অভিযোগের শেষ নেই নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচের বিরুদ্ধে - ajkerparibartan.com
অভিযোগের শেষ নেই নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচের বিরুদ্ধে

6:57 pm , April 28, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডের লুৎফুর রহমান সড়কে আরসিসি রাস্তা নির্মানের কাজ পান মেসার্স বিবি এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী কাজী সালাহ উদ্দীন বুলবুল। ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মানের জন্য ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশের পর কাজ শুরু করে ৭৫ ভাগ কাজ শেষ করার পর ওই বছরের ৫ জুলাই চলতি বিলের জন্য মেয়র বরাবরে আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার। মেয়র বিষয়টি পাঠিয়ে দেন প্রধান প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের কাছে। সেখান থেকে স্বাক্ষর হয়ে যায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর টেবিলে। এর পর সেখান থেকে স্বাক্ষর হয়ে আসে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিচুজ্জামানের টেবিলে। তিনি ৬ জুলাই আবেদনে স্বাক্ষর করেন পাঠিয়ে দেন সহকারী প্রকৌশলীর কাছে। স্বাক্ষরের নিচে লেখা আলোচনা করে ব্যবস্থা নিন। এর পর ঠিকাদার সহকারী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর আনতে গেলে তিনি জানান (স্যারের পার্সেনটেজ আমার কাছে দিয়ে যেতে বলছেন, এই জন্যই লিখেছেন আলোচনা করে নিন)। এভাবে শুধু ওই ঠিকাদারই নন প্রত্যেক ঠিকাদারই রীতিমত জিম্মি হয়ে পড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামানের কাছে। ঠিকাদাররা আবেদন নিয়ে গেলে তিনি আলোচনার পরে বিলে স্বাক্ষর করেন। আলোচনা মানেই টাকা। আর টাকা সময় মত না পেলেও নানান অজুহাতে আটকে দেয়া হয় বিল। ঠিকাদারররা বলছেন যেখানে তাদের কোটি কোটি টাকা বিসিসি পরিশোধ করতে ব্যর্থ সেখানে আগেভাগে আমরা এত পার্সেনটেজ কোথা থেকে দেবো? শুধু কাজের পার্সেনটেজই নয় প্রাক্কলনে ইচ্ছাকৃত ভুল করেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বহু অভিযোগ আছে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচের বিরুদ্ধে। আর তার এমন ভুলের কারণে গত ২৩ এপ্রিল নগর ভবনে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের পলাশপুরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রীজটি কাজ শেষ করার আগেই ভেঙ্গে যায়। এই কাজেরও প্রাক্কলন করেন আনিচুজ্জামান। এছাড়া ২০১৩ সালের নগরীর চৌমাথায় সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ পুকুরের চারপাশের রিটাইনিং ওয়াল ধসে পড়ে। এনিয়ে শুরু হয় অনেক সমালোচনা। ওই সময় মেয়র ছিলেন প্রায়ত শওকত হোসেন হিরন। কাজ শুরুর পর পরই ওয়াল ধসে পড়ার কারণে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। অথচ সঠিকভাবে প্রাক্কলন না করার কারণেই সে সময় রিটাইনিং ওয়াল ধসে পড়েছিলো। শুধু তাই নয় কিছু দিন পূর্বে টিবি ক্লিনিক পুকুরের চারপাশের ওয়াল নির্মানের পর পরই স্থানচ্যুত হয়ে ধেবে যায়। প্রাক্কলন ও ডিজাইন ভুল করার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার ও স্থানীয়রা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ প্রত্যেকটি কাজেরই পুন: প্রাক্কলন করা হয় ঠিকাদারকে জিম্মি করে। সরেজমিনে না গিয়ে ঘরে বসে প্রাক্কলন করেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামান। আর সমস্যা হলে তখন তিনি দোষ চাপান ঠিকাদারদের উপরে। সেবক কলোনীর প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাজেও সমস্যা দেখা দিয়েছে ভুল প্রাক্কলনের কারণে। ওই কাজটি পান বিশিষ্ট ঠিকাদান শাহিন সিকদার। কার্যাদেশ পেয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রথমে তিনি (নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচ) ৩ মিটার প্যালাসাইটিং করার কথা বলেন। কাজ ৩৫ ভাগের বেশি হবার পর তিনিই আবার বলেন এতে হবে না নতুন করে প্রাক্কলন করতে হবে। ঠিকাদারদের প্রশ্ন নতুন করে কাজ করতে সমস্যা নেই কিন্তু অতিরিক্ত যে ব্যয় হবে সেটা কে দেবে। এই প্রশ্ন করতেই ২৩ এপ্রিল ঠিকাদারের উপর ক্ষেপে যান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামান। এর প্রতিবাদ করতে গেলে মোমেন সিকদারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন শুরু করেন আনিচ। এ নিয়ে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। শুধু তাই নয় আরো অনেক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে এ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। বিসিসির জেনারেটর ক্রয় কাজে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এনিয়ে দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হলে চলতি বছরের ২৮ মার্চ অনিচুজ্জামানকে স্বশরীরে দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি দেয়। চিঠিতে আনিচের স্ত্রী ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT