দক্ষিণাঞ্চলে আলোচনায় হেভিওয়েট ও দলীয় একাধিক প্রার্থীরা দক্ষিণাঞ্চলে আলোচনায় হেভিওয়েট ও দলীয় একাধিক প্রার্থীরা - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলে আলোচনায় হেভিওয়েট ও দলীয় একাধিক প্রার্থীরা

3:40 pm , December 4, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে দেশের দক্ষিনাঞ্চলে আসন্ন নির্বাচনী আলোচনা ধীরে জমতে শুরু করেছে। একই সাথে দুই প্রধান জোটেই একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্ত মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী থেকে আমজনতাদেরও। অপরদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও জোর জল্পনা-কল্পনা সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে। এমনকি সরকারী মহাজোট এবার জাতীয় পার্টিকে নিজের জোটে অন্তর্ভূক্ত করে কতটি আসন নিজেরা রাখবে, আর কতটি বিরোধী জোটকে দেবে এসব আলোচনাও শুরু হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। আসন্ন সংসদেও কি জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেয়া হবে তাও অন্যতম আলোচিত বিষয় এ অঞ্চলে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরে জাতীয় পার্টির রুহুল আমীন হাওলাদার ও মাসুদ পারভেজ সহ বিএনপি’র গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বাতিলের পরেও দুই জোটেই প্রায় প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত করার পরেও এখনো যারা আছেন, তারা সব বিদ্রোহী প্রার্থী বলে দাবী দলের দায়িত্বশীলদের। আর বিএনপি সহ ঐক্য ফ্রন্টের যেসব বিকল্প প্রার্থী এখনো রয়েছেন, তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিনের আগেই সরে যাবেন বলে বলা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিপূর্ণ আশ্বস্ত নন মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীগন। জনমনেও বিভ্রান্তি ও কৌতুহল রয়েছে।
আমীর হোসেন আমু ১৯৯১-এর নির্বাচনে ঝালকাঠী ও পিরোজপুর-বরিশালের দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। তবে ১৯৯৮ সালে দল ক্ষমতায় থাকাকালীন ঝালকাঠীÑ২ আসনের উপ-নির্বাচনে তিনি প্রয়াত এমপি জুলফিকার আলী ভূট্টোর স্ত্রী ইসরাত জাহান ইলেন ভূট্টোকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটে পরাজিত করে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। কিন্তু ২০০১-এর নির্বাচনে ইলেন ভূট্টোর কাছেই প্রায় ৬৮ হাজার ভোটে পরাজিত হন আমুু। আবার ২০০৮-এর নির্বাচনে প্রায় ২২ হাজার ভোটে ইলেন ভূট্টোকে পরাজিত করেন আমু। ২০১৪-এর নির্বাচনে তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল না। এবারো তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী। আর বিএনপি প্রার্থী রয়েছেন ইলেন ভূট্টো ছাড়াও জেবা আমীন খান। ফলে দলীয় কর্মীরা এখনো বিভ্রান্ত। ভোলায় তোফায়েল আহমদ নিজ বাড়ী ভোলাÑ২ আসনটি ছেড়ে জেলা সদরের এক নম্বর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবার। ’৯১-এর নির্বাচনে এ আসনে তোফায়েল আহমদ জাপা প্রার্থী নাজিউর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাকে ৫হাজার ভোটে এবং ভোলাÑ২ আসনে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। ’৯৬ সালে ভোলা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন শাহজাহানকে ৩ হাজার ভোটে এবং দুই নম্বর আসনে বিএনপি’র হাফিজ ইব্রাহিমকে ৮ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০০১-এর নির্বাচনে তোফায়েল আহমদ ভোলাÑ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন শাহজাহানের কাছে প্রায় ৩৮হাজার ভোটে, নিজ বাড়ীর দুই নম্বর আসনে বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কাছে প্রায় ২৯হাজার ভোটে এবং ভোলা ৩নম্বর আসনে বিএনপি’র মেজর(অবঃ) হাফিজের কাছে প্রায় ৪৮হাজার ভোটে পরাজিত হন। ২০০৮-এর নির্বাচনে তোফায়েল আহমদ পুনরায় নিজ বাড়ীর ভোলাÑ২ আসনে সীমাবদ্ধ থেকে বিএনপি’র বিকল্প প্রার্থী আশিকুর রহমানকে ২৫হাজার ভোটে পরাজিত করেন। এবার তিনি শুধুমাত্র ভোলাÑ১ আসেনই সীমাবদ্ধ আছেন। প্রতিদন্ধী প্রার্থী ঐক্য ফ্রন্টের বিজেপি প্রার্থী আন্দালিভ রহমান পার্থ ও বিএনপি’র গোলাম নবী আলমগীর। শেষ পর্যন্ত ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী কে থাকেন তার ওপরই তোফায়েল আহমদের ভাগ্য নির্ভরশীল হতে পারে। তবে নির্বাচন কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে তার ওপরই বিষয়টি নির্ভরশীল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
বরিশালÑ১ আসনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র প্রতিদন্ধী বিএনপি’র দুই প্রার্থী সদ্য ঘরে ফেরা জহিরউদ্দিন স্বপন ও ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান। ১৯৯১ ও ’৯৬-এর নির্বাচনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপি প্রার্থী কাজী গোলাম মাহবুবকে যথাক্রমে ৭ হাজার ও দু হাজার ভোটে পরাজিত করেন। ঐ দুটি নির্বাচনেই জামায়াত প্রার্থী প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভোট পায়। তবে ২০০১-এর নির্বাচনে হাসনাত প্রায় ১৪ হাজার ভোটে বিএনপি প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপনের কাছে হেরে যান। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক থাকায় ২০০৮-এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বরিশালÑ১ আসনে এমপি হন। এবারো তিনি প্রার্থী।
রাশেদ খান মেননের বোন সেলিমা রহমানের পৈত্রিক ভূমি বরিশালÑ৩ আসনে এবারো প্রার্থী। এখনো প্রতিদ্বন্দ্বি মহাজোটের দুই শরিক দলের দুই টিপু। মহাজোটের পক্ষ থেকে এ আসনটি ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় দলের প্রার্থী বর্তমান এমপি টিপু সুলতান। কিন্তু জাতীয় পার্টি থেকেও সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুও প্রার্থী। অপরদিকে বিএনপি থেকেও সুপ্রীম কোর্ট বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট জয়নল আবেদিনকেও মনোননয়ন দেয়া হয়েছে। ২০০৮-এর নির্বাচনে ঐ আসনে সেলিমা রহমান ৬০ হাজারেরও বেশী পেলেও ৬ হাজারের ব্যবধানে হেরে যান। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ঐ নির্বাচনে ২০ হাজারেরও বেশী ভোট পেয়েছিলেন। পটুয়াখালীÑ১ আসনে এবারো বিএনপি প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী। আলতাফ চৌধুরী ২০০১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান মিয়াকে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০০৮-এ শাহজাহান মিয়ার কাছেই প্রায় ২২ হাজার ভোটে পরাজিত হন। এবার তিনি ঐ আসনে দলের প্রার্থী। ঝালকাঠীÑ১ নম্বর আসনে মহাজোট থেকে এবারো প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি বিএইচ হারুন। তিনি ২০০১-এর নির্বাচনে ২০ হাজার ৪১৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করলেও ২০০৮-এ ২১হাজার ভোটে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি শাহজাহান ওমরকে পরাজিত করেন। ২০১৪-এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এবারা তিনি আওয়ামী লীগ সহ মহাজোট প্রার্থী। তবে তার আসনেও বিএনপি’র বিকল্প প্রার্থী ছাড়াও মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি, জেপি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী রয়েছেন। পটুয়াখালীÑ২ আসনে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের আসম ফিরোজের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি’র সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের মনোনয়পত্র বাতিল হবার পরে তার স্ত্রী টিকে আছেন। তবে ঐ আসনে আসম ফিরোজের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি তার নিজ দলেরই অপর প্রার্থী কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সামসুল হক রেজা। আসম ফিরোজ ১৯৯১ ও ’৯৬-এর নির্বাচনে বিজয়ী হলেও ২০০১-এর বিএনপি প্রার্থী সহিদুল আলমের কাছে ১৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন। ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপি’র অপর প্রার্থীকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটে পরাজতি করে প্রথমে হুইপ এবং ২০১৪ নির্বাচনে আবারো এমপি হয়ে চীফ হুইপ-এর দায়িত্ব পালন করছেন। পিরোজপুর-২ আসনে ১৯৯১ এবং আগে-পড়ের সবগুলো নির্বাচনেই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার তার আসনটির সাথে ইন্দুরকানী উপজেলা যূক্ত হওয়ায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তা সৃষ্টি হতে পারে তার জন্য। জামায়াতের দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে এবার মঞ্জুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি। তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুরÑ২ আসনে ভা-ারিয়ার ভোট আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জন্য সংরক্ষিত ধরে নেয়া হলেও কাউখালীর ভোট প্রায় অর্ধেকই ভাগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে ইন্দুরকানীর সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান শামিম সাঈদী সেখানের সিংহভাগ ভোট লাভ করলে মঞ্জুর জন্য যথেষ্ট দুঃশ্চিন্তা কাজ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT