আগৈলঝাড়ায় চার স্কুলে দপ্তরী নিয়োগ নিয়ে পৃথক ৪টি মামলা আগৈলঝাড়ায় চার স্কুলে দপ্তরী নিয়োগ নিয়ে পৃথক ৪টি মামলা - ajkerparibartan.com
আগৈলঝাড়ায় চার স্কুলে দপ্তরী নিয়োগ নিয়ে পৃথক ৪টি মামলা

6:27 pm , April 26, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগৈলঝাড়ায় পৃথক ৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে অনিয়ম ও অবৈধ নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল আগৈলঝাড়া সহকারী জজ আদালতে উপজেলার চক্রিবাড়ি এলাকার আলমগীর হাওলাদার, জয়রামপট্টির তুহিন মিয়া, কদম বাড়ির অশোক চন্দ্র অধিকারী ও দক্ষিণ চাঁদত্রিশিরার আবুল হাসান হাওলাদার পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ শরিফুর রহমান মামলা ৪টির আদেশ দানে পরবর্তী দিন ধার্য্যরে নির্দেশ দেন। আলমগীর হাওলাদারের করা মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা ৫০নং চক্রিবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত আইউব খান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক। তুহিন মিয়া করা মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা ৪১নং জয়রামপট্টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মাসুদ দাড়িয়া, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক। অশোক অধিকারীর করা মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা ৩৬নং কদমবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কিরন অধিকারী, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক। আবুল হাসানের করা মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা ৪৭নং দক্ষিণ চাঁদত্রিশিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মিরাজ হাওলাদার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক। এছাড়া পৃথক ৪টি মামলায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (বাগধা ইউপি দায়িত্বপ্রাপ্ত), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী জানান, ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারী আগৈলঝাড়া বাগধা ইউপি ৫০নং চক্রিবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪১নং জয়রামপট্টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬নং কদমবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪৭নং দক্ষিণ চাঁদত্রিশিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে চাকরীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। এতে চক্রিবাড়ি এলাকার আলমগীর হাওলাদার, জয়রামপট্টির তুহিন মিয়া, কদম বাড়ির অশোক চন্দ্র অধিকারী ও দক্ষিণ চাঁদত্রিশিরার আবুল হাসান হাওলাদার আবেদন করেন। ২০১৪ সালের ১ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় আলমগীর হাওলাদার ১ম স্থান অধিকার করেন এবং বিবাদী আইউব খান ২য় স্থান অধিকার করেন। কিন্তু ১ম স্থান অধিকার করেও আলমগীর হাওলাদারকে অনিয়ম ও অবৈধভাবে চাকরীতে নিয়োগ না দিয়ে ২য় স্থান অধিকারী ৪র্থ শ্রেণী পাশ আইউব খানকে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া একই বছর ৫ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় তুহিন মিয়া ১ম স্থান অধিকার করেন এবং বিবাদী মাসুদ দাড়িয়া ৩য় স্থান অধিকার করেন। কিন্তু ১ম স্থান অধিকার করেও তুহিন মিয়াকে অনিয়ম ও অবৈধভাবে চাকরীতে নিয়োগ না দিয়ে ৩য় স্থান অধিকারী মাসুদ দাড়িয়াকে ২য় দেখিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া মাসুদ দাড়িয়া সাইকেল চালাতে পারদর্শী না হলেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছর ৩০ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অশোক অধিকারী ১ম স্থান অধিকার করেন এবং বিবাদী কিরন অধিকারী ৩য় স্থান অধিকার করেন। কিন্তু ১ম স্থান অধিকার করেও অশোক অধিকারীকে অনিয়ম ও অবৈধভাবে চাকরীতে নিয়োগ না দিয়ে ৩য় স্থান অধিকারী কিরন অধিকারীকে সুঠাম দেহের অধিকারী ও সাইকেল চালাতে পারদর্শী না হওয়া স্বত্ত্বেও নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছর ২ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় আবুল হাসান ১ম স্থান অধিকার করেন এবং বিবাদী মিরাজ হাওলাদার ৩য় স্থান অধিকার করেন। কিন্তু ১ম স্থান অধিকার করেও আবুল হাসানকে অনিয়ম ও অবৈধভাবে চাকরীতে নিয়োগ না দিয়ে ৩য় স্থান অধিকারী মিরাজ হাওলাদারকে সুঠাম দেহের অধিকারী ও সাইকেল চালাতে পারদর্শী না হওয়া স্বত্ত্বেও নিয়োগ দেয়া হয়। পৃথক ৪টি ঘটনায় গত ২৪ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ ৩ কর্মকর্তার কাছে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিদের নাম বাতিল করে মামলার বাদীদের নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে কর্মকর্তারা তাদের কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দিলে গতকাল প্রতিকার পেতে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT