চরফ্যাসনে প্রবাসীকে আটক করে থানায় চেক ও ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ চরফ্যাসনে প্রবাসীকে আটক করে থানায় চেক ও ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ - ajkerparibartan.com
চরফ্যাসনে প্রবাসীকে আটক করে থানায় চেক ও ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ

2:53 pm , December 6, 2019

চরফ্যাসন প্রতিবেদক ॥ চরফ্যাসনে প্রবাসী যুবক মুরাদকে থানায় আটক অবস্থায় ব্যাংকে নিয়ে হিসাব খোলা হয়েছে। সেই হিসেব থেকে চেক উত্তোলন করে থানা হাজতে চেকের ফাঁকাপাতা এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। এই পর্ব শেষে মাতাল অবস্থায় আটক দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় মুরাদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চরফ্যাসন থানা পুলিশ এমন অপকর্ম করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুরাদ। মুরাদ হোসেন চর আইচা গ্রামের আবদুর রশিদ ফরাজির ছেলে, সে সিঙ্গাপুর প্রবাসী। আদালত থেকে জামিনে মুক্ত মুরাদ অভিযোগ করেন, গত ৩ ডিসে¤র, মঙ্গলবার সন্ধ্যার চর আইচা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আইচাগামী বাস উঠেন মুরাদ। বাস থেকে কথা বলার অজুহাতে তাকে নামিয়ে আনেন পূর্ব পরিচিত দুই যুবক কবির হোসেন রহিম ও আবদুর রাজ্জাক। জিন্নাগড় ইউনিয়নের চক বাজার এলাকার আবদুর রব হাজির ছেলে কবির ও রাজ্জাক। বাবা আবদুর রব হাজির সহায়তায় কবির ও রাজ্জাক কৌশলে মুরাদকে বিআরডিবি এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক করেন। আটক মুরাদের কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবী করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে থানা থেকে পুলিশ ডেকে মুরাদকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর চরফ্যাসন থানার এএসআই মেহেদী সঙ্গীয় একজন কনস্টেবলসহ মুরাদকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে সেখান থেকে থানা হাজতে আনেন। থানায় আনার পর মুরাদের জরুরী কাগজপত্রসহ ব্যক্তিগত ব্যাগটি এএসআই মেহেদীর কাছে জমা রাখেন। থানায় আনার পর এএসআই মেহেদী মোবাইল ফোনে মুরাদের স্ত্রী রীমাকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থানায় আসার জন্য বলেন। কিন্ত রীমা এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। পরদিন ৪ ডিসেম্বর বুধবার সকালে মুরাদ চরফ্যাসন থানা হাজতে আটক। এসময় প্রতিপক্ষ কবির, রাজ্জাক ও তাদের বাবা রব হাজি এএসআই মেহেদীর কাছে জমাকৃত ব্যাগ থেকে মুরাদের পাসপোর্ট, ছবি অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে উত্তরা ব্যাংক চরফ্যাসন শাখায় মুরাদের নামে একটি হিসেব খোলার প্রক্রিয়া শেষ করে দুপুরের দিকে মুরাদকে থানা হাজত থেকে বের করে ব্যাংকে এনে স্বাক্ষর নেয়া হয়। স্বাক্ষর নেয়ার পর এএসআই মেহেদী ব্যাংকের দোতলার সিড়ি থেকে মুরাদকে বুঝে নিয়ে আবার থানা হাজতে রাখেন। কিছুক্ষণ পর থানা হাজতে উত্তরা ব্যাংক চরফ্যাসন শাখায় সদ্য খোলা তার নামীয় ০৪০৯১১১০০০০৪৫০৩ নম্বর হিসেবের চেকের ফাঁকা পাতা এবং একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়। এসব অপকর্ম শেষে সন্ধ্যার পর মুরাদকে জিম্মায় নেয়ার জন্য স্বজনদের খবর দেয়া হয়। স্বজনরা থানায় আসলেও মুরাদকে আর জিম্মায় না দিয়ে সন্ধ্যার পর নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে মাতাল ও বেসামাল পড়ে থাকা অবস্থায় ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় ধৃত করা হয়েছে মর্মে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে ওইরাতে চরফ্যাসন থানার নন এফআর প্রসিকিউশন নং ৫৫/১৯ধারা ১৮৬১সালের পুলিশ আইনের ৩৪(৬) আদালতে পাঠান। রাতে মুরাদকে আদালত থেকে আবার থানা হাজতে পাঠানো হয়। পরদিন ৫ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবার বিজ্ঞ আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেন। মুরাদ আদালত থেকে জামিনে মুক্তির পর গতকাল শুক্রবার প্রতিপক্ষ এবং পুলিশের অপকর্মের বিষয়টি জানাজানি হয়। উত্তরা ব্যাংক চরফ্যাসন শাখা ব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান মুরাদের নামে ৪ ডিসেম্বর তারিখে একটি হিসেব খোলা এবং চেক উত্তোলনের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। এই ব্যাংক কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, হিসেব খোলা এবং চেক উত্তোলন নিয়ে যাই হউক,সবকিছু ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সংরক্ষিত আছে। মুরাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে এএসআই মেহেদী এবং ডিউটি অফিসার নাজমুল হোসেন কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তবে ওই দিন চরফ্যাসন থানার ওসি সামসুল আরেফিন ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে ছিলেন ওসি তদন্ত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস। ওসি তদন্ত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস এমন কোন ঘটনার বিষয় তাঁর জানা নেই বলে জানান।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT