পুলিশের যোগসাজসে চলছে নুরুর জাল টাকার ব্যবসা পুলিশের যোগসাজসে চলছে নুরুর জাল টাকার ব্যবসা - ajkerparibartan.com
পুলিশের যোগসাজসে চলছে নুরুর জাল টাকার ব্যবসা

3:06 pm , December 17, 2019

 

পরিবর্তন ডেস্ক ॥ দীর্ঘ বছর ধরে জাল টাকার ব্যবসা করছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দী ইউনিয়নের সটিখোলা গ্রামের নাজমুল হাসান নুরু। তার শ্যালকও জাল টাকার ব্যবসা করেন। অভিযোগ উঠেছে একধিক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে বছরের পর বছর ধরে জাল টাকার ব্যবসা করছেন তিনি। সম্প্রতি নাজমুল হাসান নুরু তার নিকটাত্মীয়কে ৬০ হাজার টাকার জালনোট দিয়ে ধরা পড়েন। এনিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ হয়। একাধিক সূত্র জানায়, নুরুর শ্যালক কয়েক বছর আগে বাকেরগঞ্জে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে বিচ্ছেদ ঘটে। মেয়ে পক্ষকে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই দুই লাখ টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকার নোট জাল ছিল। পরবর্তীতে ওই টাকা নুরুর কাছে ফেরৎ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর বলেন ‘ নুরু জাল টাকার ব্যবসা করে শুনেছি। আমার কাছে অনেকে অভিযোগ করেছি তবে আমি চোখে দেখিনি। এখন পুলিশের সাথে সখ্যতা করে যদি কেউ এ ধরণের কাজ করে তাহলে আমাদের কি করার আছে।
চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী স্থানীয় জনতা নুরু খানকে ৮ হাজার টাকার জাল নোটসহ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল আসার পূর্বে কৌশলে পালিয়ে যায় নুরু খাঁ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরও করা হয়। ওই সময় শর্শী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জসিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন ‘সুমন খান নামে এক ব্যক্তি বরিশাল নগরের রুপাতলি এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তার সাথে নুরু খানের ভাল সম্পর্ক ছিলো। সুমন মাঝে মাঝে নুরু খানের বাসায় গিয়ে থাকতেন। গতকাল দুপুরে নুরু খানের জন্য মাসুম বিল্লাহ নামের একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকায় একটি টিভি ক্রয় করেণ সুমন। ক্রয়ের সময় ৯ হাজার টাকা (এক হাজার টাকার ৯টি নোট) বিক্রেতাকে নগদ পরিশোধ করা হয়। পুর্ব পরিচিত থাকায় টাকা গ্রহনের সময় পরীক্ষা করা হয়নি। টিভি নিয়ে কিছু দূর যাবার পরে বিক্রেতা দেখতে পান ৯ হাজার টাকার মধ্যে ৮টি নোটই জাল। পরে স্থানীয় লোকজন নুরু খান ও সুমনকে ধরে উত্তম মাধ্যম দেয়। এর পর পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক হাজার টাকার ৫টি নোট উদ্ধার করা হয়। বাকী চার হাজার টাকা কে বা কারা নিয়ে গেছে তা জানা যায়নি।
এদিকে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানান গেছে নুরু খান অনেকের সাথে জাল টাকা ধরিয়ে দিয়ে প্রতারণা করেছেন। কিছু দিন পূর্বে তালুকদার হাটের ওষুধ ব্যবসায়ী মোজাম্মেলের কাছ থেকে ৩৩০ টাকার ওষুধ ক্রয় করে এক হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দেন। বিক্রেতাকে তাকে ৬৭০ টাকা ফেরৎ দেন। কিন্তু পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় নোটটি জাল। এর পর ওষুধ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল নুরু খানকে ডেকে এনে টাকা আদায় করেন।
গত ১৮ জানুয়ারী ধলু মল্লিক নামে এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকার জাল নোট ধরিয়ে দেয় নুরু। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই টাকা ফেরৎ নেয় নুরু। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন ‘জালনোটের মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT