১৭ বছর পর ফের বাকসু নির্বাচনের দাবী ১৭ বছর পর ফের বাকসু নির্বাচনের দাবী - ajkerparibartan.com
১৭ বছর পর ফের বাকসু নির্বাচনের দাবী

3:26 pm , February 2, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক \ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে। এক সময়ে দক্ষিণাঞ্চলে আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু এ কলেজটি। এখানকার ছাত্র সংসদ (বাকসু) এর নেতৃত্ব দেয়া আমির হোসেন আমু, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বলরাম পোদ্দার, বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, মাহাবুবুল হক নান্নু’র মত অনেক নেতাই আজ দেশ পরিচালনা সহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অথচ দক্ষিণাঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির আতুর ঘর খ্যাত বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) এর নির্বাচন হচ্ছে না প্রায় ১৭ বছর ধরে। কলেজটিতে সর্বশেষ ২০০২ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আমেজ পেয়েছিলো তৎকালিন শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে ছাত্র সংসদ না থাকায় এ অঞ্চল থেকে এখন আর সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কোন তুখর নেতা বা নেতৃত্বের। পাশাপাশি অধিকার থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে এসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবীতে পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠেছে কলেজ ভিত্তিক বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এমনকি তাদের এ দাবী ক্রমশই জোরালো হয়ে উঠছে। নির্বাচন চেয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি, বিক্ষোভ কর্মসূচি সহ নানান কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। এমনকি বাকসু নির্বাচনের প্রশ্নে একমত কলেজ প্রশাসনও। এখন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অভিভাবকদের সম্মতির অপেক্ষা মাত্র। সূত্রমতে, ‘সত্য প্রেম পবিত্রা’ এই মূল মন্ত্র নিয়ে ১৮৮৯ সালে বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন অশ্বিনী কুমার দত্ত। এর পর ১৯৫২ সালে এ কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা হয় বিএম কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু)। এর পর থেকেই বিভিন্ন সময় সংঘটিত সকল আন্দোলনের সম্মুখ ভাগে ছিলো বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে একটি দক্ষিণাঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত বাকসু’র ভিপি, জিএস ও এজিএসরা আজ জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে বাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় নেমে আসে স্থবিরতা। যার দরুন বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে বাকসু নির্বাচনের আমেজ নেই ছাত্র রাজনীতির আতুর ঘর ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজে। শুধু তাই নয়, বর্তমান শিক্ষার্থী ও কলেজ ভিত্তিক ছাত্র নেতাদের অনেকেই জানেন না বাকসু কি, কি এর কার্যক্রম ও বাকসু শব্দের পূর্ণার্থ। বিএম কলেজ সূত্রে জানাগেছে, তৎকালিন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ২০০২ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহমুলক ওই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটে ভিপি নির্বাচিত হন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সেন্টু। এছাড়া আবু জাফর সিকদার বাদল জিএস এবং নেয়ামুল ইসলাম এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি।
এদিকে বিএম কলেজ ছাত্র রাজনীতির একটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের সৃষ্টি হয় ২০১১ সালের জুন মাসে। ওই সময় বাকসু রাজনীতির ইতিহাস বিকৃত করে গঠন হয়েছিলো অবৈধ ছাত্র কর্ম পরিষদ। এ পরিষদকে অবৈধ ঘোষনা করে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেছিলেন সমাজ সেবা সম্পাদক অনিক সেরনিয়াবাত, সহ-পরিবহন সম্পাদক আতিকউল্লাহ মুনিম ও সহ-ম্যাগাজিন সম্পাদক বাবু সেরনিয়াবাত। এর তিন দিন পরে ছাত্র ইউনিয়ন বিএম কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিশির ও ছয় মাস পরে পদত্যাগ করেন এজিএস সৈয়দ আবিদ। নির্বাচনের দাবী জানিয়ে পাঁচজন পদত্যাগ করলেও তিন মাসের অবৈধ কর্মপরিষদ পার করে ৬টি বছর। অবশ্য এর মধ্যে প্রায় সময়েই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবী জানিয়ে আন্দোলন করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ আর কলেজ প্রশাসনের অনিচ্ছার কারনে আন্দোলন কখনই জমে ওঠেনি। তবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাকসু নির্বাচনের দাবী তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের হয়ে এরই মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী সম্বলিত স্মরকলিপি প্রদান এবং মিছিল ও সমাবেশ করে আসছে বিভিন্ন বাম পন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে ছাত্র মৈত্রী বিএম কলেজ শাখার সভাপতি জয় চক্রবর্তী বলেন, বাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকারের একটি জায়গা। যা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও দাবী আদায়ে সহায়ক ভূমিকা রেখে থাকে। বাকসু না থাকায় ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও অধিকারের সুষ্ঠু পরিবেশ হারিয়ে গেছে। আমরা চাই অচিরেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবী বাকসু নির্বাচন হোট। এজন্য আমরা আন্দোলন শুরু করেছি এবং দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। ছাত্র ইউনিয়ন বিএম কলেজ শাখার সভাপতি কিশোর কুমার বালা বলেন, বাকসু নির্বাচন হলো ছাত্র শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক চর্চার অন্যতম একটি মাধ্যম। ছাত্র প্রতিনিধি হয়েই জাতীয় রাজনীতির হাতে খড়ি হয়ে থাকে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না বিএম কলেজে। আমরা আগামী তিন মাসের মধ্যে বাকসু নির্বাচন চাই। তার আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও গঠনতন্ত্রের সংশোধ করতে হবে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আমরা আন্দোলনে নাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএম কলেজ ছাত্রনেতা ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ছাত্র সংসদ থেকেই একজন নেতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে এখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদের যে দাবী তুলেছে তাতে আমরাও একমত। ছাত্র কর্মপরিষদ থেকে পদত্যাগ করা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবাত বলেন, ২০১১ সালে অবৈধ কর্ম পরিষদের নামে যে কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিলো তা মুছতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। কেননা বাকসু নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি গণতান্ত্রিক অধিকারও। তিনি বলেন, আমরাও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবীর পক্ষে একমত। তবে আমরা তাদের আশা দেখাতে চাই না। চাই না তাদের আশা দিয়ে আরেকটা কলঙ্কিত অধ্যায়ের সৃষ্টি করতে। আমরা চাই ভোটের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ গঠন করে পুর্বের সেই কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে দিতে। যারা প্রকৃত ছাত্র তারাই যাতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারে সে ব্যবস্থা কলেজ প্রশাসনকেই করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান সিকদার বলেন, ইতিপূর্বে নির্বাচনের পরিবেশ ছিলোনা বিধায় বিএম কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচন হয়নি। তবে বর্তমানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে বিধায় আমরাও নির্বাচনে বিষয়ে ভাবছি। ঢাকসু নির্বাচনের পরে বাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা কলেজ ভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বসব। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে দিক নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ মো. শফিকুর রহমান সিকদার বলেন, আমরা চাইনা নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হোক। সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে বাকসু নির্বাচনের জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানান অধ্যক্ষ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT