ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণাঞ্চলের ৬শ ইটভাটা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণাঞ্চলের ৬শ ইটভাটা - ajkerparibartan.com
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণাঞ্চলের ৬শ ইটভাটা

2:58 pm , November 20, 2019

খান রুবেল ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বিশাল অংকের ক্ষতিতে ফেলেছে বরিশাল বিভাগের ৬ শতাধীক ইট ভাটা ব্যবসায়ীদের। পোড়ানোর জন্য সাজিয়ে রাখা কাঁচা ইট বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে ভিজে মাটির স্তুপে পরিণত হয়। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমান দুইশত কোটি টাকা ছাড়াবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যা পুশিয়ে ওঠা দুঃসাধ্য বলে মনে করছেন তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ‘বৈধ এবং অবৈধ মিলিয়ে বরিশালের ৬টি জেলায় ৬ শতর উপর ইটভাটা রয়েছে। সকল ইটভাটায় চলছিল ইট তৈরির কাজ। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ইট পোড়ানো শুরু হওয়ার কথা ছিল। এজন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাঁচা ইট তৈরি করে তা সারবিদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয় ইটভাটা এলাকায়। কিছু কিছু ইট পোড়ানোর জন্য প্রস্তুতও করা হয়। কিন্তু সব প্রস্তুতিই শেষ করে দিয়েছে মৌসুমের শুরুতে হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে ভিজে কাঁচা ইট মাটির স্তুপে পরিনত হয়েছে।
বুধবার বরিশাল সদর উপজেলা এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইটভাটায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত ১০ নভেম্বর দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার প্রতিটি উপজেলায় বৃষ্টির সাথে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। যার কারনে সংশ্লিষ্ট জেলা উপজেলার ইটভাটা পানির নীচে ডুবে যায়। যা পুরোপুরিভাবে নেমে যেতে ৩-৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়।ইটভাটায় দেখা যায়, ‘বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে ভিজে স্তুপে পরিনত হওয়া মাটি সরানোর কাজ করছে শ্রমিকরা। ক্ষতি পোষাতে দিন-রাত সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। কিছু কিছু ইটভাটায় মাটির স্তুপ অপসারন করে পুনরায় কাঁচা ইট তৈরি করে তা পোড়ানোর জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই তা পোড়ানো হবে। অবশ্য জিকজাক ইটভাটা এরই মধ্যে ইট পোড়ানো এমনকি বেচা বিক্রিও শুরু হয়েছে। তবে তার পরেও হাসি নেই তাদের মুখে।
বরিশাল সদর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু জানান, ‘ঘূর্ণিঝড়’ বুলবুল এর প্রভাবে আমার ‘স্টার ব্রিক্স নামের ইটভাটার প্রায় ৩ লাখ কাঁচা ইট বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়েছে। এতে কম করে হলেও ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরবর্তী পুনরায় ইট তৈরি এবং শ্রমিক মজুরিসহ আর কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।তিনি বলেন, এ ক্ষতি শুধুমাত্র আমার একার ইটভাটায় হয়নি। বরিশাল বিভাগে যে ৬শত ইট ভাটা রয়েছে সবগুলোতেই কম বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি ভাটায় গড়ে ২৫ লাখ কাটা করে হিসাব করা হলেও তাতে দেড়শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ক্ষতির পরিমান দুইশত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করেন মালিক সমিতির এই নেতা।
আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, ‘যারা ঋন বা দাদন নেয়নি তারা লাভ করতে না পারলেও কিছুটা হলেও ক্ষতি পুরন করতে পারবে। কিন্তু বেশিরভাগ ইটভাটা মালিক মৌসুমের আগে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে রাখেন। আবার অনেকে ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে ইট তৈরির পরে বিক্রি করে থাকেন। এসব মালিকদের ক্ষেত্রে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা দুঃসাধ্য। তাদের একেবারেই পথে বসতে হবে। আর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হলে ইটের মূল্য বৃদ্ধি কারতে হবে। তাছাড়া বন্যায় বৃহত্তর যে ক্ষতি হয়েছে পোষানো কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ ইটভাটা মালিকদের ক্ষতিপুরনে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT