কলিং বেল লাগাতে দেরী হওয়ায় আ’লীগ নেতার মারধরের শিকার ইলেক্ট্রিশিয়ান কলিং বেল লাগাতে দেরী হওয়ায় আ’লীগ নেতার মারধরের শিকার ইলেক্ট্রিশিয়ান - ajkerparibartan.com
কলিং বেল লাগাতে দেরী হওয়ায় আ’লীগ নেতার মারধরের শিকার ইলেক্ট্রিশিয়ান

2:43 pm , December 10, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক \ কলিং বেল লাগাতে দেরি হওয়ায় এক ইলেক্ট্রিশিয়ানকে মারধর করে তার কপাল ফাঁটিয়ে দিয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির। ঘটনাটি গত সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর খান সড়ক এলাকায় ঘটেছে। এদিকে এ ঘটনায় মহানগর আ’লীগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত সভাপতি হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নেতাদের কাছে অভিযোগ দেয়ায় ওই ইলেক্ট্রিশিয়ানকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফের দুই দফা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে আ’লীগ নেতা ও চায়না বেগমের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলন জানান, ‘১৩ নম্বর ওয়ার্ড খান সড়কের আসলাম খানের ডিস সংযোগের কাজের পাশাপাশি ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন তিনি। গত সোমবার সকালে খান সড়কের চায়না বেগম তার বাসায় কলিং বেল লাগিয়ে দিতে বলেন। দিনভর ডিস লাইনের কাজে ব্যস্ত থাকায় বিকেলে ওই বাসায় কলিং বেল লাগাতে যান তিনি।
এ সময় দেরী করে কলিং বেল লাগাতে আসায় চায়না বেগম তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এর প্রতিবাদ করলে চায়না তাকে জুতা দিয়ে পিটিয়েছে। এছাড়াও মুঠোফোনে সে হুমায়ুনকে খবর দেয়। কিছুক্ষনের মধ্যে হুমায়ুন ওই বাসায় গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে মিলনকে মারধর করে কপাল ফাঁটিয়ে দেয় এবং মুখমন্ডল সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
ওই রাতেই বিষয়টি মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা জামান এবং মঙ্গলবার সকালে সিটি মেয়রের ঘনিষ্টজন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলকে অবহিত করেন। টুটুল এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয় হুমায়ুন ও চায়না বেগম। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিলনকে আবার রাস্তায় একা পেয়ে তার উপর চড়াও হয় চায়না। স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান এবং আব্দুল কুদ্দুসের উপস্থিতিতে চায়না কারো কাছে নালিশ করে তার কিছুই করতে পারবে না বলে হুমকী দেয়।
এর কিছুক্ষন পর ওই সড়কের কাজী স্টোর্সের সামনে মিলনকে আবার একা পেয়ে নেতাদের কাছে নালিশ করার অভিযোগে তাকে দেখে নেয়ার হুমকী দেয়। এ সময় ওয়ার্ড নেতা হুমায়ুন আঙ্গুল উচিয়ে প্রকাশ্য হুমকী দিয়ে বলেন, ‘আমি হুমায়ুন কাউরে ধরলে কিন্তু ছাড়ি না’। এরপর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভ‚গছেন ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলন।
এদিকে মারধর এবং দফায় দফায় হুমকী দেয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে মিলন আবারও হেনস্তা করার চেস্টা করে হুমায়ুন। পরে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে বেঁচে যায় মিলন। অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন সিকদার বলেন, মিলন আমারই লোক। সে আমার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করে বেড়ায়। গত সোমবার সে এক বাসায় ঝামেলা করে। ওই ঘটনা সমঝোতা করতে গিয়ে মিলনকে দুটি চর দিয়েছি। এ সময় পড়ে গিয়ে তার একটু চামড়া উঠে গেছে। কিন্তু এ ঘটনা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবী হুমায়ুনের।
ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলনকে মারধরের ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি মো. নুরুল ইসলাম।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT