3:19 pm , June 20, 2019
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এবার নিজের পৈত্রিক নিবাসের হোল্ডিং ট্যাক্স ১৬ গুন বাড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্নিপতি, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও ১৫ আগষ্টের কালোরাতের বর্বরতার শিকার দাদা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের এ বাসভবনের বর্তমান বাসিন্দা তার উত্তরসুরী নাতি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। নিজের বাসভবনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াতে একটু দ্বিধা করেননি তিনি। নগর পিতার আসনে আসীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর এ সিদ্বান্ত সর্বমহলেও প্রশংসিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পূর্ব পুরুষের এ ভিটার হোল্ডিং ট্যাক্স পুন.মূল্যায়নের শুনানী শেষে তার পৈত্রিক নিবাসের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ১৬.৬ ভাগ বৃদ্ধি হয়েছে। নগর ভবনে গ্রাহক হিসেবে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র উপস্থিতিতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সচিব মো. ইসরাইল হোসেন এই শুনানী করেন। এতে মাত্র ১ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা থেকে বেড়ে নগরীর কালী বাড়ী রোডের সেরনিয়াবাত ভবনের হোল্ডিং ট্যাক্স এখন ২২ হাজার ৪শ’ ১০টাকা পূন.নির্ধারন হয়েছে।
নগর ভবন সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) যথাযথভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হতো না। আগে ১৪ কোটি টাকা দাবীর বিপরীতে বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হতো ১১ প্রায় কোটি টাকা। কিন্তু যথাযথভাবে মূল্যায়ন হলে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হতো প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এ কারনে আর্থিকভাবে অনেকটাই দুর্বল ছিলো বরিশাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ যথাযথভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স পুননির্ধারনের মাধ্যমে করে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে সচিব ইসরাইল হোসেনকে রাজস্ব কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান সহ রাজস্ব বিভাগকে ঢেলে সাজিয়েছেন মেয়র। এরপর নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স পুন.মূল্যায়নের জন্য সকল গ্রাহককে নোটিশ করে কর্তৃপক্ষ। গ্রাহককে নোটিশ করে বাড়ি পরিমাপের পর শুনানী শেষে নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য্য করা হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় মেয়রের পৈত্রিক বাড়ি (হোল্ডিং নং- ৫০৫) নোটিশ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার নগর ভবনে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। বাড়ির মালিক সাবেক মন্ত্রী ১৫ আগস্টের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের উত্তরসুরী হিসেবে গতকাল শুনানীতে অংশগ্রহন করেন তার নাতনী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। এ সময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সচিব ইসরাইল হোসেন শুনানীতে মেয়রের পৈত্রিক নিবাসে ২২ হাজার ৪শ’ ১০ টাকা নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারন করেন।
বিসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলু জানান, আগে সিটি মেয়রের পৈত্রিক নিবাসের বাড়ির ৫ হাজার টাকা মূল্যায়নের বিপরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হতো ১ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা। নতুন করে পুনমূল্যায়নে তার বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স দাড়ায় ৩৯ হাজার ৯শ’ ৬০ টাকা। কিন্তু বাড়ির মালিক শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় ১ হাজার ৫শ’ স্কয়ার ফিট পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ এবং মালিকের পরিবার বসবাস করলে ২০ ভাগ ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী সিটি মেয়রের উপস্থিতিতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন শুনানী করে তার বাড়ির নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ২২ হাজার ৪শ’ ১০ টাকা পুননির্ধারন করেন। বাবলু বলেন, সিটি মেয়রের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির বিষয়টি দেখে নগরীর প্রায় ৫৫ হাজার গ্রাহকও যথাযথভাবে সময় মতো হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করবে বলে নগর ভবন আশা করে।
