বাস মালিক সমিতির সম্পাদকের নেতৃত্বে ১১টি মাহেন্দ্র ভাংচুর ॥ প্রতিবাদে সাড়ে ৮ ঘন্টা ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন’র নেতৃত্বে মাহেন্দ্র শ্রমিকদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার উপস্থিতিতে ভাংচুর করা হয়েছে একটি স্কুল বাস সহ ১১টি মাহেন্দ্র। গতকাল সোমবার ভোর রাতে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে এবং রূপাতলী টেম্পু স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে মাহেন্দ্র ভাংচুরের খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মালিক এবং শ্রমিকরা। হামলার প্রতিবাদে তারা ভোর পাঁচটা থেকে অভ্যন্তরিন ৫টি রুটে মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ করে দেয়। একই সাথে নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবী জানান। এদিকে, হামলা এবং ভাংচুরের অভিযোগে মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাহী সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন সহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মাহেন্দ্র মালিক সমিতি। সংগঠনের লাইন সম্পাদক নাসির খান বাদী হয়ে বন্দর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা আলফা-মাহেন্দ্র ও থ্রী হুইলার মালিক সমিতির (নং-২০৯৮) সাধারন সম্পাদক শাহারিয়ার বাবু জানান, নিয়ম অনুযায়ী মহানগরী এলাকায় মাহেন্দ্র চলাচল করতে পারবে। কিন্তু বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির লোকজন তাতে বাঁধা দেয়। প্রায় সময় তারা অবৈধ চেক পোষ্টের নামে মাহেন্দ্র ভাংচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করছে। ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোর রাত ৪টার দিকে বরিশাল-ফ- ২০৪ নম্বরের একটি মাহেন্দ্র লঞ্চের যাত্রী নিয়ে দপদপিয়া শহীদ আব্দুর রব সেতু অতিক্রমকালে ঢালে চেক পোষ্টের নামে বাস মালিক সমিতির নির্বাহী সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন, ইদ্রিস শরীফ, সেন্টু ওরফে সেন্টু পুলিশ, গালকাটা কালাম ও আনোয়ার হেসেন সহ বেশ কয়েকজন গতিরোধ করে। এক পর্যায় তারা চালককে মারধর ও মাহেন্দ্রটি ভাংচুর করে। এতে কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পর পরই বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন এর নেতৃত্বে মালিক সমিতির একদল সন্ত্রাসী রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে এসে বরিশাল মেট্রো-ফ-১২৭, বরিশাল-ফ-৬৭৯ নম্বরের মাহেন্দ্র সহ আরো ১০টি মাহেন্দ্র ভাংচুর করে। ভাংচুর থেকে রক্ষা পায়নি একটি স্কুল বাসও।
এদিকে মাহেন্দ্র ভাংচুরের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি এর প্রতিবাদে ভোর ৫টার দিকে বরিশালের অভ্যন্তরিন ৫টি রুটে মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। রুটগুলো হলো- রূপাতলী হতে লঞ্চ ঘাট, সদর রোড ও নলছিটির আমিরাবাদ, নথুল¬াবাদ থেকে লঞ্চঘাট ও রূপাতলী এবং দপদপিয়া রুট। এছাড়া হামলার প্রতিবাদে নথুল¬াবাদ এলাকায় বিক্ষোভও করে শ্রমিকরা। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক শাহারিয়ার বাবু বলেন, বাস মালিক ও মাহেন্দ্র মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের নিস্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)। যে কারনে দুপুর দেড়টার দিকে সকল রুটে মাহেন্দ্র চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে হামলা এবং ভাংচুরের ঘটনায় বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাহী সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন সহ ৪ জন নামধারী এবং আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়েরের লক্ষে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মাহেন্দ্র মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক নাসির খান বাদী হয়ে বন্দর থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশেল উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) উত্তম কুমার পাল বলেন, বাস এবং মাহেন্দ্র মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দর সাথে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে মাহেন্দ্র চলাচল স্বাভাবিক রায়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।