কাটা পড়ছে হালিমা খাতুন স্কুলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা পড়ছে হালিমা খাতুন স্কুলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ - ajkerparibartan.com
কাটা পড়ছে হালিমা খাতুন স্কুলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ

3:43 pm , March 7, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক \ ছাত্রীদের জন্য বাথরুম নির্মানের অজুহাতে ঐতিহ্যবাহী হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বন উঁজারের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। কর্তনকৃত গাছের মধ্যে আমলকী, অর্জুন সহ বিভিন্ন ঔষধি, ফলজ ও বনজ গাছ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে গাছ কাটা হলেও জানেনা বন বিভাগ। তাছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে একের পর এক গাছ কাটার ফলে এক সময়ের গ্রীন ক্যাম্পাস নামে পরিচিত হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়টি এখন চারন ভূমিতে রূপ নিচ্ছে।সরেজমিনে দেখাগেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের পূর্ব পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটে বন উজার করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক দাড়িয়ে থেকে শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটাচ্ছেন। দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৫টি’র মত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র অনুসরন কিংবা বন বিভাগের অনুমতি নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানান, আর আগেও স্কুল ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের বড় আকারের প্রায় ৩০টির মত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নির্মান করা হয়েছে দ্বিতল ভবন। ক্যাম্পাসের পশ্চিম পাশে গ্রন্থাগার নির্মান করতে গিয়ে কাটা হয়েছে আরো ৫টি গাছ। প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব কোয়ার্টার নির্মানের জন্য ইতিপূর্বে কাটা হয়েছে রেইন্ট্রি সহ নারিকেল, সুপারী সহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ। এদিকে একের পর এক গাছ কর্তনের ফলে এক সময়ের হালিমা খাতুন স্কুলের সবুজ ক্যাম্পাস এখন চড়ন ভূমিতে পরিনত হয়েছে। যে কটি গাছ রয়েছে তাও এখন কেটে ফেলা হচ্ছে। তাছাড়া স্কুলের মধ্যে থাকা পুকুরটিও ভবন নির্মানের ফলে প্রায় বিলুপ্তির পথে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান বলেন, আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার। এদের জন্য পর্যাপ্ত বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে ১০টি বাথরুম রয়েছে তাদের ব্যবহারের জন্য। তাই আরো একটি বাথরুম বানাতে ৬/৭টি গাছ কাটা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে গাছ কাটার বিষয়ে বনবিভাগের কোন অনুমতির প্রয়োজন মনে হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে স্কুল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্কুলে মোট ১৫টির অধিক বাথরুম রয়েছে। তার পরেও বাথরুম নির্মানের জন্য প্রজেক্ট থেকে পাওয়া অর্থ হজম করতেই গাছ কেটে নতুন করে আরো একটি বাথরুম নির্মানের পায়তারা চলছে। অর্থচ ক্যাম্পাসের মধ্যেই দুটি বাথরুম রয়েছে পরিত্যক্ত। ওই দুটি বাথরুম সংস্কারের উদ্যোগ না থাকলেও প্রধান শিক্ষক গাছ কেটে নতুন বাথরুম বানাচ্ছেন। আর গাছ গুলো তিনি নিজেই বিক্রি এবং লাকড়ী বানাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সামাজিক বন বিভাগ বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, হালিমা খাতুন স্কুলটির নাম শুনেছি অনেক। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল। কিন্তু এখানে গাছ কাটা হচ্ছে এমন কোন বিষয় আমাদের জানানেই। আর আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতিও নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র রয়েছে। মন্ত্রনালয়ের গাছ কাটা সংক্রান্ত কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ কাটার অনুমতি দিবেন। তা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের বিধান রয়েছে। হালিমা খাতুন স্কুলে গাছ কাটার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT