ভোগান্তির অপর নাম ওজোপাডিকো টাকা ছাড়া মেলে না বিদ্যুতের সেবা ভোগান্তির অপর নাম ওজোপাডিকো টাকা ছাড়া মেলে না বিদ্যুতের সেবা - ajkerparibartan.com
ভোগান্তির অপর নাম ওজোপাডিকো টাকা ছাড়া মেলে না বিদ্যুতের সেবা

3:09 pm , February 7, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক \ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তির অপর নাম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১। যেখানে টাকা ছাড়া মিলছে না কোন গ্রাহক সেবা। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া থেকে শুরু করে অভিযানের নামে উৎকোচ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে নগরীর চাঁদমারী এলাকার এই বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার কারনে গ্রাহকদের মামলার হয়রানির শিকারও হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রমতে, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দিতে অঙ্গিকারবদ্ধ সরকার। এজন্য নানামুখি পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও কমে এসেছে। তবে সরকারের কঠোর নির্দেশনার পরেও গ্রাহক সেবা বৃদ্ধি পায়নি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর। এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খামখেয়ালী আর অনিয়মের কারনে গ্রাহক সেবা তলানীতে গিয়ে পৌছেছে। সেবা পেতে গ্রাহকদের পদে পদে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সাথে সীমাহীন ভোগান্তি আর জনদুর্ভোগ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিনত হয়েছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ এর লাইনে কোন ত্রæটি দেখা দিলে কিংবা সংস্কারের প্রয়োজন হলে তা সংস্কার বা মেরামতের দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। এমনকি কাজটি তারাই করছে। তবে সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের লাইন ম্যান সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। তা না দিলে মেরামত কাজ হচ্ছে না। আবার আজ মেরামতের প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পৌছে কোন কোন ক্ষেত্রে সময় লেগে যাচ্ছে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত। ততক্ষনে অন্ধকারে ভোগান্তিতে থাকতে হচ্ছে তাদেরকে। অপরদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের গ্রাহক ভোগান্তির আরেকটি ক্ষেত্র হচ্ছে নতুন মিটার নিয়ে বানিজ্য। ভুক্তভোগি কয়েকজন গ্রাহন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার পেতে আবেদন করেছেন। এজন্য মিটার ও ঘুষ সহ বিদ্যুৎ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারকে দিতে হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তার পরেও প্রায় দুই মাস ঘুরে মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন ওই গ্রাহকরা। আর এক্ষেত্রে বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের ফোন দেওয়া হলে তারা দেখছি বলেই অনিহা প্রকাশ করে মোবাইল কেটে দেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু গত প্রায় দেড় বছর ধরে বিলের কাগজ পাচ্ছে না ওই গ্রাহকরা। ফলে বকেয়া বিল জমে জমে পাহার তৈরী হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে বিলের কথা বলতে গেলে নানান সমস্যার কথা বলে ঘুরোঘুরি করছে। গ্রাহকদের অভিযোগ একজন নি¤œ শ্রেণির গ্রাহক মাস শেষে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়। যখন এক বছরের বিল এক সঙ্গে বকেয়া সহ দিতে হবে তখন কি হবে এমন প্রশ্ন তুলে গ্রাহকরা বলেন, এক বছর পর গ্রাহক যখন বিল দিতে পারবে না তখন তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। অবশ্য এটি বিদ্যুৎ বিভাগের উৎকোচ কিংবা কমিশন বানিজ্যের একটি অন্যতম উপায় বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের। এদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন অভিযানের নামে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তারা অভিযান পরিচালনা করলেও অভিযুক্ত গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করছে না। বরং জরিমানার নামে অবৈধভাবে আদায়কৃত অর্থ রাফাদফা করা হচ্ছে প্রায় প্রতিটি অভিযোগ। এর প্রতিটি ঘটনাই বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে থাকা আদালতের অগোচরেই চলছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র। সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি গ্রæপ রয়েছে যারা বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন অভিযান পরিচালনা করছে। এসময় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করনের পাশাপাশি বিপুল পরিমান ক্যাবল জব্দ করছে। কিন্তু সরকারি জব্দ তালিকায় উঠছেনা ওইসব ক্যাবল। বরং তা বিক্রি করে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে লাইনম্যান পর্যন্ত ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। তাছাড়া যাদের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে বরং মোটা অংকের টাকায় রফাদফা করা হচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কত কয়েক দিন পূর্বে জিলা স্কুল এলাকায় অভিযান চালায় বিদ্যুৎ বিভাগ। এসময় হানিফ নামের একজনের ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ খুঁজে পায় তারা। তাই ওই ঘটনায় মামলার ভয়ভিতি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রহকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা আদায় করে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্র-১ এর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদমারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। তার কক্ষ বাইরে থেকে আটকানো ছিলো। পিওন জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকায় মিটিংএ আছেন। তবে তার অবর্তনে দু’জন সহকারী প্রকৌশলী থাকলেও তারাও দুপুর পৌনে ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের সহকর্মীরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে জানিয়েছে দুই সহকারী প্রকৌশলী অফিসের কাজে বাইরে রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতির কারনে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানা যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT