আসামীদের নতুন জবানবন্দিতে উজিরপুরের ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হত্যায় নতুন মোড় ! আসামীদের নতুন জবানবন্দিতে উজিরপুরের ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হত্যায় নতুন মোড় ! - ajkerparibartan.com
আসামীদের নতুন জবানবন্দিতে উজিরপুরের ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হত্যায় নতুন মোড় !

3:17 pm , February 20, 2019

মর্তুজা জুয়েল \ উজিরপুর উপজেলার আলোচিত জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হত্যার প্রায় সাড়ে চাঁর মাস পর এবার প্রকাশ্যে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোটি টাকা মূল্যের দুটি কষ্টি পাথরের মূর্তির গোপন বিরোধকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান নান্টুকে হত্যা করা হতে পারে এমন জবানবন্দি দিয়েছেন এজাহারভুক্ত ও গ্রেপ্তার হওয়া দুইআসামী। গ্রেপ্তার হওয়ার পরে আদালতে ওই দুই আসামী পূর্বের জবানবন্দি প্রত্যাহার করে নতুন করে দেয়া জবানবন্দিতে নাণ্টু হত্যায় এসেছে নতুন মোড়। তারা প্রথম জবানবন্দি পুলিশের নির্যাতন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবালের প্ররোচনায় দিয়েছিলেন এমন দাবী করে গত ৩ ফেব্রæয়ারী তা প্রত্যাহারের আবেদন এবং একই সথে নতুন জবানবন্দি দিয়েছেন এজাহারভ‚ক্ত আসামী কাওসার সেরনিয়াবাদ ও মামুন শাহ। মামলার নথি পর্যালোচনা দেখা গেছে, চেয়ারম্যান নান্টু হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জেল হাজতে থাকা এজাহারভুক্ত এ ৬ আসামী গত বছরের ৮ নভেম্বর একই আদালতে তাদের দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য পৃথক পৃথকভাবে লিখিত আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোঃ এনায়েত উল্লাহ্ আসামীদের দেওয়া আবেদনপত্রগুলো আমলে নিয়ে শুনানির তারিখ ধার্য রাখেন। আদালতে যারা আবেদন করেছেন তারা হলেন- জেল হাজতে থাকা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী শাকিল ইসলাম রাব্বি, কাওসার সেরনিয়াবাত, আ: কুদ্দুস, দীপক বালা, মামুন শাহ্ ও হাদিরুল ইসলাম হাদি। এদের মধ্যে, শাকিল ইসলাম, আ: কুদ্দুস ও হাদিরুল ইসলাম ব্যতিত অন্য ১ জন তাদের আবেদনপত্রে সরাসরি চেয়ারম্যন হাফিজুর রহমান ইকবালের সঙ্গে খুন হওয়া চেয়ারম্যান নান্টুর সঙ্গে কষ্টি পাথরের মূর্তির বিরোধ ও অপর ১ জন মামলা প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন। এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তাদেরকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও তারা দাবী করেন। লিখিত জবানবন্দীতেএজাহারভ‚ক্ত আসামী কাওসার সেরনিয়াবাদ ও মামুন শাহ উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সঙ্গে খূন হওয়া চেয়ারম্যান নান্টুর সঙ্গে দুটি কষ্টি পাথর নিয়ে গোপন বিরোধের কথা লিখিতভাবে বিচারককে জানান। সেখানে কাওসার উল্লেথ করেন,উপজেলার বরিয়ালির বাসিন্দা সান্টুর সাথে নান্টু ও চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সাথে ২টি কষ্ঠি পাথরের মূর্তি নিয়ে বরারবরই বিরোধ চলে আসছিল। পরে এ বিষয়ে সান্টুর কাছে জানতে চাইলে কাওসারকে সান্টু মূর্তির একটি অংশ দেখায়। এ সময় সান্টু তাকে জানায় মূর্তি দুইটি ইকবাল ভাইয়ের কাছে আছে। নান্টু দাদার কাছ থেকে ইকবাল ভাই মূর্তি নিয়ে এখন অস্বীকার করছে। অপর আসামী মামুন শাহ তার জাবনবন্দিতে বলেন, নান্টু খুন হওয়ার কিছুদিন পূর্বে বরিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা সান্টু এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবালের সাথে নিহত চেয়ারম্যান নান্টুর বিরোধ চলে আসছিল। নান্টুর সহযোগী ও ক‚লের বাজারের বাসিন্দা লাবাই বাড়ৈ’র মাধ্যমে মূর্তিটি ইকবালকে দেয়া হয়েছে। ইকবাল মূর্তিটি আত্মসাৎ করে মূর্তি নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। অপর এজাহারভ‚ক্ত আসামী দীপক বালা তার লিখিত জবানবন্দীতে বলেন, পুলিশের নিকট গ্রেপ্তার হওয়ার পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল ডিবি কার্য্যালয়ে আমার সাথে কথা বলে তার সাথে যাদের বিরোধ রয়েছে তাদের নাম মুখস্ত করায়। দীপক বালা নামের এক আসামী আদালতে দাখিলকৃত ওই আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যান নান্টু হত্যার ঘটনায় তিনি কিছুই জানেনা। কিন্তু নান্টু মাদক ব্যবসায় জড়িত এ সংক্রান্ত তিনি নিজের একটি ভিডিও বক্তব্য ইউটিউবে প্রকাশ করেন। এ কারনে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বরিশাল ডিবি অফিসে নিয়ে যায় এবং ডিবি অফিসে আটকে রাখা অবস্থায় তার সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল সাক্ষাত করে। মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা করা হবে বলে জানায়। এ সময় চেয়ারম্যান ইকবাল তাকে নান্টু হত্যাকান্ডে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল ইসলাম রাব্বি, টিটু, শেখর চৌধুরী, কাওসার সেরনিয়াবাত, মিরাজ সেরনিয়াবাত, হাদি, মামুন শাহ্ ও সাবেক ইউপি সদস্য তাইজুল ইসলাম পান্নু এই নাম গুলো মুখস্ত করিয়েছে। আর কেউ জিজ্ঞেস করলে এই নামগুলো বলবি। স্বাক্ষর চাইলে স্বাক্ষর করবি। তোর কোন ভয় নাই। তোর জন্য যা কিছু করা দরকার আমি করবো। এ কথা বলে ইকবাল দীপক বালাকে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং একটি লুঙ্গি ও গেঞ্জী কিনে দেয়। তাঁরা ওই আবেদনপত্রে আদালতে নিজেদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অনিচ্ছাকৃত দাবী করে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের (ছয় আসামী) প্রায় চারদিন আটকে রেখে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। নগ্ন করে ইলেকট্রিক শক দেয়ার কথা বলা হয়। তাছাড়া তাদের প্রত্যেককে ক্রসফায়ার ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও আটকে নির্যাতনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদালতে হত্যার দায় স্বীকারমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছে। আর এসবের নেপথ্যে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল ও তার মূর্তি আত্মসাতের টাকা। আদালতে আসামীদের দাখিলকৃত আবেদনপত্র গুলোর মাধ্যমে চেয়ারম্যান নান্টু হত্যাকান্ডের ঘটনা তদন্তে নতুন করে মোড় নিতে পারে। বেরিয়ে আসতে পারে হত্যার পিছনের অন্য কোনো রহস্য। ফেঁসে যেতে পারে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল। যিনি জল্লার জননন্দিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যার এক ঘন্টার মধ্যেই গনমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন হত্যায় কে বা কারা জড়িত। তবে এতো অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কিভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে চেয়ারম্যান নান্টুকে কারা হত্যা করেছিলো আর তিনিই বা কিভাবে জানলেন এমন প্রশ্নের উত্তর আজও সবার কাছে রয়েছে অজানা। এ নিয়ে উজিরপুরের একাধিক গন্যমান্য ও রাজনৈতিক নেতা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা নাম প্রকাশ করতে না চাইলেও বলেন, পুলিশ সঠিক তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আর যারা অতি উৎসাহী হয়ে তাৎক্ষনিক অন্যকে দোষারোপ করে মিডিয়ার বক্তব্য প্রদান, পুলিশ হেফাজতে আসামীকে নাম মুখস্ত করানোর দায়িত্বে পালন করেছেন, তাদের কি স্বার্থ রয়েছে তা পুলিশেকেই বের করতে হবে বলেও তারা দাবী করছেন। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উজরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত(তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান। ফরেনসিক ও ব্যালেষ্টিক রিপোর্ট হাতে পেলে চার্জশীট প্রদান করা হবে। আসামীদের নির্যাতনের ,মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টায় উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের কারফা বাজারে নিজ কাপড়ের দোকানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু। এ ঘটনায় পরেরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নিহত ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর বাবা শুকলাল হালদার বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন । মামলার এজাহারভুক্ত কমপক্ষে ২০ আসামী বর্তমানে বরিশাল জেল হাজতে রয়েছে। এছাড়া এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাতে মাদারীপুর জেলার কালকিনী উপজেলার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম নামে এক যুবক পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে এবং পুলিশের দাবী ছিলো নিহত যুবক ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর হত্যাকারী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT