অনিশ্চয়তার কবলে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘বিআইডব্লিউটি প্রকল্প-১’এর বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার কবলে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘বিআইডব্লিউটি প্রকল্প-১’এর বাস্তবায়ন - ajkerparibartan.com
অনিশ্চয়তার কবলে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘বিআইডব্লিউটি প্রকল্প-১’এর বাস্তবায়ন

3:47 pm , May 11, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নানা দীর্ঘ সূত্রিতা আর আইনী জটিলতায় বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট ৩ হাজার দুশ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১’এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টিই এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তার কবলে। প্রকল্পটিতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋনের পরিমান ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩২০ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা। অথচ ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর এ সংক্রান্ত ‘উন্নয়ন প্রকল্প সারপত্র-ডিপিপি’ জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনের নির্বাহী কমিটি-একনেক-এর চুড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। ২০১৭-এর ১৬ মার্চ এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনও প্রদান করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়।
কিন্তু গত দু বছরেরও অধিক সময়ে প্রকল্পটির জন্য সম্ভাব্যতা সমিক্ষা ও বিস্তারিত নকশা সহ কাজ বাস্তবায়নে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা গেছে। তবে তাও নানা জটিলতায় যথেষ্ট ধীর গতিতে এগুচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৪-এর জুন থেকে ২০২৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা কমিশনের চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষোয়।
আমাদের নদ-নদীসমুহের সর্বোচ্চ গভীরতা অনুসারে নৌ-পথের শ্রেণী বিন্যাস করা হয় থাকে। দেশের সড়ক পথের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে দীর্ঘদিনের সফল আলোচনার প্রেক্ষিতে আইডিএ ফান্ডের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১’ প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এ লক্ষে বিআইডব্লিুউটিএ ৩ হাজার দুশ কোটি টাকার একটি ডিপিপি প্রনয়ন করে ২০১৬-এর ৩ ফেব্রুয়ারী নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করে। মন্ত্রনালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে ঐবছরই ২৪ফেব্রুয়ারী প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় কিছু পর্যবেক্ষন সহ প্রস্তাবনাটি অনুমোদনের পরে সংশোধিত ডিপিপি’টি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠান হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ‘প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি’ ২০১৬-এর ২৫ এপ্রিলের সভায় পূনর্গঠিত ডিপিপি’টি অনুমোদনের পরে তা একনেক-এর চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেস করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২০১৬-এর ১০ নভেম্বর প্রকল্পটি চুড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। ২০১৬-এর ২১ ডিসেম্বর সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক চুক্তি’ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এমনকি ২০১৭-এর ১৯মার্চ এ প্রকল্পটি নিয়ে বিআইডব্লিুউটিএ এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগের মধ্যে ‘সাবসিডিয়ারী গ্রান্ট এগ্রিমেন্ট’ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
কিন্তু এর পরে গত প্রায় আড়াই বছরে প্রকল্পটির দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। তবে প্রকল্পটির আওতায় ড্রেজিং ও কয়েকটি নৌ টার্মিনাল ভবন ছাড়াও ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মানের লক্ষে বিস্তারিত নকশা প্রনয়ন সহ কাজের তত্ববধানে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু সে বিষয়টিও খুব একটা সন্তোষজনকভাবে এগুচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে বর্ধিত সময়ের মধ্যেও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহল। সরকার চট্টগ্রামÑঢাকাÑআশুগঞ্জ নৌ করিডর এবং বরিশাল ও নারায়নগঞ্জ-এর বর্ধিতাংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাবসা-বানিজ্য এবং ভারতের সাথে নৌ পথে দ্বিপাক্ষিক বানিজ্যর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার রুট বা নৌপথ হিসেবে সনাক্ত করেছে। দেশের প্রায় ৮০ভাগ অভ্যন্তরীণ নৌযান এসব করিডোরের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ যাত্রী এসব নৌপথ ব্যাবহার করছে। এমনকি যাত্রী ও পণ্য পবিহনের ক্ষেত্রে ঢাকা, বরিশাল, নারায়নগঞ্জ ও চাঁদপুর নদী বন্দর এবং টার্মিনালসমুহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। এসব বিবেচনায় এ নৌ করিডর সমুহের উন্নয়ন সহ ল্যান্ডিং স্টেশনগুলোর উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম করিডরের আশুগঞ্জ, বরিশাল, নারায়নগঞ্জ মূল নদী ও শাখাসমুহে প্রায় ৯শ কিলোমিটার নৌপথে ‘পারফর্মেন্স বেজড কনট্রাক্ট-পিবিসি’ ড্রেজিং-এর মাধ্যমে রক্ষনাবেক্ষন ও সংরক্ষন করা হবে। পাশাপাশি এ নৌ করিডরের ষাটনল, চর ভৈরবী, চাঁদপুর, মেহেদিগঞ্জ, সন্দ্বীপ ও নলচিরাতে নৌযানসমুহের জন্য ৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নির্মান করা হবে। ঐ নৌরুটের চাঁদপুরÑশরিয়তপুর, ভেলাÑলক্ষ্মীপুর ও বরিশালের ভেদুরিয়াÑলাহারহাট ফেরি ক্রসিং এলাকায় সংরক্ষন ড্রেজিং-এর পরিকল্পনাও রয়েছে এ প্রকল্পের আওতায়। একইসাথে বরিশাল, চাঁদপুর, নরায়নগঞ্জ ও ঢাকার শ্মশানঘাটে ৪টি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এবং ঢাকার পানগাঁও ও আশুগঞ্জ কার্গো টার্মিনালের উন্নয়ন এ প্রকল্পের আওতাভূক্ত রয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুর, পানগাঁও ও শ্মশানঘাটে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মান এবং বিদ্যমান বরিশাল ও নারায়নগঞ্জ টার্মিনালের সম্প্রসারন, আধুনিকায়ন সহ উন্নয়ন প্রকল্পভূক্ত রয়েছে।
এছাড়াও দেশে অভ্যন্তরীন ও উপকূলীয় ১৪টি লঞ্চ ল্যান্ডিং স্টেশনসমুহ নির্মান করা হবে বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট এ প্রকল্পের আওতায়। এসব লঞ্চ স্টেশন হচ্ছে, ভৈরব বাজার, আলু বাজার, হরিনা, হিজলা, মজুচৌধুরীর হাট, ইলিশা, ভেদুরিয়া, লাহারহাট, বহদ্দরহাট, দৌলত খান, চরবাটা, সন্দ্বীপ, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও তমুরদ্দিন।
একইসাথে নারায়নগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র ডেক ও ইঞ্জিন পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টারটির আধুনিকিকরন সহ দুটি মাল্টিপারপাস ভেসেল ও হাইড্রোগ্রাফীক অনুসন্ধানমূলক সরঞ্জামাদী সংগ্রহও এপ্রকল্পভূক্ত রয়েছে।
তবে চুড়ান্ত অনুমোদনের দীর্ঘদিন পরেও প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে হতাশা রয়েছে ওয়াকিবাহল মহলে। পরামর্শক নিয়োগ সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়েই বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় ও বিশ্বব্যাংকের যাচাই বাছাই সহ অনুমোদন সংগ্রহে দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হয় বিধায়ও যথেষ্ঠ কালক্ষেপন হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে সব ধরনে পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। নৌ পরিবহন কতৃপক্ষ ও মন্ত্রনালয়ও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিক বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT