ধর্ষিতা ১২ বছরের শিশুর পেটে ৯ মাসের সন্তান ধর্ষিতা ১২ বছরের শিশুর পেটে ৯ মাসের সন্তান - ajkerparibartan.com
ধর্ষিতা ১২ বছরের শিশুর পেটে ৯ মাসের সন্তান

2:48 pm , December 13, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ধর্ষনের পর অন্তঃস্বত্তা হওয়ায় ৪র্থ শ্রেনী পড়–য়া ১২ বছর বয়সি এক শিশু স্কুল ছাত্রীকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ দুই প্রতিবেশী এই ধর্ষনের ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ শিশু ও তার মায়ের।
বর্তমানে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই স্কুল ছাত্রী প্রসব বেদনায় হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বর রাতে শিশুটিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে এ হাসপাতালের প্রসুতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বিছানায় প্রসব বেদনায় কাতর শিশুটির চোখে-মুখে শুধুই বিস্ময়ের ছাপ। মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে সে। অপরিনত বয়সে অন্তঃস্বত্তা হওয়ায় ওই ছাত্রীর জীবন ঝূঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এদিকে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে সহযোগিতা করবেন বলেও আশ^স্থ করেছেন তিনি।
শিশুটি জানায়, প্রায় ৯ মাস আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথম ধর্ষন করে। অপর এক নারী শিক্ষক এই ধর্ষনে সহায়তা করে। এরপর এই খবর স্থানীয়ভাবে লোকমুখে জানাজানি হলে দুই প্রতিবেশী জুয়েল ও রনি বাসায় প্রবেশ করে একাধিকবার তাকে ধর্ষন করে। এ সময় বাসায় কেউ ছিল না।
এঘটনার পর নির্যাতিতার মা প্রতিবাদ করে বিচার চাইলে তাকেও মারধর করার অভিযোগ ওঠে ধর্ষনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযুক্তদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। শিশুটিকে হাসপাতালে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্ত দেয়া মানবাধিকার কর্মী মো. সুজনসহ হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর বিচার দাবী করেছেন।
শের-ই বাংলা মেডিকেলের প্রসুতি বিভাগ-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মৃদুলা কর জানান, শিশুটির গর্ভের প্রকৃত অবস্থা জানতে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টাকার অভাবে তার কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেনি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই তার শারীরিক অবস্থা জানা যাবে। তবে অপরিনত বয়সে অন্তঃস্বত্তা হওয়ায় ওই শিশুর জীবন ঝূঁকিতে রয়েছে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এদিকে এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে ধর্ষনকারী শিক্ষক ও দুই প্রতিবেশীর নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি বলে জানায় নির্যাতিতা। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেয়ার আগে ফরিদপুর ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, স্থানীয় প্রভাবশালী এবং স্কুলের শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের নাম বলতে নিষেধ করে।
প্রধান শিক্ষকের নাম বললে সে কোন বিচার পাবে না এবং লোকে তাকেই বরং খারাপ জানবে বলে তাকে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করেন শিশুটি। দায়সারা গোছের তদন্ত শেষে পুলিশও ওই মামলায় জুয়েল নামে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ওই মামলায় বর্তমানে জুয়েল কারাগারে রয়েছে।
সংবাদ কর্মীদের কাছে এ খবর জানার পরপরই বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতিতাকে দেখতে হাসপাতালে যান বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি ওই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রতিশ্রুতি দেন। মামলার অভিযোগপত্র থেকে কেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্যদের বাদ দেয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন পুলিশ সুপার।
নির্যাতিতা ওই শিশু ৪ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। তার মা ‘ঝি’ (গৃহপরিচারিকার) কাজ করে এবং বাবা শাঁক তুলে বিক্রি করে। প্রধান শিক্ষকের ধর্ষনের শিকার হয়ে সে পাশের একটি স্কুলে গিয়ে ভর্তি হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকরা ফের তাকে ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনে। তবে অন্তঃস্বত্তা হওয়ায় এবার ৪র্থ শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষাও দিতে পারেনি সে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT