দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা

3:19 pm , May 2, 2019

শামীম আহমেদ ॥ আকস্মিকভাবে সারাদেশের সাথে পাল্লাদিয়ে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে আশংকাজনক হারে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। মানবাধিকার সংগঠনের হিসেব মতে, দক্ষিণাঞ্চলে গত সাড়ে তিন মাসে ধর্ষিত হয়েছেন প্রায় শতাধিক নারী ও শিশু।
মরণ নেশা ইয়াবার চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ধর্ষণ। বিভিন্ন নারী সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষক সমাজ সকলেই এ ব্যাপারে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং নিজ নিজ সন্তানদের ওপর অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সূত্রমতে, হিজলা উপজেলার মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা অস্টম শ্রেনীতে পড়–য়া মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তার পিতা অতিসম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষকের বিচার দাবী করেছেন। মুলাদী উপজেলায় মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণের পর দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ধর্ষক ওই ভিডিও নেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের শিশু শ্রেনীতে পড়–য়া (৬) এক ছাত্রীকে জিলাপী খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে ওই শিশুর মা থানায় মামলা করেছেন। এরপূর্বে গত ৩১ মার্চ গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের নবীনগর গ্রামের এক বখাটে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার একদিন পর ধর্ষিতার মা বাদি থানায় মামলা করেছে। নগরীতে যৌতুক মামলার বাদী হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারী (৩০) গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই নারী বর্তমানে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল বরগুনার পাথরঘাটায় পর্যটন কেন্দ্র হরিণঘাটা বনে নিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অস্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। গত ২ এপ্রিল রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের খানাখুনিয়ারী গ্রামে ১৪ বছর বয়সী অস্টম শ্রেনীতে পড়–য়া স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে। একই এলাকায় গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় এক সন্তানের জননীকে (২২) ধর্ষণ করেছে বখাটে। একইমাসে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল ও মঠবাড়িয়া উপজেলার বয়াতীর হাট গ্রামের খালেক ঘরামীর পুত্র সাহেব আলী ঘরামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী ছাত্রী। এ ব্যাপারে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান রয়েছে তা খুবই উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, মূলত বিচারহীনতার জনই এমনটা হচ্ছে। শাস্তির দিকে মনোযোগ না দিয়ে, সংশোধনে মনোযোগ দেয়া জরুরি। নতুবা এ সমস্যা আরও প্রকট হবে। নারী নেত্রী ও বরিশাল জেলা সচেতন নাগরীক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, বরিশালের আদালতগুলোতে অসংখ্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলা ঝুলে রয়েছে। এসব মামলার বিচার চলছে কচ্ছপগতিতে। যৌণ নিপীড়ন, ধর্ষণ ঘটনারোধে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ সমাজ থেকে অনেক অংশে হ্রাস পাবে।
বরিশাল ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের অতিরিক্ত দায়িত্বপালনকারী সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ রাসেল সম্প্রতি সময়ে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা চাই ধর্ষিতা নারী দ্রুত বিচার পান। এজন্য ধর্ষণের কোন ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে দ্রুত আন্তরিকতার সাথে সাপোর্ট দেয়া হয়। কার্পণ্য কিংবা প্রভাবিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
তবে অনেক সময় অনেক নারী লজ্জায় ঘটনা ঘটার কয়েকদিন পর আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছায় অথবা ভিকটিম নিজেই লজ্জায় আলামত নষ্ট করে ফেলেন। সেক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণ হয়েছে কিনা তা নিরূপন করা মেডিক্যাল বোর্ডের কস্টকর হয়ে যায়। ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, জনগণ সবারই সচেতন হতে হবে, তবেই কেবল সামাজিক এ ব্যাধি রোধ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট রনজিত সমদ্দার বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ধীর গতি এটা বলা যাবেনা। এজন্য মেডিকেল সিস্টেম দায়ী। কেননা ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত রিপোর্ট পৌঁছাতে অনেক দেরী হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাবেই ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ধর্ষককে সমাজ থেকে বয়কট করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই এ ঘটনারোধ করা সম্ভব হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT