসিং বোর্ট মালিক আলম গাজী বলেন, যে পরিমান পোর্ট সাগরে যাচ্ছে সে পরিমান বোর্ট বরিশাল মোকামে আসছে না। বেশিরভাগ বোর্ট পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও মহিপুর বন্দরে যাচ্ছে। তাছাড়া জেলেদের বিশাল একটি অংশ বেশি মূল্য পেতে চাঁদপুর যাচ্ছে। এ কারনে বরিশাল মোকামে মাছের পরিমান এখনো কম।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (হিলসা) ড. বিমল চন্দ্র দাস জানান, জেলেদের কথা মাথায় রেখেই বাজারে মাছের দাম মনিটরিং করা হচ্ছে। দাম একেবারে পরে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে জেলেরা। যেভাবে মাছ আসতে শুরু করেছে তাতে এ বছর ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী এই কর্মকর্তা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT