জেলা ছাত্রলীগ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক জেলা ছাত্রলীগ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক - ajkerparibartan.com
জেলা ছাত্রলীগ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক

2:50 pm , December 21, 2019

 

সাইদ মেমন ॥ ত্যাগের পুরস্কার পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক। তৃনমূলের কর্মী থেকে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী পরিষদে স্থান করে নিয়েছেন ৮০ দশকের এই নগরীর ছাতনেতা এই কৃতি সন্তান। ৬৯ এর গন অভ্যূত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ দেশের প্রতিটি আন্দোলনের অগ্রসৈনিক এ্যাড. নানকের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ৬৯ সালে নগরীর আছমত আলী খান (একে স্কুল) ইনস্টিটিউটে পড়ার সময়। ওই সময় স্কুল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নানক। একদশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আইয়ুব সরকারের পতনের প্রচারনায় নগরীতে মুখর ছিলেন কিশোর এ্যা. নানক। একে স্কুল ছাত্র সংসদের আহবায়ক ছিলেন তিনি। একই বছর একে স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ভর্তি হন। ১৯৭১ সালে পাকিস্থান বিরোধী মিছিল মিটিং করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় জানুয়ারীতে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হন তিনি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষনের পর কিশোরদের সংগঠিত করে যুদ্ধে অংশ নেন এ্যাড নানক। বীরদর্পে হানাদার মুক্ত মাতৃভুমিতে ফিরে এসে মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন লাল সবুজের পতাকা। ১৯৭৪-৭৫ পর্যন্ত তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এবং সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রতিবাদ মিছিল করে দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ করেন তিনি। ৮১ সালে ছাত্রলীগের ব্যানারে বিএম কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন। দমে থাকেননি তিনি। সাংগঠনিক দক্ষতার কারনে ছাত্রলীগে কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারন সম্পাদক হন তিনি। পরে যুবলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক পদ হয়ে সাংগঠনিক দক্ষতায় যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক। দুঃসময়েও যুবলীগকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। এরপর জনগণে রায়ে সব্যসাচী সাংসদ হন এ্যাড. নানক। ওই সময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে স্বশস্ত্র বিডিআরদের নিরস্ত্র করণের ভূমিকা রাখতে পিছু পা হননি এ্যাড. নানক। বিডিআর বিদ্রোহ দমনে তিনি সফলতা দেখিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে এ্যাড নানক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেও দলে তার অসামান্য অবদানের কারনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তাকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে পদোন্নতি দেন। দলের ২১তম কাউন্সিলের আগে পরবর্তী সাধারন সম্পাদক হিসেবে অনেকেই তাকে সম্ভাব্য তালিকায় রেখেছিলেন। তবে দলের সভানেত্রী সাধারন সম্পাদক পদ অপরিবর্তিত রাখলেও পদোন্নতি দিয়েছেন নিবেদিত প্রান নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানককে। দলের দুই দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলনের শেষদিন গতকাল শনিবার দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৯ সদস্যের যে প্রেসিডিয়াম তালিকা ঘোষনা করেছেন সেখানে স্থান পেয়েছেন ত্যাগী নেতা নানক। এবার নতুন করে যে ৩ জন প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তাদের অন্যতম জাহাঙ্গীর কবির নানক। নানকের ঘনিস্ট বন্ধু বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিচুর রহমান দুলাল বলেন, তৃনমূলের একজন কর্মী থেকে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী পরিষদে স্থান পেয়ে নানক প্রমান করেছেন শেখ হাসিনা ত্যাগের মূল্যায়ন করেন। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং সব শেষ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাহাঙ্গীর কবির নানককে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরামে নিয়েছেন। শুধু দলেই অবদান নয়, স্কুল জীবনেই ৬৯ এর গনআন্দোলনে অংশ নেন নানক। এরপর ৭১ সালে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন তিনি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ দেশের প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলনে সোচ্চার নানক একজন গেজেটভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের ভাতাভোগীও।
দলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক থাকাবস্থায় ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নানক। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার নানককে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়। একই আসন থেকে ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বার এমপি নির্বাচিত হন তিনি।
আগৈলঝাড়া উপজেলার শেরাল গ্রামের বাসিন্দা ব্রিটিশ রেলওয়ের রানাঘাট বেলডাঙ্গার কর্মকর্তা বজলুর রহমান সেরনিয়াবাতের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান এ্যাড নানক। ব্যক্তি জীবনে স্ত্রী ছাড়াও এক কন্যা সন্তানের জনক। সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরামে এ্যাড নানক ছাড়াও বরিশালের আরেক কৃতি সন্তান ড. শাম্মী আক্তার পেয়েছেন দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ। এর আগের কমিটিতেও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন ড. শাম্মী। তার বাবা প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এবং বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি।
ঢাকা বিভাগের মাদারীপুরের বাসিন্দা হলেও আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাবাউদ্দিন নাসিমও এবার পদোন্নতি পেয়ে দলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হয়েছেন। এদিকে বরিশালের কৃতি সন্তান আমির হোসেন আমু, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তোফায়েল আহমেদকে দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT