বানারীপাড়ায় ফল চাষে স্বাবলম্বী সুলতান হোসেন বানারীপাড়ায় ফল চাষে স্বাবলম্বী সুলতান হোসেন - ajkerparibartan.com
বানারীপাড়ায় ফল চাষে স্বাবলম্বী সুলতান হোসেন

3:23 pm , July 21, 2019

বানারীপাড়া প্রতিবেদক ॥ বানারীপাড়ার মো.সুলতান হোসেন একজন সফল কৃষি খামারী। তিনি উন্নতজাতের আম,বাওকুল ও থাই পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রকার ফল চাষ করে সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফল বাগানের পাশাপাশি তিনি নতুন করে শুরু করেছেন উচ্চ ঘনত্বে (ইওঙঋখঙঈ ঝওঝঞঊগ ঋওঝঐ ঋঅজগ ) মাছ চাষ। চ্যানেল আই’য়ে শাইখ সিরাজের বাওকুল চাষের প্রতিবেদন দেখে একান্ত সখের বসে বাওকুল চাষের মধ্য দিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও এখন তিনি ফল চাষের রোল মডেলে পরিনত হয়েছেন। প্রথমে নিজের সামান্য জমিতে কুল চাষ করে ভাল ফল পেয়ে অন্যের জমি লীজ নিয়ে বানিজ্যিক ভাবেই শুরু করেছিলেন বাওকুল চাষ। পরবর্তিতে জমির পরিমান বৃদ্ধি করে একই সঙ্গে আম ও থাই পেয়ারার চাষ শুরু করেন। আম ও পেয়ারায় লাভ বেশি হওয়ায় বাও কুলের চাষ ছেড়ে আম আর পেয়ারয়ই রয়ে গেছেন তিনি। বর্তমানে তিনটি বাগানে মোট ১৮ একর ভুমিতে রয়েছে আমরূপালী সহ বিভিন্ন জাতের আম ও থাই পেয়ারা। একই সাথে তিনি সংযুক্ত করেছেন মাল্টা, লেবু, লিচু, জামরুল(লকট) চাষ। এ বছর ২৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি ধারনা করছেন। তার টার্গেট আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে তিনি কোটি টাকার ফল বিক্রির লক্ষমাত্রা। তার ফার্মের নাম দিয়েছেন ‘এস ইসলাম এ্যাগ্রো ফার্ম’। বিষ মুক্ত ফল বিধায় স্থানীয়ভাবে তার বাগানের আম ও পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলার পাশাপাশি বরিশাল শহর,পার্শ্ববর্তী স্বরূপকাঠি, উজিরপুর ও ঝালকাঠি এলাকায় তার বাগানের ফলই বেশি চলে। বরিশালের বানারীপাড়া পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদ ফকিরের ছেলে মো. সুলতান হোসেন বরিশালের পলিটেকনিক কলেজ থেকে ডিপ্লোমা পাস করে চাকরি না করে পারিবারিক ব্যবসা শুরু করেন। একই সাথে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ঠিকাদারীও করতেন। ২০০৯ সালে চ্যানেল আইতে শাইখ সিরাজের একটি প্রতিবেদন দেখে বাওকুল চাষের পরিকল্পনা করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের (ময়মনসিংহ) জার্ম প্লাজমা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ রহিমের সহায়তায় চাষাবাদ শুরু করেন। একান্ত সখের বসে কৃষি কাজে নাম লেখালেও আজ তিনি একজন সফল কৃষি খামারী। বানারীপাড়া পৌর শহর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে উপজেলার শেষ প্রান্তে বানারীপাড়া-বরিশাল সড়ক লাগোয়া সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে ১২ একর ভূমিতে রয়েছে তার দুটি বাগান এবং ওই এলাকারই পাশে উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামে ৬ একরের ওপর একটি বাগান। তার ওই তিনটি বাগানে ১ হাজার আম, দেড় হাজার থাই পেয়ারা, অন্যান্য ফলের গাছ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফলের গাছ রয়েছে। একাজে সার্বক্ষনিক তাকে সহায়তা করেন তার ছেলে সাইফুল ইসলাম। প্রতিটি বাগানে দুই জন করে ৬ জন স্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া দৈনিক মজুরী হিসেবে কাজ করেন আরো ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক। স্থায়ী শ্রমিক কাওসার ও হানিফ খা জানান তারা মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। স্থায়ী ভাবে কাজ করে তারাও বেশ ভালই আছেন বলে জানান। কৃষ্ণপুরের ১ নম্বর ফার্মে কথা হয় ফল চাষী মো. সুলতান হোসেনের সঙ্গে, এসময় তিনি নতুন পদ্ধতিতে মাছ চাষের অবস্থা পর্যবেক্ষন করছিলেন। প্রথমেই তিনি মাছ চাষের বিষয়টি সম্পর্কে জানালেন, মাছ ধরে দেখালেন। সম্প্রতি তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে উচ্চ ঘনত্বে (ইওঙঋখঙঈ ঝওঝঞঊগ ঋওঝঐ ঋঅজগ ) মাছ চাষ পদ্ধতি দেখে তা শুরু করেছেন। ২০ দিনে রেনুপোনা থেকে বেশ বড় হয়ে ওঠেছে সিং, কৈ ও তেলাপিয়া মাছ। ১২ ফুট বাই ১৫ ফুট আয়তনের দু’টি চৌবাচ্চায় ১০ হাজার রেনু ছেড়েছেন। তিন মাসের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হবে ওইসব মাছ। এরপর বাগানে ঘুরিয়ে দেখালেন। এবং বললেন ইতিবৃত্ত। সব মিলিয়ে একটি সফল খামার গড়ে তুলেছেন আত্ম প্রত্যয়ী সুলতান হোসেন। সুলতান হোসেন জানান তার এ্যাগ্রো বিজনেস পরিচালনায় কৃষি বিভাগসহ সকলের সহযোগীতা পাচ্ছেন। অনেকেই তার কাছে বাগান করার পরামর্শ নিতে আসেন। সকলকে তিনি উৎসাহিত করার পাশাপাশি সহায়তা করেন। তিনি বলেন বিষ বা কেমিক্যাল মেশানোর ফলে মানুষ ফল খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় ভাবে বাগান সৃষ্টি হওয়ায় মানুষ আগ্রহভরে ফল কিনছেন। বিষমুক্ত ফল কেনার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতা বাগানে আসেন।
বানারীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. অলিউল আলম বলেন,সুলতান একজন সফল ফল চাষী। ফলদবাগান পরিচর্যায় তিনি অত্যন্ত পারদর্শী। তার বাগান দেখে উপজেলায় আরো ছোট খাটো বাগান সৃজিত হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহায়তা দেওয়ার জন্য এ দফতরের সকলেই সচেষ্ট রয়েছেন।

 

https://youtube.com/mubinmuyein

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT