এমপি পঙ্কজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ এমপি পঙ্কজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ - ajkerparibartan.com
এমপি পঙ্কজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

3:22 pm , November 4, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও নৈরাজের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এ সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জয় চন্দ্র । সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য, দুর্নীতি, দখল সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, জমি দখল এবং অবৈধভাবে অর্থ সম্পদ অর্জনসহ ১৬টি অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনকারী সঞ্জয় চন্দ্র মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। বেলা ১১টায় নগরীর সদর রোডের এক রেস্তোরায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, ‘এমপি পঙ্কজ নাথ নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছেন তাদের হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে। আমিও তার সন্ত্রাসী, হামলা-মামলা এবং নৈরাজ্যের শিকার।
তিনি বলেন, ‘ভূয়া ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়। যার মধ্যে ভূয়া ঠিকানা দিয়ে চাকরী নেয় এমপি’র আপন ভাই মনোজ কুমার নাথ’র স্ত্রী কল্যান রাণী দেবনাথ। এই নিয়োগ বানিজ্যের মধ্যেমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন পঙ্কজ নাথ।
এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে পঙ্কজ নাথ এর ভাইয়ের স্ত্রী কল্যানি দেবনাথ ও বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মিয়াসহ ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করি। যার মামলা নং ৩৮১। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুদক মামলার তদন্ত শুরু করে।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরন করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি দুদক বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান তদন্ত করছেন। এদিকে মামলায় করায়, ক্ষিপ্ত এমপি পঙ্কজ নাথ ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল পঙ্কজ নাথ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার দুটি পা, একটি হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। এর পরে আমার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ওই মামলায় আমি ১৮ দিন কারাবন্দি ছিলাম। এতেই ক্ষ্যান্ত হননি তিনি। ২০১৮ সালের ১২ জুন মেহেন্দিগঞ্জ নতুন ডাকবাংলোর ভিআইপি ১ নম্বর কক্ষে নিয়ে মেরে মৃত ভেবে নদীতে ফেলে দেয়।
লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় চন্দ্র অভিযোগ করে বলেন, ‘পঙ্কজ নাথ গবিন্দপুর ইউনিয়নের চরে দেড় হাজার একর জমি থেকে বছরে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আলিমাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুরের ঘাঘুরিয়া চরে তার চাচাত ভাই রাম কৃষ্ণ নাথ হাজার হাজার একর জমি ভূয়া খতিয়ান খুলে ঘর তৈরী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এছাড়াও রাতের আধারে ভূয়া রেজুলেশন করে স্কোডিং দেখিয়ে জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকা করে নিয়ে ৮শত বন্দোবস্তের কার্ড অনুমোদন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পঙ্কজন নাথ তার ডিও লেটার দ্বারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বালুমহলের টেন্ডার বন্ধ করে সে তার চাচাত ভাই রিপন দেবনাথ ও আপন ভাই মনোজ কুমার দেবনাথের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
দুর্নীতির খেতাবপ্রাপ্ত এমপি পঙ্কজ নাথ ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য করেছেন। শুধু নিয়োগই নয়, টেন্ডারবাজি, গোডাউন সিন্ডিকেট, জেলা পরিষদের ঘাট দখল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ফান্ডের নামে টেন্ডারবাজি করে দুই উপজেলা থেকে ১৫ ভাগ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারের বরাদ্দকৃত বছরে ৬-৭ টন টিআর, কাবিখা সরকারিভাবে ৪০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারন থাকলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১২-১৫ হাজার টাকা মূল্যে দেয়া হয়। বরিশালে জেলা পরিষদের ইজারাকৃত ৬টি ঘাট দখল করায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এমপি পঙ্কজ নাথ রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট ও উত্তরায় বিলাসবহুল ১০ তলা বাড়ি, মালিবাগে গার্মেন্টস, পরিবহন ব্যবসা, নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি, নিজের নামে লাল পাজারো গাড়ি, একটি প্রাইভেট কার, চার কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল নোভা মার্চেটিজ গাড়ি ব্যবহার করছেন।
রাশিয়ার মস্কোতে তার বোন জামাতার মাধ্যমে সেখানে ডেভলপমেন্ট ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একমাত্র এমপি পঙ্কজ নাথকে ১/১১ এর সময় শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে আদালত পৃথক দুটি মামলায় তাকে সাজা দেয়। এর একটিতে ১৩ বছর অপরটিতে ৩টি বছর। এসময় পঙ্কজ নাথ’র এতো অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ নাথ বলেন, বালু মহল ও খাস জমি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দেয়া হয়। শিক্ষক নিয়োগে সাংসদদের কোন ভূমিকা নেই। আমি কখনই অন্যায় করেনি এবং অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেইনি। রাজনৈতিক চরিত্র হননের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT