ধর্মঘটে অচল মহাসড়ক ভোগান্তিতে যাত্রীরা ধর্মঘটে অচল মহাসড়ক ভোগান্তিতে যাত্রীরা - ajkerparibartan.com
ধর্মঘটে অচল মহাসড়ক ভোগান্তিতে যাত্রীরা

3:24 pm , October 28, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সারা দেশের সাথে বরিশালেও চলছে ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট। এ কারনে গতকাল রোববার সকাল থেকে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীন কিংবা দুরপাল্লার কোন রুটেই যাত্রীবাহী বাস থেকে শুরু করে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। সকালের দিকে গণপরিবহন চলাচল করলেও তাতে বাঁধা সৃষ্টি করে পরিবহন শ্রমিকরা। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনাও দেখা দেয়। এদিকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন এর ৮ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতির ডাক দেয়ায় অচল হয়ে পড়েছে সড়ক-মহাসড়ক। আর তাই সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং দুরপাল্লার রুটের যাত্রীদের। সকাল থেকে অনেক যাত্রী বাস টার্মিনালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়েছে। চাকুরীজীবী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়েছে আরো ভোগান্তিতে। সড়ক-মহাসড়েক পাশাপাশি শ্রমিক ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীন সড়কেও।
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে পাশ হওয়া সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় অপরাধী হলে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত আইন রাখা হয়েছে। এই আইন শ্রমিকদের রক্ষা বা স্বার্থের পরিপন্থী। ফাঁসির ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা গাড়ী চালাতে পারবে না। তাই এই আইন বাতিল সহ ৮ দফা দাবী না মানা পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরবে না। এমনটি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে আরো বড় ধরনের কর্মসূচি আসবে।
তিনি জানান, শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬টা থেকে সারা দেশের ন্যায় নগরীর রূপাতলী এবং নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীন ও দুরপাল্লার রুটে কোন বাস ও ট্রাক সহ অন্যান্য পরিবহন ছেড়ে যায়নি। সকালে কিছু থ্রি-হুইলার চলাচল করলেও তাতেও বাঁধা সৃষ্টি করে শ্রমিকরা। এর ফলে অভ্যন্তরীন রুটে থ্রি-হুইলার এবং অটো টেম্পু চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সকালে সরেজমিনে দেখাগেছে, ধর্মঘটের আগাম প্রচারনা না থাকায় সকাল থেকেই শত শত যাত্রী নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনালে আসে। কিন্তু এসেই জানতে পারেন শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে। এর পরে দীর্ঘ সময় বাস চালাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকেন যাত্রীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গন্তব্য পৌছতে না পেরে চলে যেতে হয়েছে যাত্রীদের।
অপরদিকে ভোগান্তির সিমা ছিলো না চাকুরীজীবী ও স্কুল-কলেজ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের। কেননা ধর্মঘটের কারনে গন্তব্যে পৌছতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ পথ পায়ে হেটে গন্তব্যে পৌছতে হয়েছে চাকুরীজীবী এবং শিক্ষার্থীদের। মাঝে মধ্যে দু’একটি থ্রি-হুলার চলাচল করলেও তা মহাসড়কে চলাচল করতে পারেনি। এজন্য কদর বাড়ে রিক্সা এবং ভাড়ার মোটর সাইকেলের। যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নেয় তারা।
গ্রীন লাইন পরিবহনের নিয়মিত যাত্রী নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আলমগীর খান জুয়েল বলেন, চিকিৎসার জন্য রোববার সড়ক পথে ভারতে যাবার কথা ছিলো। এজন্য স্ত্রী এবং সন্তানকে সাথে নিয়ে ইজিবাইক যোগে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে পৌছান। গ্রীন লাইন কাউন্টারে এসে বেনাপোলের টিকেট চাইলে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারনে বাস চলবে না বলে জানিয়ে দেয়। তার পরেও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রায় দুই ঘন্টা বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করেন জুয়েল। শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়েছে। তাও মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ থাকায় রিক্সা যোগে নিজ বাসায় পৌছতে হয়েছে তাদের। একই কথা জানিয়েছেন, বরিশাল থেকে খুলনার যাত্রী এবং খুলনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা আক্তার। তিনি বলেন, শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে বরিশালে আসেন। ফিরে যাবার সময় ধর্মঘটের কারনে জনদুর্ভোগে পড়তে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সকালে কাউনিয়া থেকে নথুল্লাবাদে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসেই জেনেছেন বাস ধর্মঘট। হঠাৎ করেই শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারনে গন্তব্যে পৌছতে না পেরে পুরনায় ফিরে যেতে হয়েছে।
এদিকে সকালে পরিবহন শ্রমিকদের ঢাকা ধর্মঘট উপেক্ষা করে নগরীর অভ্যন্তরীন সড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল করছিলো। কিন্তু সকালে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন তাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে লঞ্চঘাট এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় থ্রি-হুইলার চালকরা লঞ্চঘাট থেকে তাদের থ্রি-হুইলার সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তবে অভ্যন্তরীন সড়কে ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। বাইপাস সড়ক হয়ে কিছু থ্রি-হুইলার এবং ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। তাও সংখ্যায় খুবই কম।
অপরদিকে জনদুর্ভোগের মধ্যেও সরকারের করা সড়ক পরিবহন আইনকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক যাত্রী। তারা বলেন, প্রতিনিয়তই সড়কে লাশের মিছিল চলছে। চালকদের বেপারোয়া প্রতিযোগীতা এবং অদক্ষতার কারনে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। সরকারের করা এই আইন সড়কে মৃত্যুর মিছিল রোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তারা। তাই এই আইন বাস্তবায়নের দাবীও জানান তারা।
বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন (বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস) শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ এর কিছু ধারা সংশোধনের জন্যই আমাদের এই কর্মবিরতী। সরকার যদি এই ধারা সংশোধন না করে তাহলে আমাদের কর্মবিরতী চলমান থাকবে। শ্রমিকদের এমন ঘোষনায় উদ্ভিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
উল্লেখ্য সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন সহ ৮ দফা দাবী আদায়ের লক্ষে গত ২৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সারা দেশে ৪৮ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে শনিবার ঢাকায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে সরকারের উচ্চ মহলের বৈঠক হয়। কিন্তু সেখানেও দাবীর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় রোববার সকাল ৬টা থেকে পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT