জাতীয় কবি নজরুল আর প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ’র বরিশালে রূপসী বাংলার অপরূপ রূপ জাতীয় কবি নজরুল আর প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ’র বরিশালে রূপসী বাংলার অপরূপ রূপ - ajkerparibartan.com
জাতীয় কবি নজরুল আর প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ’র বরিশালে রূপসী বাংলার অপরূপ রূপ

3:22 pm , May 8, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বসন্ত বিদায় নিয়ে গ্রীষ্মের শুরু হলেও ‘জাতীয় কবি নজরুল’ ও ‘প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ’র বরিশালে এখনো রূপসী বাংলার চিরয়াত রূপ চোখে পরে। যদিও অব্যাহত নগরায়নের ধাক্কায় এ নগরী থেকে ঝাউ ও পাম গাছ সহ প্রকৃতির অনেক কিছুই ধ্বংস হয়েছে ইতোমধ্যে। তবুও নজরুলের চোখে দেখা আর জীবনানন্দের স্বপ্নের বরিশালে এখনো প্রকৃতির অনেক অপরূপ দৃশ্য বর্তমান। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বৃটিশ যুগে বরিশালে এসে এনগরীর প্রকৃতিক শোভায় মোহিত হয়ে তার অমর উপণ্যাশ ‘মৃত্যু ক্ষুধা’য় বরিশাল শহরের প্রকৃতিক শোভার সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও দিয়েছেন। বৃটিশ যুগে কির্তনখোলা নদী তীরে এ শহরের সুরকীর রাস্তা আর গাছ গাছালীর কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি কবি।
জাতীয় কবি লিখেছেন, ‘বরিশাল। বাংলার ভেনিস। আঁকাবাঁকা লাল রাস্তা। শহরটি জড়িয়ে ধরে আছে ভুজ-বন্ধের মত করে। রাস্তার দু-ধারে ঝাউ গাছের সারি। তারই পাশে নদী। টলমল টলমল করছেÑবোম্বাই শাড়ী পরা ভরা-যৌবন বধুর পথÑচলার মত করে। যত না চলে, অঙ্গ দোলে তার চেয়ে অনেক বেশী। নদীর ওপারে ধানের ক্ষেত। তারও ওপারে নারকেল-সুপারী কুঞ্জঘেরা সবুজ গ্রাম, শান্ত নিশ্চুপ। সবুজ শাড়ীÑপরা বাসর-ঘরের ভয়-পাওয়া ছোট্ট কনে-বৌটির মত। এক আকাশ হতে আর-আকাশে কার অনুনয় সঞ্চারন করে ফিরছে। বৌ কথা কও। বৌ কথা কও। আঁধারে চাঁদর মুড়ি দিয়ে তখনো রাত্রী অভিসারে বোরোয়নি। তখনো বুঝি তার সন্ধ্যা প্রসাধন শেষ হয়নি। শঙ্কায় হাতের আলতার শিশি সাঁঝের আকাশে গড়িয়ে পড়েছে। পায়ের চেয়ে আকাশটাই রেঙে উঠেছে বেশী। মেঘের কালো খোপায় ভূতীয়া চাঁদরে গো’ড়ে মালাটা জড়াতে গিয়ে বেঁেক গেছে। উঠোনময় তারার ফুল ছড়ানো। ………।’ প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ তার ‘রূপসী বাংলা’তে বরিশালের ‘কির্তনখোলা’ ও ‘সুগন্ধা’র শাখা নদী ‘ধন সিড়ি’রও অপরূপ বর্ণনা দিয়েছেন। কবি তার চোখে দেখা ধানসিড়ি’কে কবিতা ভাষায় লিখেছেন, ‘ আবার আসিব ফিরে ধান সিড়িটির তীরেইে বাংলায় হয়ত মানুষ নয়Ñহয়তো বা শঙ্খচীল শালিকের বেশে; হয়তো ভোরের কাক হয়ে ইই কার্তিকের বেশে নবান্নের দেশে কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাল ছায়ায়;……..।
অপরিকল্পিত ও অব্যাহত নগরায়নে কবি নজরুল ও জীবনানন্দর বরিশাল থেকে প্রকৃতি অনেকটাই বিলুপ্ত হলেও তাকে রক্ষা করা সহ ফিরিয়ে আনার সময় এখনো আছে বলে মনে করছেন পরিবেশবীদগন। কবি জীবনানন্দ এনগরীতেই বড় হয়েছেন। বরিশালের বিএম কলেজের শিক্ষক ছিলেন তিনি। নগরীর এক সময়ের বেলস পার্ক বা বঙ্গবন্ধু উদ্যানের কোল ঘেষে বাঁধ রোডের ধারে সোনালু গাছের ফুল এ নগরীর শোভা বর্ধন করছে এখনো। যদিও এ উদ্যানের অভ্যন্তরে এখন আগের সুস্থ্য সামাজিক পরিবেশ অনেকটাই বিপন্ন। উদ্যানটির ওয়াকওয়েতে নারী-পুরষ এখন আর নির্বিঘেœ হাটতে পাড়েন না কতিপয় বখাটে ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া (?) ছেলে মেয়েদের অনৈতিক বিচরনে। অনেক হায়াহীন ছেলে মেয়েদের প্রেমের লীলাভূমিতে পরিনত হয়েছে এ উদ্যান। পড়ার টেবিল ছেড়ে গভীররাত পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অনৈতিক বিচরনে উদ্যানের সামাজিক পরিবেশ বিপন্ন হলেও তা দেখার কেউ নেই।
উদ্যানটির পশ্চিম পাড়ে ‘ভিআইপি এলাকা’ খ্যাত রাজা বাহাদুর রোডের পাশের শতবর্ষী রেইন-ট্রি ও কৃষ্ণচূড়া সহ অনেক গাছই ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে নানাভাবে। ঐ সড়ক ও বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মধ্যবর্তি লেকটির পানি দুষিত হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ বঙ্গবন্ধু উদ্যানেই প্রতিবছর বিভাগীয় বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। সে মেলায় বিভাগ ও জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও পরিবেশের জন্য বৃক্ষ রোপনের অপরিহার্যতা নিয়ে অনেক ভাল কথা বলেন। কিন্তু সে মেলার পড়ে অনেকেই নিজেদের উপদেশের কথা মনেও রাখেন না। গত দুই দশকে বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন ভিআইপি সড়ক থেকে অনেক গাছ বিলুপ্ত হলেও কেউ নতুন করে একটি বৃক্ষও রোপন করেন নি। তবে এর পরেও বঙ্গবন্ধু উদ্যানের অভ্যন্তরে ও পূর্ব পাশের বান্দ রেডে নানা গাছ আর এ সোনালু ফুল এখনো নগরবাসীর চোখ সামান্য হলেও জুড়াচ্ছে। নজরুলের বরিশাল শহর এখন মহানগরী। তবে অব্যাহত নগরায়নের সাথে আমাদের বিবেকহীন কর্মকান্ডে এ নগরীর প্রকৃিতর রূপ অনেকটাই মলিন হলেও সম্পূর্ণ বিলীন হয়নি। তাকে ধরে রাখতে কতৃপক্ষের উদ্যোগ জরুরী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT