হাটে পশু সংকট দাম আকাশচুম্বি হাটে পশু সংকট দাম আকাশচুম্বি - ajkerparibartan.com
হাটে পশু সংকট দাম আকাশচুম্বি

6:39 pm , August 19, 2018

রুবেল খান ॥ আর মাত্র একদিন বাদেই পবিত্র ঈদ উল আযহা। ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানীর মধ্যে দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে ধর্মপ্রান মুসলমানরা। তবে কোরবানী’র শেষ মুহুর্তে চলে আসলেও পছন্দের পশু কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না ক্রেতাদের। গত শুক্রবার থেকে নগরীর হাট গুলোতে ক্রেতাদের ভীড় বেড়ে চললেও হচ্ছে না তেমন বেচা-বিক্রি। হাটে গরু কম থাকার পাশাপাশি মূল্য নাগালের বাইরে থাকায় এ হাট ও হাট ঘুরে ফিরে আসতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অনেকেই সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের করু কিংবা খাসী ক্রয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন কোরবানীর আগের রাত পর্যন্ত।
সূত্রমতে, এবারের কোরবানীর ঈদের পূর্বে থেকেই পশুর হাট নিয়ে তেমন মাথা ব্যথা দেখা যায়নি হাটের ইজারাদারদের। বিগত বছরে লাভ-লোকশানের হিসাব নিকাশের পাশাপাশি মন্দাভাবের কারনে এবার পশুর হাটের সংখ্যাও অনেক কমেছে। মহানগরী সহ জেলায় এবার স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট হাটের সংখ্যা ৫১টি। যার মধ্যে মহানগরী এলাকায় পশুর হাটের সংখ্যা মাত্র ৫টি। এর মধ্যে ২টি স্থায়ী এবং বাকি তিনটি অস্থায়ী হাট। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে গতকাল রোববার নগরী ও সদর উপজেলার ৪টি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে কিছু ভিন্ন চিত্র। প্রতিটি হাটেই পশুর তুলনায় মানুষের সংখ্যা দেখাগেছে বেশি। কিন্তু বেচা-বিক্রির হিসাব বলতে গেলে শূণ্যের কোটায়। ক্রেতারা আসছেন, পশু পছন্দ করে দর-দাম করে বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। এর ফলে দুর দুরন্ত থেকে আসা ফরিয়া এবং পাইকাররা তাদের খচর পোশাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সেই সাথে টেনশনে পড়েছেন হাটের ইজারাদাররাও।
নগরীর রূপাতলী মোল্লা বাড়ি মাদ্রাসা সংলগ্ন পশুর হাট ও সিএন্ডবি রোড সেচ ভবনের সামনের হাট পরিদর্শনকালে দেখা যায়, দুটি হাটেই তুলনামুল গরু এবং ছাগলের সংখ্যা কম। এই দুটি হাটে বিগত বছরটিতে পশুর আমদানী ছিলো চোখে পড়ার মত। কিন্তু এবারের চিত্র ক্রেতাদেরও হতাশ করে তুলেছে।
হাট দুটি ইজারাদার কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদ উল আযহা। গত বছর এই সময়ে কম-বেশি ভালই পশু বেচা-বিক্রি হয়েছিলো। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি খুবই খারাপ দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা আসছে, আবার দর-দাম করে চলে যাচ্ছে। গত শুক্রবার ছুটির দিন থেকে হাটে ক্রেতাদের ভির বাড়তে থাকলেও বেচাকেনা বাড়ছে না। এজন্য হাটে পশু সল্পতার পাশাপাশি মূল্যের উর্ধ্বগতিকেই দায়ি করছেন তারা।
এদিকে কোরবানীর পশু কিনতে আসা নগরীর হযরত কালুশাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ডাক্তার মোস্তফা কামাল বলেন, গত শুক্রবার থেকে কোরবানী করার জন্য একটি গরু’র সন্ধান করে চলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিনতে পারিনি। প্রতিটি হাটেই যেন পশুর মূল্যের সিন্ডিকেট তৈরী করে রেখেছে। যেই গরুটিই পছন্দ হচ্ছে তার মূল্য হাকানো হচ্ছে ক্রয় সিমার বাইরে।
তিনি বলেন, গত বছর কুরবানীতে নগরীর বাঘিয়া গরুর হাট থেকে একটি মাঝারী আকারের গরু কিনেছিলাম। সেটির মূল্য ছিলো ৫৭ হাজার টাকা। এবার সেই গরুর মূল্য হাকা হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তাই এবার কোরবানীতে একক ভাবে গরু দিয়ে কোরবানী দেয়াটা সাধ ও সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নগরীর পোর্ট রোড কশাই খানা’র স্থায়ী গরুর হাটের বেপারী আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতি বছরই আমি ভোলা থেকে কোরবানীর গরু বিক্রির জন্য কশাইখানা ও রূপাতলীর হাটে আসি। গত বছর দুটি হাটে মোট ২০টি গরু এবং ১৫টি খাসি নিয়ে এসেছিলাম। শেষ পর্যন্ত ৯টি গরু ফিরিয়ে নিতে হয়েছিলো। তাই এবার গরু কমিয়ে এনেছি। ১৪টি গরু এবং ১০টি খাসি এনেছি। তবে বিক্রি ভালো হলে আরো আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখন যা দেখছি তাতে যে কয়টা গরু এবং ছাগল এনেছি তার অর্ধেকটাই ফিরিয়ে নিতে হবে মনে হচ্ছে। গত দু’দিনে ৩টি গরু এবং ১টি মাত্র ছাগল বিক্রি করতে পেরেছি।
নগরীর কালিজিরা অস্থায়ী পশুর হাটের বেপারী আকমল বলেন, আমরা ৫ জন ২৫টি গরু নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে বরিশালে এসেছে। সবাই বিভিন্ন হাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেচা-বিক্রি করছি। কিন্তু এবার পশুর বেচা-বিক্রি তেমন ভালো মনে হচ্ছে না। ক্রেতারা আসছে, মূল্য শুনে চলে যাচ্ছে। ক্রেতারা যে মূল্য বলছে তাতে গরু কিংবা ছাগল কোনটাই বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ক্রেতারা দাবী করছে, গরু এবং ছাগলের মূল্য বেশি। কিন্তু মূল্য তুলনামুলক বেশি নয় দাবী করে এই বেপারী বলেন, আমরা পাঁচ জন লোক এসেছি। প্রতিদিন তাদের খাওয়া-দাওয়া সহ অন্যান্য খরচ বহন, পরিবহন ভাড়া সহ অন্যান্য খচর মিলিয়ে অনেক টাকাই খরচ হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে এবার পশুর সংকটও রয়েছে। ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারায় গোড়া থেকে দেশী গুরুর দাম বাড়িয়ে ফেলেছে। যে কারনে আমরা খুচরা বিক্রেতাদেরও মূল্য বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে।
এদিকে হাটগুলোতে ঘুরে দেখাগেছে, নগরী কেন্দ্রীয় পশুর হাটে বেচা-বিক্রি কম হলেও বরিশালের বাইরের হাটগুলো বেশ ভালোই জমেছে। সেখানে পশুর আমদানী এবং ক্রেতাদের ভিরও বেশি। শহরের হাটগুলোর থেকে গ্রামের হাটে গরু-ছাগলের মূল্যের পার্থক্য রয়েছে। যে কারনে বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ সহ অন্যান্য উপজেলায় গ্রামের হাটগুলোর দিকে ছুটছেন শহরের ক্রেতারাও।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT