চরফ্যাসনে অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ চরফ্যাসনে অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ - ajkerparibartan.com
চরফ্যাসনে অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ

3:15 pm , January 4, 2019

শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাশন ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝূঁকিতে থাকা ভোলার চরফ্যাসনে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ ইটভাটা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় আইন অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ঘনবসতি এলাকার ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভাটা মালিকরা অনুমতির আবেদন জমা দিয়েই প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে ভাটা স্থাপনেরও অভিযোগ রয়েছে।ইটভাটা স্থাপনের এই প্রতিযোগিতর ফলে ধ্বংস হচ্ছে সবুজ প্রকৃতি এবং বিরান হচ্ছে গাছপালা। ঝুঁকিতে পড়েছে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ঘনবসতি এলকার ফসলী আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
কিন্তু চরফ্যাসন উপজেলার ৩২টি ইটভাটার মধ্যে ২৮টিরই সরকারি অনুমোদন নেই।উপকূলজুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্র নিয়ন্ত্রনে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি ইটভাটার কাঠের জোগান দিতে ম্যানগ্রোভ বাগান উজার করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে ভাটা মালিকরা। উপজেলার কাঠ নির্ভর ২৮টি অনুমোদন বিহীন ইটভাটার জ্বালানীর যোগান দিতে উপকূলের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। আর অধিকাংশ ইটভাটাতেই পরিবেশ আইন না মেনে নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে এসব কাঠ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ৩২টি ইটভাটার মধ্যে ৫টির অনুমোদন রয়েছে। আর বাকি ২৮টি ইটভাটার কোন অনুমোদন নেই। সেসব ভাটার মালিকেরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইন বহিভূত বিধায় অনুমোদন নিতে পারেননি। এদিকে এ.অভি , উপকূল, মাইশা-১, মাহাজন-১ এবং চমকসহ এই ৫টি ইটভাটার ইট পোড়ানোর ছাড়পত্র নিয়ে পরিচালিত হয়ে থাকলেও বাকি ২৮টি ইটভাটার কোনটিই নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। এসব ইট ভাটা গুলোর মধ্যে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে রয়েছে, মেঘনা ,শানিমা-১ শানিমা-২ , যমুনা ,নীলা ,পদ্মা,শাপলা-১,শাপলা-২,সিফাত ,জনতা ,তারা ,ফ্যাসন ,আমান ,নীলিমা ,মধুমতি , বকসী ,বেতুয়া ,আখন ,তাজ ,রাত্রী ,মহাজন-২, মাইশা-২, জাহান ,আলী, মা ও রুপালী ব্রিকস।
এসব ইটভাটার ব্যারেল ও বালি দিয়ে তৈরি চিমনি বিধায় ইটভাটাকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।এখন অনুমোদন না থাকলেও ভাটা মলিকরা মোট অংকের টাকার বিনিময় পরিবেশ অধিপ্তরের কর্তাদের ‘ম্যানেজ’করেই ইটভাটাগুলোর অবৈধ উৎপাদন ও বিপনন অব্যহত আছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানাগেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় , অবৈধ অধিকাংশ ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নেই। ভাটাগুলোর বেশির ভাগই স্থাপিত হয়েছে ঘনবসতি এলাকায়। লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় ওইসব এলাকার অনেক মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইটভটা গুলোতে দেখা যায় হাজার হাজার মন কেওড়া কাঠ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের স্তুপ সাজানো রয়েছে।
ইট ভাটা মালিক সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত ১ চিমনির একটি ভাটায় এক মৌসুমে ২৭ থেকে ২৮ লাখ ইট তৈরি হয়। আর দুই চিমনির ভাটায় এক মৌসুমে ৫০ লাখ পর্যন্ত ইট তৈরি করা সম্ভব। এক লাখ ইট তৈরিতে কাঠ লাগে ২ হাজার মণ। সেই হিসেব অনুযায়ী উপজেলার ইট-ভাটাগুলোতে কোটি কোটি মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তবে প্রকৃত হিসেব এর চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, অবৈধ ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে। আচিরেই জেলার সব কয়টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালিত হবে। ইট পোড়ানোর বৈধ কাগজ পত্র না থাকলে সেসব ইট ভাটা গুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, জনবসতি এলাকার ফসলী জমিতে ইট পোড়ানোর কোন সুযোগ নেই।খুব শ্রীঘ্রই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT