বেপরোয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবালের হুমকিতে আতংকে উজিরপুরের সংখ্যালঘু ভোটাররা বেপরোয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবালের হুমকিতে আতংকে উজিরপুরের সংখ্যালঘু ভোটাররা - ajkerparibartan.com
বেপরোয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবালের হুমকিতে আতংকে উজিরপুরের সংখ্যালঘু ভোটাররা

2:59 pm , March 18, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ উজিরপুর উপজেলার সংখ্যালঘু ভোটারদের ঘরবারি জ্বালিয়ে ভিটেমাঠি ছাড়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজুর রহমান ইকবালের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত এ বিদ্রোহী প্রার্থী এতদিন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানির অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের প্রচারনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোটারদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে। ইকবালের আতংকে তারা অনেকে এলাকা ত্যাগ করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মজিদের বাচ্চু এবং হুমকির স্বীকার একাধিক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মজিদ শিকদার বাচ্চু । দলের উর্ধতন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে দু-একদিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করবেন বলে বাচ্চু জানান।একাধিক ভোটার জানান ইকবালের পক্ষে কাজ করার জন্য তাদের ইকবাল নিজে হুমকি দিচ্ছেন। সরেজমিনে উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। এ কারনে উপজলার নেতা কর্মিদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ইকবাল। সাম্প্রতি উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ দত্ত নান্টু হত্যাকান্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত একাধিক আসামি হত্যাকান্ডে ইকবারে সম্পৃক্ততার কথা লিখিত জবানবন্দিতে উল্লেখ করায় চরম বিপাকে পড়েন বিতর্কিত ইকবাল। এরপর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেকটা বেসামাল হয়ে ওঠেন তিনি।
এলাকার ভোটাররা জানান, উপজেলার নির্বাচনী মাঠে ৩ বারের ইউপি চেয়ারম্যান এবং এক বারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও এলাকায় জনপ্রিয় জাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদ বাদল এবং আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মজিদ শিকদার বাচ্চুর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত ইকবাল বিকল্প পথ খুঁজে নেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা না করে এখন তিনি সংখ্যালঘু ভোটারদেরকে টার্গেট করেছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত সংখ্যালঘু ভোটাদের এলাকাগুলোতে প্রতিদিন ভোরে এবং রাতে তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মহড়া ও হুমকি দিচ্ছেন। ইকবাল নিজে উপস্থিত থেকে তাদেরকে বলছেন, ভোট দেয়া না হলে ভোটের পর এ সকল এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে এবং সকলকে ভিটেমাটি ছাড়া করা হবে। গত তিন দিনে ইকবাল উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের গজারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা, বাগরার পার, চকমান, মশাং, হারতা ইউনিয়নের কালবিলা, জামবারি, মাতার কান্দি এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। ইকবাল নির্বাচনী আচরণবিধি এবং দলের হাইকমান্ড এর কোন নির্দেশ মানছেন না। এ কারণে তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শুধুমাত্র দলীয় পদ থাকার কারণে ইকবাল এ ধরনের কর্মকান্ড করার সাহস পাচ্ছেন। দলীয় পদ থাকার কারণে তাকে স্থানীয় প্রশাসন এবং নেতা কর্মিরা কোন কিছু বলছে না। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সকলেই তার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা দলের কেউ না। বিষয়টি দলের শীর্ষ মহল অবগত রয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এ সকল বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য অভিযুক্ত ইকবালকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ইকবাল আক্তার বলেন, কিছু মৌখিক অভিযোগ এসেছে , আমরা তাৎক্ষনিক এ প্রার্থীদের সতর্ক করেছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT