আবাসন সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় - ajkerparibartan.com
আবাসন সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

3:21 pm , December 8, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ছাত্রাবাস সংকটে বিপাকে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মাত্র ৩ ছাত্রবাসে ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশি শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা এখন সমস্যার আকার ধারন করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা । ছাত্রাবাসের অভাবে আবাসন সহ খাওয়া দাওয়ার সমস্যা পোহাতে হচ্ছে বলেও জানায় তারা। বর্তমানেই এই সমস্যা সংকটাকার ধারন করেছে যা ২০১৮-১৯ সেশনের নতুন ছাত্র যোগ হলে বিপাকের আকার ধারন করবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রমতে, সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকায় ৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হল রয়েছে মাত্র তিনটি। এগুলো হলো বঙ্গবন্ধু ছাত্রাবাস, শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস এবং শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাস। প্রতিটি ছাত্রাবাসে ২৫০ জনের ধারন ক্ষমতা থাকলেও প্রতি সিটে দুজন করে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৬টি অনুষধের অধীনে ২৪টি বিভাগে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর অধ্যায়ন করে পাশাপাশি ২০১৮-১৯ সেশনে নতুন যোগ হচ্ছে আরো প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন মিক্ষার্থী। যাদের জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি আবাসিক হল। তবে সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র দেড় হাজার শিক্ষার্থী। এ অবস্থায় আবাসন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী। দেশের দূর-প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য আসা অবশিষ্ট পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই পাঠ্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তাদের অনেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মেসে থাকেন। অনেকের পক্ষে মেসে থাকা-খাওয়ার খরচ জুগিয়ে পড়ালেখা করাও কষ্টকর। এ কারণে বিপাকে পড়েছেন এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নতুন এই হল তিনটিতে কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচতলাবিশিষ্ট প্রতিটি হল পরিচালনার জন্য ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রভোস্ট, একজন সেকশন অফিসার ও সাতজন হাউস টিউটর রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু, শের-ই বাংলা এবং শেখ হাসিনা হলের প্রতিটিতে কক্ষ সংখ্যা ৬৫। এর মধ্যে ছয়টি করে কক্ষ হল পরিচালনা কমিটি এবং অফিসের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিটি হলে একটি করে টিভি রুম রয়েছে। খেলাধুলার জন্য (কেরাম, টেবিল টেনিস) একটি কক্ষ । নামাজের স্থান এবং রিডিং রুম একইকক্ষে হওয়ায় ছাত্রদের সমস্যা পোহাতে হয়। হলগুলোর প্রতিটি কক্ষে চারটি করে সিট রয়েছে। কিন্তু প্রতি সিটে দুইজন করে আটজন শিক্ষার্থীকে অবস্থান করতে হয়। এজন্য তাদের একে অপরের বেড, চেয়ার ও পড়ার টেবিল সমন্বয় করতে হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। এজন্য একাধিক ছাত্র এবং ছাত্রী হল নির্মাণ করা শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি।
হলের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়েদের থাকার জন্য আরও হল দরকার বলে জানান শেখ হাসিনা হলের একাধিক ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, হলে সিট না পেয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে তাদের। এজন্য প্রতি মাসে মেস ভাড়া, খাবার ও যানবাহন খরচ মেটাতে পরিবারের কাছ থেকে অনেক টাকা আনতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, হলে যে কোটা রয়েছে তার চেয়েও বেশি ছাত্রছাত্রী থাকছে। পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই এ হলগুলো নির্মাণ করায় আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মেসে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ রুমি বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল পরিচালনা কমিটির প্রভোস্ট রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলে শিক্ষার্থীরা থাকছেন। মেয়েদের জন্য নতুন একটি হল নির্মাণ কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরও হল স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT