সিটি ভোটের মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন পত্র বিক্রি শুরু ১৮ জুন সিটি ভোটের মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন পত্র বিক্রি শুরু ১৮ জুন - ajkerparibartan.com
সিটি ভোটের মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন পত্র বিক্রি শুরু ১৮ জুন

7:01 pm , June 13, 2018

রুবেল খান ॥ আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটির ভোট। প্রথমবারের মত শুধুমাত্র মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে এবার। সে লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যা চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ওই তারিখের মধ্যে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রার্থী চুড়ান্ত করতে বৈঠক করবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। আর তাই এরই মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন আওয়ামী লীগের অর্ধ ডজন নেতা। যাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ দিন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি শেষ সময় দলের মনোনয়ন নিজের অনুকুলে রাখতে যে যার মত করে তদবির লবিংও চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সুত্র জানায়, বরিশাল সহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হবে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ জুন। চারদিন রাজধানীর দলীয় কার্যালয় থেকে প্রতীকি মূল্যে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে পারবেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই বরিশাল সিটিতে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। যারা দলের মনোনয়ন নিশ্চিত হতে হাই কমান্ডে জোর লবিং-তদবির চালাচ্ছেন। অবশ্য বছর দু-এক আগেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করেছে মহানগর কমিটি। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে দলের একক প্রার্থী করার জন্য কেন্দ্রে আবেদন পাঠিয়েছেন মহানগর ও ৩০ ওয়ার্ডের তৃনমুল নেতৃবৃন্দ। আসন্ন নির্বাচনে সাদিক আবদুল্লাহই দল থেকে মনোনীত হবেন বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের মনোয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশাল একটি অংশ সাদিক আবদুল্লাহ’র পক্ষে রয়েছেন। এমনকি মনোনয়ন বোর্ডে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ সাদিক আবদুল্লাহকে মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে দলের নেতারা বলছেন, বরিশাল সিটিতে আ’লীগের মনোনয়নের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাই দিবেন। তার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে কে মনোনয়ন পাবেন আর কে পাবে না।

তৃনমুল নেতা-কর্মীরা বলছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন হিরন’র মৃত্যুর পরে নগরীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। শুধু টিকিয়েই রাখেন নি, বরং মহানগর আওয়ামী লীগকে আরো সাংগঠনিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে ঢেলে সাজানো হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগকে। অথচ আওয়ামী লীগের সংকটময় সেই মুহুর্তে বর্তমানে রাজপথে থাকা অনেক নেতাই হাত পা গুটিয়ে নেন। তারাই এখন নির্বাচন ভিত্তিক রাজনীতিতে হুংকার দিচ্ছে বলে অভিযোগ তৃনমুল নেতা-কর্মীদের।

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন আরো অনেকে। যাদের মধ্যে অনেকেই কৌশলগত কারণে নাম প্রকাশ করছেন না। তবে এরই মধ্যে যারা আলোচনায় উঠে এসেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্ণেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলুসহ আরো বেশ কয়েকজন। তাছাড়া বেশ কয়েকজন ছাত্র ও যুব নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন। এর বাইরে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল’র নামটিও শোনা যাচ্ছে। তবে তার নির্বাচনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়টি নির্ভর করবে দলের মনোনয়ন সংগ্রহের উপরে।

তবে দলের মধ্যে বর্তমানে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন কর্ণেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম ও মাহমুদুল হক খান মামুন। দলীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে প্রশাসনিক সমর্থন রয়েছে কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীমের। তাছাড়া নির্বাচনের পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বরিশাল সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিন তিনি। তবে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বিএনপি’র বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে পরাজিত হন তিনি। প্রশাসনিক সমর্থন ছাড়াও পূর্ব অভিজ্ঞতার কারনে মনোনিত হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

তাছাড়া দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতরা রয়েছে তার। অবশ্য বিগত নির্বাচনে মাহমুদুল হক খান মামুনকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবী অনেকের। তাছাড়া আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ক্ষমতার আমলে সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত মাহমুদুল হক খান মামুনকে এবারের সিটি নির্বাচনে মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।

তাছাড়া আলোচনায় থাকা অপর প্রার্থী কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু’র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে ভুলু’র বিকল্প অন্য কেউ নেই। তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানাগেছে।

তাছাড়া বরিশাল সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজও স্বপ্ন দেখছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে এবিষয়ে মুখ খুলছেন না। সে জন্য এরই মধ্যে স্বামীর অসমাপ্ত উন্নয়ন ও পরিকল্পনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দলের সভানেত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে তার এমন দাবীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের তৃনমুল নেতাকর্মী।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT