অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নগরময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হলুদ অটো-গ্যাস ও সিএনজি চালিত তিন চাকার যান অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নগরময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হলুদ অটো-গ্যাস ও সিএনজি চালিত তিন চাকার যান - ajkerparibartan.com
অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নগরময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হলুদ অটো-গ্যাস ও সিএনজি চালিত তিন চাকার যান

3:15 pm , April 3, 2019

মর্তুজা জুয়েল ॥ সড়ক দূর্ঘটনায় একসঙ্গে ৮ জনের মর্মান্তিক প্রানহানীর পরেও সামান্যতম পরিবর্তন ঘটেনি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নগরী ও মহাসড়কে বৈধ-অবৈধ তিন চাকার যানের বেপোরোয়া দৌরাত্ব ও বিশৃঙ্খল চলাচল অব্যাহত রয়েছে পূর্বের মতই। এতে করে যে কোন সময় আবারো বড় কোন সড়ক ট্র্যাজেডির সম্মূখীন হবে বরিশাল বাসী এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই। গত ২২ মার্চ বাবুগঞ্জ উপজেলার বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে তেতুলতলা নামক স্থানে বাসের চাপায় মাহিন্দ্রার নারীসহ ৮ যাত্রী নিহত হয়। এর পরে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তও উপেক্ষিত হচ্ছে। ওই দূর্ঘটনার পর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ কতৃপক্ষর সিদ্ধান্ত ছিল তিন চাকার গাড়ি বিআরটিএর অনুমোদনের বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে না। বিশেষ করে তিন চাকার গাড়িগুলি কোনক্রমের চালকের আসনের দুই পাশে কোন যাত্রী নিতে পারবে না। কিন্তু এই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। ট্রাফিক বিভাগও এ বিষয়ে উদাসীন। নগরীতে হলুদ অটোরিক্সা, সিলিন্ডার গ্যাসচালিত গাড়ি (এলপিজি) ও সিএনজি গাড়ী চলছে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে। কোন ধরনের লুকিং গ্লাস, লাইট, ইন্ডিগেটর লাইট, সিগনাল না মেনে যে যার খুশীমত চলাচল করছেন। যখন যেভাবে খুশি রাস্তায় গাড়ি দাড় করিয়ে যাত্রী উঠানো ও নামানো হচ্ছে। যত্রতত্র ব্রেক করে করে যাত্রী পরিবহন করায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার পাশাপাশি নগরীতে তৈরী হচ্ছে যানযট।
কিন্তু সিদ্ধান্তের দুইদিন পার না হতেই আবারো পূর্বের মতই বেপোরোয়া ৩ চাকার যানবাহন গুলো। পূর্বের মতই ৮/৯ জন নিয়ে বেপোরোয়া গতিতে নগরীতে তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি রান্না করা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে চলাচল করছে ৭’শত তিন চাকার গাড়ি। উন্মুক্ত এবং অরক্ষিত অবস্থায় সনাতন পদ্ধতিতে তিন চাকার গাড়িতে এ সকল সিলিন্ডার স্থাপন করা হয়েছে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা ও প্রানহানি। এছাড়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সকল গাড়িতে ৪ জন যাত্রী পরিবহন করার কথা থাকলেও পরিবহন করা হচ্ছে ৬/৭ জন। আর এ সকল ঝুকিপূর্ন গাড়ির নিবন্ধন দিচ্ছে বিআরটিএ। একইভাবে সবুজ রংয়ের তিন চাকার সিএনজিতে চালক সহ ৩ জন পরিবহন করার সিদ্বান্ত দেয়া হলেও সেখানে পরিবহন করা হচ্ছে ৬ জন। পেছনের সিটে তিন জন যাত্রী পরিবহন করা হলেও সামনে চালকের পাশে দুই জন বসানো হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে চালকের পাশে দুইজন যাত্রী পরিবহন করে। এতে চালক কোন রকম নড়াচড়া করার সুযোগও পাচ্ছেন না । কেবল সোজা হয়ে দ্রুত গতিতে ছুটছেন যাত্রী নিয়ে। এমনকি কোন ধরনের শব্দ না হওয়ায় সামনে কিংবা পিছনের অন্য যানবাহন বুঝতে পারে না কত দ্রুত গতিতে অন্য কোন যানবাহন আসছে। একইভাবে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিদিনই নগরীতে অবাধে প্রবেশ করছে অটোরিক্সা। অভিযোগ রয়েছে গাড়ি প্রতি ১ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিয়ে নির্বিঘেœ নগরীতে লাইসেন্সবিহীন হলুদ অটো চলাচল করছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অধীনে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলুদ অটো রয়েছে ২ হাজার ৬১০টি। আর অবৈধ অটো রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। এই অবৈধ গাড়ি থেকে প্রতিমাসে প্রতিটি থেকে বিট দেয়ার নামে ১ হাজার টাকা করে উঠানো হচ্ছে। নগরীকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে এক একজনকে এক এক এলাকার দায়িত্ব দিয়ে গাড়ি প্রতি ওঠানো হয় ১ হাজার টাকা। এসব অবৈধ গাড়ি চলাচল করে গোটা নগরী সহ সদর উপজেলা জুড়ে। প্রতিমাসে ১ হাজার বিট প্রদানকারী একাধিক চালক জানান আমার কাছে একটি ভিজিটিং কার্ড রয়েছে, এটি দেখালেই ট্রাফিক পুলিশ ছেড়ে দেয়। আমরা প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা দেই। টাকা না দিলে জরিমান করে ৩ হাজার টাকা।
এদিকে সম্প্রতি ১৫২ টি লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। নগরীর টিবির মাঠে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট শাহীন উদ্দিন, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট শামীম আহম্মেদ এবং আনিসুর রহমানের উপস্থিতিতে এ অবৈধ হলুদ অটো ভেঙে ফেলা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায় বিভিন্ন সময় ট্রফিক বিভাগ কর্তৃক আটককৃত এ সকল অবৈধ হলুদ অটো আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল । পরবর্তীতে কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র এবং অনুমতি না থাকায় এ সকল হলুদ অটো আদালত অবৈধ ঘোষণা করে নিলামের আদেশ দেয়। এরপর ১৫২ টি অটোরিকশা আদালত থেকে নিলাম করা হয়েছিল।
এছাড়া এ যাবৎকালে হলুদ অটো কিংবা অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। বর্তমানে বিআরটিএ’র হিসেব অনুযায়ী ২০১০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে মহানগর এলাকার এর জন্য মোট ১ হাজার ৯৩৯ টি এবং ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত জেলার জন্য ৪০০টি থ্রি হুইলার গাড়ি অনুমোদন দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। মেট্রো এবং জেলার আরটিসি কমিটি এ সকল গাড়ি অনুমোদন দিয়েছে বলে বিআরটিএ দাবী করেছে। অপর একটি তথ্যে দেথা গেছে জেলায় অনুমোদন দেয়া গাড়ির পরিমান আরো অনেক বেশী। হঠাৎ করে সংখ্যা কমিয়ে কোন কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিআরটিএ, এমনটি ধারনা করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। নতুন করে গাড়ি অনুমোদন দেয়ার জন্য এ কৌশল নেয়া হতে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সাম্প্রতি একসঙ্গে মহানগরীর জন্য ৬৫১টি ৩ চাকার সবুজ সিএনজি গাড়ির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে নগরী ও শহরতলী এলাকায় প্রায় ১০ হাজারের মত তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মহাসড়কে কোন ধরনের তিন চাকার যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতার কারনে অবাধে এ সকল যান চলছে। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন দূর্ঘটনায় যাত্রীও পথচারীদের মৃত্যুসহ হাত পা ভেঙ্গে যাওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটছে। পৃথক পৃথক এক একটি মৃত্যু কিংবা ছোট ছোট এ সকল দূর্ঘটনা কেউ আমলে না নিলেও প্রতিদিন একাধিক পরিবার হারাচ্ছে তার প্রিয় স্বজন। দূর্ঘটনার শিকার হয়ে নিঃশ্ব হচ্ছেন অনেকেই।
এ সকল বিষয়ে বিআরটিএ এর উপ-পরিচালক মো. মহসিন বলেন, অটোরিক্সার নিবন্ধন আমরা দেই না। এটা সিটি কর্পোরেশনের বিষয়। হাইকোর্ট তিন চাকার যান মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে এটা সত্যি, তবে সড়কে শৃঙ্খলা তৈরীর বিষয়টি পুলিশ বিভাগ দেখছে। গ্যাস চালিত তিন চাকার যান চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন পূর্বে কিছু গ্যাস চালিত যানবাহন নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল, এখন আমরা কোন গ্যাসের গাড়ি নিবন্ধন দিচ্ছি না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ খাইরুল আলম বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। একটি গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে পরিবহন না করাই ভাল। এটা যাত্রীদের বিবেচনায় আনতে হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT