২১নং ওয়ার্ডে ইভিএম প্রশিক্ষণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ২১নং ওয়ার্ডে ইভিএম প্রশিক্ষণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ - ajkerparibartan.com
২১নং ওয়ার্ডে ইভিএম প্রশিক্ষণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

6:29 pm , July 22, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর জনপ্রিয়তা ক্রমশই বাড়ছে। ওইসব ওয়ার্ডে নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাররা ছুটছেন ইভিএম’র প্রশিক্ষণ নিতে। বিশেষ করে নগরীর ২১নং ওয়ার্ডে ইভিএম নিয়ে আগ্রহের যেন শেষ নেই ভোটারদের মধ্যে। নতুন ভোটার থেকে শুরু করে বয়বৃদ্ধা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিতে ছুটছেন ইভিএম ভোট কেন্দ্রে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়ে থেকে প্রতীকি ভোট দিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তারা। গতকাল রোববার ২১নং ওয়ার্ডের আওতাধীন তিনটি ভোট কেন্দ্রে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪টি ওয়ার্ডের মোট ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট গ্রহন করা হবে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২১নং ওয়ার্ডটি। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ১৬৪ জন। যার মধ্যে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬৬৬, সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডিডিএফ সিনিয়র ও হাফেজি মাদ্রাসা কেন্দ্রের নিচতলায় ২ হাজার ২৮৬ এবং দ্বিতীয় তলার কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২১৬ জন। গত তিন দিন ধরেই তিনটি কেন্দ্রে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টরা। প্রথম দিন ইভিএম নিয়ে ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে কৌতুহল থাকলেও তা কেটে গেছে গত দু’দিনে। এখন কোন কৌতুহল নয়, বরং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট দেয়ার উৎসব উপভোগ করছেন ২১নং ওয়ার্ডের সকল পর্যায়ের ভোটাররা।

রোববার বিকালে ২১নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ও সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডিডিএফ সিনিয়র ও হাফেজি মাদ্রাসার দুটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় প্রশিক্ষন কার্যক্রমের চিত্র। ভোটের প্রশিক্ষণ শুরুর পর পরই কেন্দ্র দুটিতে ভোটারদের ভির পড়ে যায়। মেশিনের সাহায্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে লাইনে দাড়িয়ে ছিলেন শতাধিক নারী ভোটার। যার মধ্যে বয়স্ক ভোটারের সংখ্যাই ছিলো বেশী। অধীর আগ্রহ নিয়ে তারা ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত হন।

বিশেষ করে সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডিডিএফ সিনিয়র ও হাফেজি মাদ্রাসার দুটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোটারদের ভির ছিলো চোখে পড়ার মত। মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে মাঠের অর্ধেকাংশই ছিলো ভোটারদের দখলে। হঠাৎ করে দেখলে যে কোন কেউ মনে করবেন বাস্তবিক কোন ভোট উৎসব চলছে। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইভিএম সম্পর্কে ভোটাদের হাতে ধরে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে হাপিয়ে ওঠেন ইভিএম এক্সপার্টরাও।

সরেজমিন পরিদর্শন কালে কথা হয় ২১নং ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে আসা বিভিন্ন বয়সী ভোটারদের সাথে। এর মধ্যে নগরীর গোরস্থান রোডের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ইভিএম শব্দটা শুনে অনেকটা আতকে উঠেছিলাম। সব সময় ছিল সিল পিটিয়ে ভোট দিয়েছি। এখন ওই মেশিন দিয়ে কিভাবে ভোট দিব তা নিয়ে অনেকটা ভয়ও কাজ করেছে মনের মধ্যে। কিন্তু প্রশিক্ষণ নিতে এসে দেখলাম এটি তেমন কঠিন কোন বিষয় নয়।

তিনি বলেন, মেশিনের উপরে প্রার্থীদের নাম, প্রতীক ও তার পাশেই কালো রং এর বাটন রয়েছে। যাকে ভোট দিব সেই প্রার্থীর নামের পাশে থাকা একটি বাটনে চাপ দিয়ে অপর পাশে থাকা নিল বাটনে চাপ দেয়া মাত্রই ভোট গ্রহন হয়ে যায়। খুব অল্প সময় লেগেছে তিনটি ভোট দিতে। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে এখানে ভোট কারচুপির সুযোগ নেই। আঙুলের ছাপ মিললে তবেই ভোট দিতে পারছেন ভোটাররা।

একই ওয়ার্ডের ভোটার, দিনমজুর রহমান ব্যাপারী বলেন, ‘ট্রেনিং দেতে ভোট কেন্দ্রে গেলল্যাম। অভিসাররা হাতে ধরইরা ভোট দেওয়া শিখাইছে। ভালোই হইছে পদ্ধতিডা। এহন মোর ভোট মুই ছাড়া আর কেউ দেতে পারবে না।’

এদিকে সরেজমিনে দেখাগেছে, ইভিএম ভোট প্রশিক্ষণকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রার্থীদের প্রচারনার একটি সহজ উপায় হয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো। প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোটারদের খুব সহজেই এক স্থানে পাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। যে কারনে লিফলেট হাতে গেটের সামনে দাড়িয়ে থেকেই প্রার্থীর কাছে ভোট চাইতে পারছেন তারা। তাছাড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা গেছে। ১২নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন ভুলু যে অনাকাংখিত ঘটনা ঘটিয়েছে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্যই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভোটারদের প্রশিক্ষনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টর বলেন, ২১নং ওয়ার্ডে প্রথম দিন ভোটারদের প্রশিক্ষনের বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তবুও অনেক ভোটারই এসেছিলো প্রশিক্ষণ নিতে। তবে তার পর থেকেই প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থেকে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এক সাথে ছয়টি মেশিনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কিন্তু ভোটারদের এতটাই ভির যে তাতেও সামাল দেয়া দুস্কর হয়ে পড়ছে।

বরিশাল জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. হেলাল উদ্দীন খান বলেন, ইতিপূর্বে ভোটার এবং প্রার্থীদের মধ্যে ইভিএম নিয়ে ভীতি ছিলো। কিন্তু এখন আর সেই ভীতি নেই। প্রতিদিন শত শত ভোটার স্বেচ্ছায় আসছেন ইভিএম’র মাধ্যমে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে। তাছাড়া ২১নং ওয়ার্ডে পূর্বে থেকেই ভোটারদের ইভিএম নিয়ে আগ্রহ ছিলো। যে কারনে শান্তিপূর্ব ভাবেই সেখানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মোট কথা ইভিএম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আমরা বেশ সাঁড়া পাচ্ছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT