3:01 pm , March 18, 2019
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ১২ টাকার ইনজেকশন এক হাজার টাকায় বিক্রি করার অপরাধে ২০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী তুর্কি মেডিকেল কর্ণারের মালিক মনিরুল ইসলামকে এই ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এদিকে এই ঘটনার পর ধরা পড়া ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে সকল ঔষধের দোকান বন্ধ করে দেয় ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা। রোগীদের জিম্মি করে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল সহ তিনটি এলাকায় টানা দুই ঘন্টা ফার্মেসী বন্ধ রাখে। ফলে অপরাধ করেও মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যায় ওই ব্যবসায়ী। গতকাল সোমবার নগরীর চাঁদমারী এলাকাধীন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে ফার্মেসী মালিকের এই প্রতারনা’র ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভয়ে প্রতিবাদের সাহস করেনি কেউ। জানাগেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা’র বাসিন্দা গৃহবধূ সনিয়া আক্তারকে মাতৃত্বজনিত কারনে বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গৃহবধূর সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য চিকিৎসক হাসপাতালের সামনে তুর্কি মেডিকেল কর্ণার থেকে ইফিড্রিল নামক ইনজেকশন কিনে আনতে বলেন। বেলা ১২টার দিকে ওই ফার্মেসীতে গেলে ফার্মেসী মালিক মনিরুল ইসলাম রোগীর স্বজনের কাছে জি-ইফিড্রিল ইনজেকশন এক হাজার টাকায় বিক্রি করে। বিষয়টি রোগীর ভাই একটি ওষুধ কোম্পানির সাবেক প্রতিনিধি রুবেল জানতে পেরে ফার্মেসী মালিকের কাছে অতিরিক্ত মূল্য রাখার কারন জানতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। অবশেষে রুবেল ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগ নিস্পত্তির চেষ্টা করেন। এ নিয়ে বিতর্ক চলার কিছু সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ওষুধ প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌছে অভিযান পরিচালনা করেন। তখন ওই ব্যবসায়ীকে অভিযানের হাত থেকে রক্ষা করতে বিকাল ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, চাঁদমারী ও সাগরদী এলাকার সকল ওষুধের দোকান বন্ধ করে দেন ফার্মেসী মালিকরা। এ কারনে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ২ ঘন্টা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে ড্রাগ এন্ড ক্যামিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি’র নির্দেশ এবং প্রশাসনের আশ্বাসে বিকাল ৫টায় ফার্মেসী গুলো খুলে দেয়া হয়। তবে ফার্মেসি মালিক জানিয়েছেন ঔষধটি অনেক দিন ধরে বাজারে নেই। তাই বেশি দামে কিনে এটি বিক্রিকরা হয়। চিকিৎসকরা প্রেসক্রাইব করার কারনেই বেশি দামে এটি কিনে বিক্রি করতে হয়। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা ড্রাগ প্রশাসনের সুপার এসএম সুলতানুল হাকিম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, যে ওষুধটির মূল্য ১ হাজার টাকা রাখা হয়েছে সে ওষুধটি বিগত এক বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তার পরেও বিভিন্ন দোকানে এগুলো মজুদ রেখে অতিরিক্ত মূল্যে তা বিক্রি করছে কিছু ব্যবসায়ী। যা বড় ধরনের একটি অপরাধ। ড্রাগ সুপার বলেন, মনিরুল ইসলাম জি-ইফিড্রিল ইনজেকশন দালালদের মাধ্যমে বেশি মূল্য দিয়ে সংগ্রহ করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে। তাছাড়া তুর্কি মেডিকেল কর্ণারে অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তির্ণ কিছু ওষুধ ও মেয়াদ উত্তির্ণ ড্রাগ লাইসেন্স পাওয়া গেছে। এসব অপরাধের কারনে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
