ট্রাফিক পুলিশের আটক অব্যাহত ॥ তবুও চলছে বিসিসি’র অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন ট্রাফিক পুলিশের আটক অব্যাহত ॥ তবুও চলছে বিসিসি’র অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন - ajkerparibartan.com
ট্রাফিক পুলিশের আটক অব্যাহত ॥ তবুও চলছে বিসিসি’র অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন

6:00 pm , September 26, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে চলাচলরত অটোরিক্সার বৈধতা নিয়ে জটিলতা কাটেনি। ট্রাফিক বিভাগ অবৈধ যান হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তার বৈধতা ফিরিয়ে দিতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। তাই অবৈধ আখ্যায়িত হওয়া অটোরিক্সার বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগের অভিযান চলছেই। সম্প্রতি দেড় শতাধিক অবৈধ অটোরিক্সা গুড়িয়ে দেয়ার পরে নতুন করে আটক অভিযান শুরু করেছে তারা। তার মধ্যেই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ শুরু করেছে নবায়ন কার্যক্রম। আবার অভিযোগ ওঠেছে নবায়নের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের। যদিও নানান যৌক্তিকতা দেখিয়ে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে, তৎকালিন সিটি মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরন এর আমলে নগরীতে অটোরিক্সা চলাচল শুরু হয়। সে সময় পরিবেশ বান্ধব যান হিসেবে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার লাইসেন্স দেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অটোরিক্সার পরিমান দেড় হাজারের মত থাকলেও পরবর্তীতে বর্তমান মেয়র এর সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২ হাজার ৬১০টিতে। সেই হিসেবে বৈধর পাশাপাশি অবৈধ মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি অটোরিক্সা চলছে এই নগরীতে। সে তুলনায় বৈধর তুলনায় অবৈধ অটোরিক্সার সংখ্যাই বেশি। অভিযোগ রয়েছে বিসিসি’র যানবাহন শাখার কতিপয় লোকের যোগসাজসে বৈধ অটোরিক্সার একটি টোকেন দিয়েই চলছে একাধিক অবৈধ অটো।
এদিকে শওকত হোসেন হিরন মেয়র থাকাবস্থায় শেষ দিকে দেশব্যাপী অটোরিক্সা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে শওকত হোসেন হিরন মেয়র থাকাবস্থায় সেই প্রভাব পড়েনি অটোরিক্সার উপর। অবশ্য তার পরে নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের পর পরই অটোরিক্সা বন্ধে অভিযান শুরু করে ট্রাফিক বিভাগ। যদিও ট্রাফিক বিভাগের এই অভিযান নিয়ে নানান অভিযোগ এবং প্রশ্ন তোলেন অটোরিক্সা মালিক এবং শ্রমিকরা। ইঞ্জিন চালিত নতুন যান চলাচলের সুযোগ করে দিতেই উদ্দেশ্যহিন ভাবে ট্রাফিক বিভাগ এই অভিযান শুরু করে বলে অভিযোগ তাদের। তবে অভিযোগের মধ্যেও থেমে থাকেনি অটোরিক্সা বন্ধের অভিযান। এমনকি নগরীর সদর রোড এলাকায় অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করে দিয়ে দ্রুত গতির মাহেন্দ্র এবং পরবর্তীতে গ্যাস চালিত অটো টেম্পু চলার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন তারা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অটোরিক্সা মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি ঘোর বিরোধীতা করে আসছে অটোরিক্সায় সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ এমনকি বিশেষ মহলও। তবে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈধক, চিঠি চালাচালির পরে নগরীতে চলাচলরত অটোরিক্সার বৈধতা নিশ্চিত করতে পরেনি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। যদিও এজন্য ট্রাফিক বিভাগের খামখেয়ালীকেই দায়ি করছেন তারা। তাদের অভিযোগ সুয়োমটো আইন অনুযায়ী ইঞ্জিন চালিত যে অবৈধ গনপরিবহন বন্ধের নির্দেশ উচ্চ আদালত দিয়ে তার মধ্যে অটোরিক্সা না পড়লেও পুলিশ নিজেদের ক্ষমতা বলে তা বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ নগরীর বাইরে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পৌরসভার অধিনে অটোরিক্সা গুলো চলাচল করলেও তাতে বাঁধা আসছে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি নগরীতে অভিযান চালিয়ে তারা দেড় শতাধিক অবৈধ অটোরিক্সা আটক করে। যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ওই পর্যন্তই সিমাবদ্ধ নয়, বরং নতুন করে আবারো অটোরিক্সা আটক অভিযান শুরু করেছে ট্রাফিক বিভাগ। বিশেষ করে সম্প্রতি সময় অবৈধ অটোরিক্সা আটকের বিষয়ে কঠোর হয়েছে তারা। তারই অংশ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশের জব্দকৃত অটোরিক্সার সংখ্যা ক্রমশই দীর্ঘ হচ্ছে।
অটোরিক্সা মালিক এবং শ্রমিকরা বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের বৈধতা দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনে টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করছি। কিন্তু আমাদের গাড়ি চলাচলের বিষয়ে নিরাপত্তা দিতে পারছে না নগর কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক পুলিশ একের পর এক আমাদের গাড়ি আটক করলেও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তার সমাধানে এগিয়ে আসছে না। অথচ বছর বছর জোর করে নবায়ন করাচ্ছে। নবায়ন না করলে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনও গাড়িগুলো আটক করছে।
অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিকরা বলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ চলতি মাসের মধ্যে নবায়ন না করা হলে পরবর্তীতে জরিমানা দিয়ে নবায়ন করাতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন বিসিসি’র যানবাহন লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক আতিকুর রহমান মানিক। তাই আগে ভাবেই লাইসেন্স নবায়ন করতে অটো মালিক ও শ্রমিকরা ভীর জমাচ্ছে যানবাহন শাখায়। তবে নবায়ন কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন মালিক এবং শ্রমিকরা।
তাদের অভিযোগ নবায়ন ফরম ও নবায়ন ফি বাবদ তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে। অথচ ১২০ টাকার ফরম এবং নবায়ন ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা জমা দেয়া হচ্ছে ব্যাংকে। ব্যাংক চালানে তিন হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও বাকি টাকার হিসাব দিচ্ছে না যানবাহন শাখার দায়িত্বরতরা। এমনকি ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার কাজটাও যানবাহন শাখার লোকজনই বাধ্যতামুলক ভাবে নিজেরাই করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অবশ্য বিসিসি’র যানবাহন লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক আতিকুর রহমান মানিক বলেন, নবায়ন ফি বাবদ কোন বাড়কি টাকা আমরা নিচ্ছি না। তৎকালিন মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর আমলে যে সাড়ে ৪ হাজার টাকা রাখা হতো এখনো সেই টাকাই নেয়া হচ্ছে। যার পুরোটাই চলে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের ফান্ডে। কেউ বার্তি ফি আদায়ের অভিযোগ করে থাকলে সে না জেনে করছে।
তিনি বলেন, যে সাড়ে ৪ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে তার মধ্যে নবায়ন ফি বাবদ জমা হচ্ছে ৩ হাজার টাকা, এর পর ওই টাকার উপর ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট রাখা হচ্ছে। ১২০ টাকা ফরমের মূল্য এবং ব্লু-বুক বাবদ আরো ১৫০ টাকা সহ অন্যান্য খাতে সাড়ে ৪ হাজার টাকা জমা হচ্ছে। যা সবারই পূর্বে থেকে জানা রয়েছে বলে দাবী করেন যানবাহন লাইসেন্স শাখার ওই কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT