একুশে পদক প্রাপ্ত গুনীজন নিখিল সেন’র পরলোক গমন একুশে পদক প্রাপ্ত গুনীজন নিখিল সেন’র পরলোক গমন - ajkerparibartan.com
একুশে পদক প্রাপ্ত গুনীজন নিখিল সেন’র পরলোক গমন

3:36 pm , February 25, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে পরলোক গমন করেছেন একুশে পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নিখিল সেন গুপ্ত (দিবাং লোকাং স্ব গচ্ছাতু)। গতকাল সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি.শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে নগর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখিল সেন হৃদ রোগ সহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন শেবাচিম হাসপাতালের করোনী কেয়ার ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন। নাটকে একুশে পদক প্রাপ্ত নিখিল সেন ১৯৩১ সালের ১৬ এপ্রিল বরিশালের কলস গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা যতীশ চন্দ্র সেনগুপ্ত ও মা সরোজিনী সেনগুপ্ত। তিনি পরিবারের ১০ সন্তানের মধ্যে ৪র্থ সন্তান ছিলেন।
জানা গেছে, নিখিল সেন বাংলাদেশের একজন প্রতিথযশা নাট্যকার ও সংস্কৃতি কর্মী ছিলেন। একাধারে তিনি একজন অভিনয় শিল্পি, নাট্যকার, সাংবাদিক, আবৃতিশিল্পী, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ। আবৃতিতে অবদান রাখে ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন নিখিল সেনগুপ্ত। তাছাড়া নাটকে বিশেষ অবদান রেখায় গুনিজন হিসেবে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক সম্মাননা অর্জন করেন প্রতিথযশা এই ব্যক্তি।
এছাড়াও ১৯৯৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সম্মাননা ও ২০০৫ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরী সম্মাননা অর্জন করেন নিখিল সেনগুপ্ত।
পারিবারিক সূত্র জানায়, নিখিল সেন কোলকাতা সিটি কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রী অর্জন করে বাংলাদেশ তথা নিজ জন্মভুমি বরিশালে ফিরে আসেন। তার জীবনের প্রথম নাটক ছিলো সিরাজের স্বপ্ন। ওই নাটকে সিরাজ চরিত্রে অভিয়ন করেছিলেন তিনি। সেই থেকে নাট্যজীবন শুরু হয় তার। নিখিল সেন নিজেই ২৮টি নাটকের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে কমিউনিস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। এছাড়া ৫২’র ভাষা আন্দোলনেও তার ভুমিকা ছিলো বলে পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন। তারা জানান, নিখিল সেন এর শেষকৃত্য’র বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সকলের আলোচনা ও পরামর্শ অনুযায়ী নগরীর আদি শ্মশানে প্রয়াতের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT