ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তন ও সহায়তার দাবি জেলেদের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তন ও সহায়তার দাবি জেলেদের - ajkerparibartan.com
ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তন ও সহায়তার দাবি জেলেদের

5:51 pm , October 6, 2018

মর্তুজা জুয়েল ॥ মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ আহরনের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জেলেরা। তাদের দাবী সঠিক সময়ে ইলিশ আহরনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ফলে গতকাল শনিবার পর্যন্ত যে ইলিশ ধরা পড়েছে তার অধিকাংশ ইলিশের পেটেই পর্যাপ্ত ডিম পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ইলিশে যে পরিমান ডিমের উপস্থিতি রয়েছে তা পরিপূর্ন হতে অরো দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরফলে নিষেধাজ্ঞা যখন শেষ হবে তার পরেও দেখা যাবে যে ইলিশ ধরা পড়ছে তাতে ডিম রয়েছে। এতে করে অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে।

সদর ইপজেলার জেলেপল্লী অধ্যুষিত চন্দ্রমোহন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে ইলিশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। গত বছর নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে যে পরিমান ইলিশ ছিল এবার তা নেই। এছাড়া যে ইলিশ রয়েছে তার অর্ধেক পরিমান মাছে ডিম রয়েছে। এর কারন হিসেবে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির সদর উপজেলার সভাপতি মোঃ বাবুল হাওলাদার ও চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের সভাপতি মো মহিউদ্দিন মাল জানান, নিষেধাজ্ঞার সঠিক সময় নির্ধারন না করায় এবার শেষ দিনে তেমন মাছ ধরা পড়েনি। যে সকল মাছ ধরা পড়েছে তার পেটে ডিমও নেই। এর ফলে ৩ সপ্তাহ পর যখন যে মাছ ধরা পড়বে তার পেটে ডিম থাকবে। এতে করে অভিযান শতভাগ সফল হবেনা।

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমের সঙ্গে সমন্বয় করে এবার ৭ অক্টোবর অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, বিপনন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে মাছ শিকার কিংবা পরিবহন ক্রয় বিক্রয় এবং বাজারজাত করলে অভিযুক্তদের সর্বনি¤œ ১ বছর থেকে ২ বছর পর্যন্ত জেল। কিংবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে।

মৎস্য বিভাগের দাবি এ সময়ে প্রতিটি মা ইলিশ ২ লাখ থেকে ২০ লাখ ডিম ছাড়তে সক্ষম এবং অবমুক্ত ডিমের ১০ শতাংশ ডিম মাছে পরিনত হবে। দেশে উৎপাদিত ইলিশের শতকরা ৭০ ভাগ আহরন হয় মেঘনা নদীর ভোলার শাহবাজপুর, বরিশালের তেতুলিয়া ও পটুয়খালীর আন্ধারমানিক নদীর ৩৫০ কিলোমিটার এলাকার ৫টি অভয়াশ্রম থেকে। এ সকল অভয়াশ্রমে ছয়শ’গ্রাম ওজনের ইলিশে একশ’গ্রামের বেশী ডিম ধারন করে। ডিমে ২ লাখ থেকে ২০ লাখ ডিম্বানু রয়েছে। যা নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মধ্যে অধিকাংশ মা ইলিশ নদীতে অবমুক্ত করবে।

ইলিশের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন সকল নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ করে দেয়া হয়। দুই বছর পূর্বে তা ১৫ দিন এবং অন্য সময়ে ছিল। আবহাওয়া ও প্রজনন সময়ের সাথে সমন্বয় করে প্রতি বছর নতুন সময় নির্ধারন করা হয়। মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০১৫ সাল থেকে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসুচী তুলনামূলক সফল হয়েছে। এতে করে গত মৌসুমেও ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তার দাবি গত ১ বছরে বরিশাল জেলায় ২ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছিলো। কিন্তু চলতি বছর এর পরিমাণ ৩ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে অধিকাংশ মা ইলিশ ১০০ গ্রামের বেশি ডিম ধারণ করেছে। ইলিশের মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রজনন মৌসুমে ডিম অবমুক্ত করবে। প্রতিটি ডিমে ২ লাখ থেকে ২০ লাখ পরিমাণ ডিম্বাণু থাকবে। এর মধ্যে শতকরা ১০% ডিম সুযোগ পেলে পরিপূর্ণ ইলিশে পরিণত হবে। গবেষনা থেকে শুরু করে জেলেদের সাথে কথা বলে এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন সকল ধরনের মাছ শিকার বন্ধ করে দেয়া হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে জেলায় ১ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর নদী ও মোহনা এলাকায় মৎস্য শিকার বন্ধে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করেছে মৎস্য বিভাগ। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা সময়ে মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করবে। প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলেদের সম্পৃক্ত করে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জেলায় ৪৪ হাজার ৪২৩ জন জেলে ও ৫৮ হাজার ৪৯৮ জন মৎস্যজীবী রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে এ সকল ব্যক্তিদের নদীতে মাছ শিকার থেকে বিরত রাখতে প্রচারনা, মাইকিং, অবহিতকরণ সভার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত ৮ বছর ধরে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু মাছ শিকার বন্ধ থাকাকালীন ইলিশের সাথে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আসছি। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় প্রতি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে এ চাল বরাদ্দ দেয়া হবে। তবে আজ থেকে অভিযান শুরু হলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দের চাল এসে পৌছেনি। ইলিশের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে হলে নিষেধাজ্ঞার দিনগুলো যাতে ইলিশের সাথে সংশ্লিষ্টরা বিকল্প পন্থায় আয় করতে পারে তার ব্যবস্থা করা গেলে ইলিশের উৎপাদন কয়েকগুন বেড়ে যাবে বলে মত ইলিশ সংশ্লিষ্টদের।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT