সম্পাদক পদে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ অপ্রতিদ্বন্দ্বি সম্পাদক পদে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ অপ্রতিদ্বন্দ্বি - ajkerparibartan.com
সম্পাদক পদে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ অপ্রতিদ্বন্দ্বি

2:55 pm , December 5, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আর মাত্র দু’দিন। এর পর মহানগর আ’লীগের বহুল কাঙ্খিত সেই মাহেন্দ্র ক্ষন। কারন দীর্ঘ ৭ বছর পর ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নগর আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আয়োজন ও প্রস্তুতি সবই সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যে। এবার শুধু অপেক্ষা নতুন নেতৃত্ব দেখার। প্রতিবারের চেয়ে সম্মেলন ঘিরে এবার যেন একটু বাড়তিই উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নব্য কমিটিতে যারা স্থান পেতে যাচ্ছেন তারা সবাই এই মুহুর্তে আওয়ামীলীগের শ্রেষ্ঠ কান্ডারী এবং উড়ে এসে জুড়ে বসা কিংবা হঠাৎ নেতারা এ কমিটিতে স্থান পাবার কোন সম্ভাবনাই নেই। অন্য দিকে কমিটির শীর্ষ পদ পেতে যারা মাঠে রয়েছেন তারা বেশ হেভিওয়েট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ন। যে কারনে সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষের মধ্যেও আগ্রহ ও উৎকন্ঠার শেষ নেই। দল ও দলের বাইরে সবার একটাই কৌতুহল কে বসতে যাচ্ছেন শীর্ষ দুটি পদে। সভাপতি পদে প্রকাশ্যে কেউ প্রার্থীতা দাবি না করলেও এ পদে আলোচনায় আছেন ৫ জন শীর্ষ নেতা। যে কারনে পদটি পেতে চলছে কৌশলী ও ঠান্ডা মাথার লড়াই। অন্য দিকে সাধারন সম্পাদক পদে সিটি মেয়র বর্তমান নগর আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অবস্থান মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ায় এই পদে অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এ নিয়ে আলোচনার টেবিলে তেমন কোন উত্তাপ নেই। তবে দলের অভ্যন্তরীন হিসেব নিকাশে সভাপতি পদে প্রত্যাশিত কেউ আসীন না হলে আকর্ষন তথা জৌলুস হারাতে পারাতে পারে এ পদটিরও। দলীয় সুত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সদর আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম, সাবেক সাংসদ হিরন পতœী জেবুন্নেছা আফরোজ, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম, সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর। এদের মধ্যে গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এবং একেএম জাহাঙ্গীর দৌড়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও তারাও আলোচনায় আছেন। তবে একেএম জাহাঙ্গীর কে কিছু দিন আগেই পুরস্কৃত/মূল্যায়ন করেছে দল তথা সরকার। বরিশাল আদালতের পিপি নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাকে। ফলে কমিটির প্রশ্নে স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় পুরস্কার না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আলোচনার টেবিলে পড়ে থাকেন আরো ৩ জন। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ দক্ষতা ও যোগ্যতা এবং নেতা কর্মী বিচ্ছিন্নতার বিচারে সভাপতি পদের মত গুরুত্বপূর্ন পদের জন্য পূর্ন নম্বর পাওয়াটা হবে অলৌকিক ঘটনা। দক্ষ সংগঠক ও ক্লীজ ইমেজের নেতা হিসাবে সে ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম। এছাড়া বিগত কমিটিতে পূর্ন মেয়াদে নগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে বিতর্কেও উর্ধ্বে উঠে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করায় তাকে নিয়ে কেন্দ্র তথা হাই কমান্ডকে বেশ ভাবনায় যে ফেলবেন তা নিশ্চিত। অন্য দিকে সভাপতির পদ নিয়ে হিসাবের খাতাটা লম্বা সেই জাহিদ ফারুক শামীম কে ঘিরে মতভেদে রয়েছে নানা যুক্তি তর্ক। দলের এক অংশের দাবী নেত্রী তাকে সংসদ সদস্য থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছেন। সুতরাং সভাপতির পদটি তাকে দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। তাছাড়া মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে সারা দেশে ও বিদেশে ব্যস্ত থাকতে হয়। যে কারনে তিনি নেতাকর্মী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন থাকেন। এ ধরনের লোক মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে আসীন হবার যোগ্যতা রাখেন না। তাছাড়া তিনি বর্তমান জেলা কমিটির সহ সভাপতি। এই সমালোচনার জবাব অবশ্য কড়া জবাব দিয়েছেন জাহিদ ফারুক শামীমের সমর্থকরা। তারা বলেন জেলা থেকে মহানগরে না আসার বিষয়টি দলের গঠনতন্ত্রে নেই। তাছাড়া তাকে যখন জেলার সহ সভাপতির পদ দেয়া হয়েছিলো তখন তিনি সদর আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন না। তাছাড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য হওয়ায় তার রাজনীতি এখন অনেকটাই মহানগর কেন্দ্রীক। সে হিসাবে এবং সব কিছু মুল্যায়নে তিনিই সভাপতি পদের যোগ্য ব্যক্তি। এ বিষয়ে এ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, আলোচনা পর্যালোচনা অনেক হচ্ছে এবং হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে পদ পদবী দেবার একক ক্ষমতা দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বহন করেন। সুতরাং এ বিষয়ে একদিন আগেও নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারবে না। আমাদের কাজ হচ্ছে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে একটি জমজমাট সম্মেলন আয়োজন করা। আর আমরা সেই লক্ষেই কাজ করছি। জানা গেছে, ২৫ হাজারেরও বেশী কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের সম্মেলন। ৮ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি দলের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের। এছাড়া প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন পার্বত্য শান্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) ও জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। দ্বিতীয় অংশে হবে কাউন্সিল। যদি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন হয় তাহলে ৩৭১ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। তবে সিলেকশন নাকি ইলেকশন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উল্লেখ্য সর্ব শেষ ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন। এর ৪ বছর পর ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বও ৭১ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠ করা হয়। গত ১৯অক্টোবর শেষ হয়েছে এই কমিটির মেয়াদ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT